পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিক শিশু-কিশোরদের জন্য নৈবেদ্য হিসেবে আনছেন নতুন অ্যাডভেঞ্চারধর্মী চলচ্চিত্র ‘গুপ্তধনের খোঁজে’। ‘ইতি চিত্রা’ ও ‘বিশ্বাস করেন ভাই’-এর মতো সফল কাজের পর এবার তিনি রহস্য আর রোমাঞ্চের মিশেলে ছোটদের উপযোগী সেই গল্পটি নিয়ে কাজ করেছেন। পেন্টাগন ফিল্মস-এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবিটির প্রধান প্রযোজক ও গল্পকার হলেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেতা অন্তু করিম। চলচ্চিত্রটি মূলত শিশুদের কল্পনাশক্তি জাগানো এবং অজানাকে জানার আগ্রহকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রের কাহিনি এক রহস্যময় গুপ্তধনের সন্ধানকে ঘিরে আবর্তিত। ইতিহাসের ভিন্ন সূত্র খুঁজে পেয়ে একদল সাহসী কিশোর-কিশোরী নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বিপদজনক কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ অভিযানে নামছে। সিনেমায় দেখা যাবে রহস্যময় মানচিত্র উদ্ধার, হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস উন্মোচন এবং কঠিন পরিবেশকে জয় করে সত্যের সন্ধানে এগিয়ে চলার মর্যাদাপূর্ণ প্রথম হাতের অনুভূতি। চিত্রনাট্য রচনায় পরিচালক অনিকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন নিজাম ইউ খান ও রাসিদুর রহমান, যা গল্পের গভীরতা ও নাটকীয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
চলচ্চিত্রটিতে বহু প্রতিভাবান শিশু ও কিশোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা যাবে ওমর তন্ময় ফিয়ান, সৌহার্দ্য চৌধুরী, জায়ান মুহাম্মদ রুয়াইফি, তাহানি শামস নাওমি ও ইরফান রহমানকে। এছাড়া নুসরাত আফরিন ইয়ুমনা, মনিরুল ইসলাম ও রুহনাজ নাওয়ার কাশফিসহ আরও অনেকে সাবলীল অভিনয়ে ছবিটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। নির্মাণ টিম মনে করেন নতুন প্রজন্মের এই শিল্পীদের স্বাভাবিকতা, দক্ষতা এবং একে অন্যের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন দর্শকদের জন্য আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হবে।
পরিচালক রাইসুল ইসলাম অনিক বলেন, দেশে শিশুতোষ উচ্চমানের অ্যাডভেঞ্চার চলচ্চিত্রের সামগ্রিক অভাব রয়েছে; সেই শূন্যতা পূরণ করতেই তিনি সাহসিকতা, বন্ধুত্ব ও নৈতিক মূল্যবোধকে উপজীব্য করে এই প্রকল্পটিকে আঙ্গিকে নিয়েছেন। প্রযোজক অন্তু করিম আরও জানান, বাংলাভাষায় এমন অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি শিশুদের মেধা বিকাশে এবং ইতিহাস অন্বেষণের আগ্রহ জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এমএস মাল্টিমিডিয়া সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত থেকে প্রকল্পটিকে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে।
চিত্রনাট্য, অভিনয় ও ভিজ্যুয়াল ভাষার এক ঝলক তুলে ধরতে চলচ্চিত্রের টিজার ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা ব্যাপক কৌতূহল ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। টিজারে দেখা যায় ছবির রহস্যময় আবহ, অ্যাকশন ও বন্ধুত্বের উষ্ণতা—যা অনেক দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বর্তমানে কারিগরি কাজ ও পোস্ট-প্রোডাকশন প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে; খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির তারিখ জানানো হবে।
শুভসংকেত হিসেবে বলা যায়, ‘গুপ্তধনের খোঁজে’ বাংলা শিশুতোষ চলচ্চিত্রে নতুন এক ধারার সূচনা করবে বলে উজ্জীবিত নির্মাণকর্মীরা আশা করছেন—একটি গল্প যা কিশোরদের কল্পনা ও সাহসকে জাগিয়ে তুলবে, ইতিহাসের প্রতি তাদের কৌতূহলকে উৎসাহ দেবে এবং বিনোদনের সঙ্গে শিক্ষাও দেবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























