রাশিয়ার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত ২১ জন নিহত এবং আরও ৪৫ জন আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সংঘটিত এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
হামলার সময় রাজধানী জুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাস্বর শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ ও আলোর ঝলকানি দেখা যায়। স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় মেট্রোর স্টেশনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, রাশিয়া কিয়েভকে লক্ষ্য করে ৬৭৫টি ড্রোন এবং ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের মধ্যে ৬৫২টি ড্রোন ও ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে সক্ষম হয়।
কিয়েভের বাসিন্দা আন্দ্রিই এক ধসে পড়া ভবনের পাশেই দাঁড়িয়ে বলেন, ‘চারপাশে সবকিছু আগুনে পুড়ছিল। মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়াচ্ছিল।’ তাঁর শার্টে রক্তের দাগ দেখা গেছে।
উত্তরোত্তর ভ্রমণের মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাজধানীতে কমপক্ষে ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, একটি ভেটেরিনারি ক্লিনিক এবং অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো রয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে এক আবাসিক ভবন প্রথম তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত ধসে পড়েছে এবং সেখানে এখনও উদ্ধারকার্য চলছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ শুক্রবার ভোরে জানিয়েছে, হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন; এর আগে নিহতের সংখ্যা ১৬ জানানো হয়েছিল। পুলিশ ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে — তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একজন কিশোরী। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৫ জন। জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করেছেন, মস্কোর অব্যাহত আগ্রাসন থামবার যে সামান্য আশা ছিল, এই হামলার ফলে তা আরও ক্ষীণ হয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























