১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অক্সিজেন মাস্ক খুলে মারা গেলো ৭ মাসের শিশু মিনহাজ; দালাল আটক একনেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন পানিসমপদ প্রতিমন্ত্রী: প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও ঢাবি ক্যাম্পাসে হেঁটেই এসেছিলেন স্পিকার: আন্দোলনকারীদের হত্যা ও পরে হাসিনার কান্নার নাটক ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় সরকার শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক ও বাস্তবমুখী করছে: প্রধানমন্ত্রী পলকের ঘাড় ও কোমরের হাড় সরে গেছে: দাবি আইনজীবীর ভেজাল প্রসাধনী ছড়াচ্ছে বাজারে, ত্বক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি নাম ও পদ নিশ্চিত করা প্রয়োজন — ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’ সম্পর্কে নির্দেশ দিন ধুঁকে চলা কারখানা বাঁচাতে সরকার দেবে প্রণোদনা গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪১৫

নাহিদ রানার ফাইফার: মিরপুরে বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে প্রথম টেস্টে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীরা ২৬৮ রানের লক্ষ্যে নেমে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হয়; এই জয়ে টাইগাররা সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের রানের চাবিকাঠি ভেঙে দেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। মাত্র ৪০ রান খরচায় তিনি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফাইফার করেন, একাই ৫ উইকেট নেন। নাহিদ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন এবং অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও একটি উইকেট যোগ করেন, ফলে পাকিস্তানের ব্যাটিং সম্ভলনাহীন হয়ে পড়ে।

শেষ দিনের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ওপেনার ইমাম-উল হককে মাত্র ২ রানে আউট করে শুভসূচনা দেন। এরপর দলীয় ৬৮ রানে ৩ উইকেটে পড়ে পাকিস্তান যখন বিপর্যয়ে, তখন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু তাইজুলের এলবিডব্লিউতে ফজলের বিদায় ওই জুটিকে ভাঙিয়ে দেয় এবং পরের ওভারেই শুরু হয় নাহিদ রানার তাণ্ডব।

নিয়মিত বিরতিতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিলের মতো থিতু হওয়া ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভাঙিয়ে দেন নাহিদ। শেষদিকে দ্রুতই পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করে এবং ইনিংস ১৬৩ রানে শেষ হয়।

টেস্টের প্রথম দিনগুলো থেকেই বাংলাদেশ আধিপত্য দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া হাফশতকে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ করে। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৩৮৬ করে, ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে শান্ত (৮৭) এবং মুমিনুল (৫৬) নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে, ফলে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

এই জয়ে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশের ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং ওই সময়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১টি পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়ের পরে মিরপুরে এই জয়টি বাংলাদেশের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় হিসেবে নতুন এক মাইলফলক গড়ল।

আগামী ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে; এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ খেলার পরিকল্পনা করবে এবং সিরিজ জেতাই দেশের প্রধান লক্ষ্য থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

একনেকে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন

নাহিদ রানার ফাইফার: মিরপুরে বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী

প্রকাশিতঃ ০২:২২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে প্রথম টেস্টে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীরা ২৬৮ রানের লক্ষ্যে নেমে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হয়; এই জয়ে টাইগাররা সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের রানের চাবিকাঠি ভেঙে দেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। মাত্র ৪০ রান খরচায় তিনি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফাইফার করেন, একাই ৫ উইকেট নেন। নাহিদ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন এবং অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও একটি উইকেট যোগ করেন, ফলে পাকিস্তানের ব্যাটিং সম্ভলনাহীন হয়ে পড়ে।

শেষ দিনের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ওপেনার ইমাম-উল হককে মাত্র ২ রানে আউট করে শুভসূচনা দেন। এরপর দলীয় ৬৮ রানে ৩ উইকেটে পড়ে পাকিস্তান যখন বিপর্যয়ে, তখন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু তাইজুলের এলবিডব্লিউতে ফজলের বিদায় ওই জুটিকে ভাঙিয়ে দেয় এবং পরের ওভারেই শুরু হয় নাহিদ রানার তাণ্ডব।

নিয়মিত বিরতিতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিলের মতো থিতু হওয়া ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভাঙিয়ে দেন নাহিদ। শেষদিকে দ্রুতই পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করে এবং ইনিংস ১৬৩ রানে শেষ হয়।

টেস্টের প্রথম দিনগুলো থেকেই বাংলাদেশ আধিপত্য দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া হাফশতকে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ করে। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৩৮৬ করে, ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে শান্ত (৮৭) এবং মুমিনুল (৫৬) নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে, ফলে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

এই জয়ে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশের ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং ওই সময়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১টি পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়ের পরে মিরপুরে এই জয়টি বাংলাদেশের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় হিসেবে নতুন এক মাইলফলক গড়ল।

আগামী ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে; এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ খেলার পরিকল্পনা করবে এবং সিরিজ জেতাই দেশের প্রধান লক্ষ্য থাকবে।