০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নাহিদ রানার ফাইফার: মিরপুরে বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে প্রথম টেস্টে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীরা ২৬৮ রানের লক্ষ্যে নেমে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হয়; এই জয়ে টাইগাররা সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের রানের চাবিকাঠি ভেঙে দেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। মাত্র ৪০ রান খরচায় তিনি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফাইফার করেন, একাই ৫ উইকেট নেন। নাহিদ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন এবং অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও একটি উইকেট যোগ করেন, ফলে পাকিস্তানের ব্যাটিং সম্ভলনাহীন হয়ে পড়ে।

শেষ দিনের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ওপেনার ইমাম-উল হককে মাত্র ২ রানে আউট করে শুভসূচনা দেন। এরপর দলীয় ৬৮ রানে ৩ উইকেটে পড়ে পাকিস্তান যখন বিপর্যয়ে, তখন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু তাইজুলের এলবিডব্লিউতে ফজলের বিদায় ওই জুটিকে ভাঙিয়ে দেয় এবং পরের ওভারেই শুরু হয় নাহিদ রানার তাণ্ডব।

নিয়মিত বিরতিতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিলের মতো থিতু হওয়া ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভাঙিয়ে দেন নাহিদ। শেষদিকে দ্রুতই পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করে এবং ইনিংস ১৬৩ রানে শেষ হয়।

টেস্টের প্রথম দিনগুলো থেকেই বাংলাদেশ আধিপত্য দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া হাফশতকে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ করে। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৩৮৬ করে, ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে শান্ত (৮৭) এবং মুমিনুল (৫৬) নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে, ফলে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

এই জয়ে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশের ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং ওই সময়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১টি পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়ের পরে মিরপুরে এই জয়টি বাংলাদেশের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় হিসেবে নতুন এক মাইলফলক গড়ল।

আগামী ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে; এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ খেলার পরিকল্পনা করবে এবং সিরিজ জেতাই দেশের প্রধান লক্ষ্য থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নাহিদ রানার ফাইফার: মিরপুরে বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী

প্রকাশিতঃ ০২:২২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে প্রথম টেস্টে দারুণ শুরু করল বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীরা ২৬৮ রানের লক্ষ্যে নেমে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হয়; এই জয়ে টাইগাররা সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের রানের চাবিকাঠি ভেঙে দেন তরুণ ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। মাত্র ৪০ রান খরচায় তিনি ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফাইফার করেন, একাই ৫ উইকেট নেন। নাহিদ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন এবং অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজও একটি উইকেট যোগ করেন, ফলে পাকিস্তানের ব্যাটিং সম্ভলনাহীন হয়ে পড়ে।

শেষ দিনের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ওপেনার ইমাম-উল হককে মাত্র ২ রানে আউট করে শুভসূচনা দেন। এরপর দলীয় ৬৮ রানে ৩ উইকেটে পড়ে পাকিস্তান যখন বিপর্যয়ে, তখন আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা মিলে ৫১ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু তাইজুলের এলবিডব্লিউতে ফজলের বিদায় ওই জুটিকে ভাঙিয়ে দেয় এবং পরের ওভারেই শুরু হয় নাহিদ রানার তাণ্ডব।

নিয়মিত বিরতিতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিলের মতো থিতু হওয়া ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভাঙিয়ে দেন নাহিদ। শেষদিকে দ্রুতই পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করে এবং ইনিংস ১৬৩ রানে শেষ হয়।

টেস্টের প্রথম দিনগুলো থেকেই বাংলাদেশ আধিপত্য দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তের সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া হাফশতকে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ করে। জবাবে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ৩৮৬ করে, ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে শান্ত (৮৭) এবং মুমিনুল (৫৬) নেতৃত্বে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে, ফলে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

এই জয়ে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টেস্ট জয় পেতে বাংলাদেশের ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং ওই সময়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১টি পরাজয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয়ের পরে মিরপুরে এই জয়টি বাংলাদেশের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় টেস্ট জয় হিসেবে নতুন এক মাইলফলক গড়ল।

আগামী ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে; এই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশ খেলার পরিকল্পনা করবে এবং সিরিজ জেতাই দেশের প্রধান লক্ষ্য থাকবে।