১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চার অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া—নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত কোটি কর্মসংস্থান গড়তে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ তথ্যমন্ত্রী স্বপন: তথ্যপ্রযুক্তির যুগে রাষ্ট্র আর গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না টিকাদান সত্ত্বেও হামজনিত শিশুমৃত্যু থামছে না মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন ইরান যুদ্ধের ছায়া: বৈশ্বিক সংকটে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ চাপে গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিতে অনেক সমস্যা আছড়ে পড়বে: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফর করবেন ইপিআই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাবতলী হাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী: সড়কে কোনো চাঁদাবাজি হবে না

সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’ — অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার

রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয়ের পর আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে নাম লেখালেন রেজওয়ান শাহ্রিয়ার সুমিতের চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। ছবিটি অস্ট্রেলিয়ার ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘ফিচার্স’ বিভাগে স্থান পেয়ে অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার করবে। এই বিভাগের নির্বাচনগুলো সাধারণত বিশ্বজুড়ে সারাবছরের বক্তচিত ও শৈল্পিকভাবে উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো থেকে করা হয়; সেখানে বাংলাদেশের এই পলিটিক্যাল থ্রিলারের স্থান পাওয়াটা স্বতন্ত্র এক সম্মান।

উৎসবের প্রোগ্রাম টিম ছবিটি প্রসঙ্গে তাদের অফিসিয়াল রিভিউয়েই ভূয়সী প্রশংসা জানিয়েছে: “রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের দ্বিতীয় এই সিনেমাটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে নির্মিত। এর উজ্জ্বল কালার প্যালেট গল্পের ভেতরের অন্ধকার দিকগুলোকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলে। নাসির উদ্দিন খান এবং আজমেরী হক বাঁধনের অনবদ্য অভিনয় সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।”

১২৬ মিনিটের ‘মাস্টার’-এর কেন্দ্রীয় কাহিনি আবর্তিত হয়েছে জহির নামকার এক শিক্ষককে ঘিরে, যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ক্ষমতাভোগ ও দফতরকাজে ঢুকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আদর্শ ও দুর্নীতির মধ্যে সংঘাত শুরু হয়—আর সেই পরিবর্তন ও দ্বন্দ্বই সিনেমাটির মূল আন্দোলন।

কারিগরি দলও আন্তর্জাতিক মানের। ছবিটির সম্পাদনা করেছেন অস্কার মনোনীত ছবির সম্পাদক ক্রিস্টান স্প্রাগ, সংগীতের দায়িত্বে রয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত তাইওয়ানিজ সুরকার হাও টিং শি, আর পোস্ট-প্রোডাকশন হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও বুসানের আধুনিক স্টুডিওতে।

নাসির উদ্দিন খান ও আজমেরী হক বাঁধন ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, তাসনোভা তামান্নাসহ অন্যান্য পরিচিত মুখরা। জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদানপ্রাপ্ত এই প্রযোজনা পরিচালনা করেছে ‘মাইপিক্সেলস্টোরি’।

এ বছর সিডনির ‘ফিচার্স’ বিভাগে ‘মাস্টার’-র পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে বার্লিনালে ও সানড্যান্স জয়ী ‘ফিলিপিনানা’। প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগে দেখা যাবে আসগর ফারহাদি ও ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউর মতো কিংবদন্তি নির্মাতাদের কান-ফেরত চলচ্চিত্রসমূহ। উৎসবের এই ব্যপ্তি আর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ছবিগুলোও আগের মতোই আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্ব পাচ্ছে; এর উদাহরণ গতবছর ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ও ‘অন্যদিন’-এর সিডনিতে প্রর্দশনের গৌরব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কোটি কর্মসংস্থান গড়তে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ

সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের ‘মাস্টার’ — অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জয়ের পর আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে নাম লেখালেন রেজওয়ান শাহ্রিয়ার সুমিতের চলচ্চিত্র ‘মাস্টার’। ছবিটি অস্ট্রেলিয়ার ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ‘ফিচার্স’ বিভাগে স্থান পেয়ে অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার করবে। এই বিভাগের নির্বাচনগুলো সাধারণত বিশ্বজুড়ে সারাবছরের বক্তচিত ও শৈল্পিকভাবে উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো থেকে করা হয়; সেখানে বাংলাদেশের এই পলিটিক্যাল থ্রিলারের স্থান পাওয়াটা স্বতন্ত্র এক সম্মান।

উৎসবের প্রোগ্রাম টিম ছবিটি প্রসঙ্গে তাদের অফিসিয়াল রিভিউয়েই ভূয়সী প্রশংসা জানিয়েছে: “রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের দ্বিতীয় এই সিনেমাটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে নির্মিত। এর উজ্জ্বল কালার প্যালেট গল্পের ভেতরের অন্ধকার দিকগুলোকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলে। নাসির উদ্দিন খান এবং আজমেরী হক বাঁধনের অনবদ্য অভিনয় সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।”

১২৬ মিনিটের ‘মাস্টার’-এর কেন্দ্রীয় কাহিনি আবর্তিত হয়েছে জহির নামকার এক শিক্ষককে ঘিরে, যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ক্ষমতাভোগ ও দফতরকাজে ঢুকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আদর্শ ও দুর্নীতির মধ্যে সংঘাত শুরু হয়—আর সেই পরিবর্তন ও দ্বন্দ্বই সিনেমাটির মূল আন্দোলন।

কারিগরি দলও আন্তর্জাতিক মানের। ছবিটির সম্পাদনা করেছেন অস্কার মনোনীত ছবির সম্পাদক ক্রিস্টান স্প্রাগ, সংগীতের দায়িত্বে রয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত তাইওয়ানিজ সুরকার হাও টিং শি, আর পোস্ট-প্রোডাকশন হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও বুসানের আধুনিক স্টুডিওতে।

নাসির উদ্দিন খান ও আজমেরী হক বাঁধন ছাড়াও ছবিতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, তাসনোভা তামান্নাসহ অন্যান্য পরিচিত মুখরা। জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদানপ্রাপ্ত এই প্রযোজনা পরিচালনা করেছে ‘মাইপিক্সেলস্টোরি’।

এ বছর সিডনির ‘ফিচার্স’ বিভাগে ‘মাস্টার’-র পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে বার্লিনালে ও সানড্যান্স জয়ী ‘ফিলিপিনানা’। প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগে দেখা যাবে আসগর ফারহাদি ও ক্রিস্টিয়ান মুঞ্জিউর মতো কিংবদন্তি নির্মাতাদের কান-ফেরত চলচ্চিত্রসমূহ। উৎসবের এই ব্যপ্তি আর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ছবিগুলোও আগের মতোই আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্ব পাচ্ছে; এর উদাহরণ গতবছর ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ও ‘অন্যদিন’-এর সিডনিতে প্রর্দশনের গৌরব।