০৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এক মাসে ৭০০%: বিশ্ববাজারে আলুর রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি

বিশ্ববাজারে আলুর মূল্যগত অবস্থায় এক অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন উত্থান দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় অঞ্চলে উৎপাদন ও মজুদ প্রচুর থাকা সত্ত্বেও এক মাসেরও কম সময়ে আলুর ফিউচার বা আগাম চুক্তির দাম প্রায় ৭০০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে বলে ইউরো নিউজ জানিয়েছে।

বাজার তথ্য বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে, গত ২১ এপ্রিল আলুর বেঞ্চমার্ক চুক্তির মূল্য যেখানে প্রতি ১০০ কেজিতে মাত্র ২ ইউরো ১১ সেন্ট ছিল, তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১৮ ইউরো ৫০ সেন্টে পৌঁছিয়েছে — যা প্রায় ৭০৫ শতাংশের বৃদ্ধির সমতূল্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধাক্কা বাস্তব চাহিদার বদলে আর্থিক বাজারে আগাম চুক্তি ও জল্পনার কারণেই ঘটেছে।

আশ্চর্য হলেও বাস্তব বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশে বাম্পার আলু ফলন হওয়ায় চাষিরা অবিক্রিত মজুদ সরাতে কষ্ট করছে। তবুও বাজারের অস্থিরতা এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এসে উচ্চ দামে আগাম চুক্তি কিনছেন, যা দামকে আরও চাপ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষিতে সার ও জ্বালানির সরবরাহঝুঁকির উদ্বেগ। আলু চাষে নির্ভরশীল সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হলে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে ধারনা তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বৈশ্বিক কৃষি খনিজ ও সার সরবরাহের বড় অংশ হার্মুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যায়। ওই নৌপথ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকায় বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তা কাটাতে আগে থেকেই চড়া দামে আগাম চুক্তি কড়বে বলে মনে করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে পাইকারি ও ফিউচার বাজারে এই অস্থিরতা থাকার সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কেবল দীর্ঘমেয়াদে সার ও জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বেড়ে খাদ্য মূল্যেও ধাক্কা লাগতে পারে এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

মোটকথা, এখনকার দামের উত্থান মূলত ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও আর্থিক কল্পনার ফল; বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবু বাধাগ্রস্থ সরবরাহ চেইন ও জ্বালানি-সারের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি কৃষি খাত ও ভোক্তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে—এ জন্য নজরদারি ও প্রস্তুতির প্রয়োজন থাকছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

এক মাসে ৭০০%: বিশ্ববাজারে আলুর রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে আলুর মূল্যগত অবস্থায় এক অস্বাভাবিক ও নজিরবিহীন উত্থান দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় অঞ্চলে উৎপাদন ও মজুদ প্রচুর থাকা সত্ত্বেও এক মাসেরও কম সময়ে আলুর ফিউচার বা আগাম চুক্তির দাম প্রায় ৭০০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে বলে ইউরো নিউজ জানিয়েছে।

বাজার তথ্য বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে, গত ২১ এপ্রিল আলুর বেঞ্চমার্ক চুক্তির মূল্য যেখানে প্রতি ১০০ কেজিতে মাত্র ২ ইউরো ১১ সেন্ট ছিল, তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১৮ ইউরো ৫০ সেন্টে পৌঁছিয়েছে — যা প্রায় ৭০৫ শতাংশের বৃদ্ধির সমতূল্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধাক্কা বাস্তব চাহিদার বদলে আর্থিক বাজারে আগাম চুক্তি ও জল্পনার কারণেই ঘটেছে।

আশ্চর্য হলেও বাস্তব বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশে বাম্পার আলু ফলন হওয়ায় চাষিরা অবিক্রিত মজুদ সরাতে কষ্ট করছে। তবুও বাজারের অস্থিরতা এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে এসে উচ্চ দামে আগাম চুক্তি কিনছেন, যা দামকে আরও চাপ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষিতে সার ও জ্বালানির সরবরাহঝুঁকির উদ্বেগ। আলু চাষে নির্ভরশীল সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হলে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে ধারনা তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বৈশ্বিক কৃষি খনিজ ও সার সরবরাহের বড় অংশ হার্মুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে যায়। ওই নৌপথ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকায় বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তা কাটাতে আগে থেকেই চড়া দামে আগাম চুক্তি কড়বে বলে মনে করছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে পাইকারি ও ফিউচার বাজারে এই অস্থিরতা থাকার সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কেবল দীর্ঘমেয়াদে সার ও জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বেড়ে খাদ্য মূল্যেও ধাক্কা লাগতে পারে এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

মোটকথা, এখনকার দামের উত্থান মূলত ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও আর্থিক কল্পনার ফল; বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবু বাধাগ্রস্থ সরবরাহ চেইন ও জ্বালানি-সারের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি কৃষি খাত ও ভোক্তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে—এ জন্য নজরদারি ও প্রস্তুতির প্রয়োজন থাকছে।