০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই ভাইকে নিয়ে কুরাসাওয়ের ইতিহাসবাহী বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও ফুটবল বিশ্বে এক অনন্য অধ্যায়ের ঠিক আগে — সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে তারা প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা পেয়েছে। এ বিশাল মাইলফলককে সামনে রেখে কুরাসাও গত সোমবার তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

গ্রুপ ‘ই’-তে কুরাসাওকে জার্মানি, ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়তে হবে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশ বড়, দেশটি আত্মবিশ্বাসী: তারা শুধু অংশগ্রহণ নয়, মাঠে চমক দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েই দিকে বাড়ছে।

ডাগআউটে থাকবেন ডাচ ট্যাকটিশিয়ান ডিক অ্যাডভোকাট। গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপে নেওয়ার কাজ শেষ করে তিনি পদত্যাগ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা দলের জন্য অভিজ্ঞতার বড় সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর পরিচালনায় স্কোয়াডে বেশিরভাগই সেই খেলোয়াড়রা পেয়েছেন সুযোগ, যারা বাছাইপর্বে দারুণ ভূমিকা রেখেছিল। অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কায়েম করাই অ্যাডভোকাটের লক্ষ্য।

ঘোষিত দলে সবচেয়ে আলোচিত নাম দুই ভাই—লিয়েন্দ্রো বাকুনা ও জুনিনহো বাকুনা। লিয়েন্দ্রোকে দলীয় অধিনায়ক করা হয়েছে; তিনি মিডফিল্ড কন্ডাক্ট করবে এবং দলের নেতৃত্ব দেবেন। অন্যদিকে বাছাইপর্বে তিন গোল করে দলে নিজেকে প্রমাণ করা জুনিনহো মধ্যমাঠে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দলকে শক্তিশালী করবেন।

রক্ষণভাগে কোচ আস্থা রেখেছেন জুরিয়েন গারি ও রোশন ভ্যান ইজমার দিকে। গোলপোস্ট রক্ষার দায়িত্বে থাকা অভিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক এলোয় রুম দলের পেছনের সারিতে নির্ভরতার প্রতীক হবে।

আক্রমণে কুরাসাওয়ের দৌরাত্ম্য প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাছাইপর্বে চমক দেখানো জারভেনে কাস্তানির ও কেনজি গোরিকে দিল্লীর মতো উজ্জ্বল গোলভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আক্রমণে যোগ দেবেন অভিজ্ঞ জুর্গেন লোকাডিয়া এবং জের্ল মারগারিথা। তরুণ তুখোড় ফরোয়ার্ড তাহিথ চং ম্যাচের গতিপথ বদলাতে দ্রুতগতিতে খেলার ক্ষমতা রাখেন—এমন টাইপের খেলোয়াড় বিশ্বকাপের মঞ্চে বিপক্ষের রক্ষণভাগকে অশান্ত করতে পারে।

দলে আরও জায়গা পেয়েছেন গোলরক্ষক টাইরিক বোডাক ও ট্রেভর ডোর্নবুশ। রক্ষণভাগে রিশেডলি বাজোয়ার, জশুয়া ব্রেনেট ও আরমান্ডো ওবিস্পোরা দক্ষতা দেখাবেন। সামগ্রিকভাবে এই ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে তরুণ শক্তি ও অভিজ্ঞতার সুন্দর সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়।

প্রতিপক্ষদের কড়া চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় কুরাসাওর লক্ষ্য রেফারেন্স বা বড় কী ফল পাওয়া নয়—বরং নিজেদের সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রমাণ করে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে স্থায়ী ছাপ রাখা। এখন বাকিটা মাঠেই দেখতে হবে: এই ছোট রাষ্ট্রের বড় স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সরকার এগোচ্ছে, জুনে পরামর্শক কমিটি

দুই ভাইকে নিয়ে কুরাসাওয়ের ইতিহাসবাহী বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও ফুটবল বিশ্বে এক অনন্য অধ্যায়ের ঠিক আগে — সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে তারা প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা পেয়েছে। এ বিশাল মাইলফলককে সামনে রেখে কুরাসাও গত সোমবার তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

গ্রুপ ‘ই’-তে কুরাসাওকে জার্মানি, ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়তে হবে। যদিও প্রতিদ্বন্দ্বীরা বেশ বড়, দেশটি আত্মবিশ্বাসী: তারা শুধু অংশগ্রহণ নয়, মাঠে চমক দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েই দিকে বাড়ছে।

ডাগআউটে থাকবেন ডাচ ট্যাকটিশিয়ান ডিক অ্যাডভোকাট। গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপে নেওয়ার কাজ শেষ করে তিনি পদত্যাগ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা দলের জন্য অভিজ্ঞতার বড় সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর পরিচালনায় স্কোয়াডে বেশিরভাগই সেই খেলোয়াড়রা পেয়েছেন সুযোগ, যারা বাছাইপর্বে দারুণ ভূমিকা রেখেছিল। অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কায়েম করাই অ্যাডভোকাটের লক্ষ্য।

ঘোষিত দলে সবচেয়ে আলোচিত নাম দুই ভাই—লিয়েন্দ্রো বাকুনা ও জুনিনহো বাকুনা। লিয়েন্দ্রোকে দলীয় অধিনায়ক করা হয়েছে; তিনি মিডফিল্ড কন্ডাক্ট করবে এবং দলের নেতৃত্ব দেবেন। অন্যদিকে বাছাইপর্বে তিন গোল করে দলে নিজেকে প্রমাণ করা জুনিনহো মধ্যমাঠে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দলকে শক্তিশালী করবেন।

রক্ষণভাগে কোচ আস্থা রেখেছেন জুরিয়েন গারি ও রোশন ভ্যান ইজমার দিকে। গোলপোস্ট রক্ষার দায়িত্বে থাকা অভিজ্ঞ এবং নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক এলোয় রুম দলের পেছনের সারিতে নির্ভরতার প্রতীক হবে।

আক্রমণে কুরাসাওয়ের দৌরাত্ম্য প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাছাইপর্বে চমক দেখানো জারভেনে কাস্তানির ও কেনজি গোরিকে দিল্লীর মতো উজ্জ্বল গোলভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আক্রমণে যোগ দেবেন অভিজ্ঞ জুর্গেন লোকাডিয়া এবং জের্ল মারগারিথা। তরুণ তুখোড় ফরোয়ার্ড তাহিথ চং ম্যাচের গতিপথ বদলাতে দ্রুতগতিতে খেলার ক্ষমতা রাখেন—এমন টাইপের খেলোয়াড় বিশ্বকাপের মঞ্চে বিপক্ষের রক্ষণভাগকে অশান্ত করতে পারে।

দলে আরও জায়গা পেয়েছেন গোলরক্ষক টাইরিক বোডাক ও ট্রেভর ডোর্নবুশ। রক্ষণভাগে রিশেডলি বাজোয়ার, জশুয়া ব্রেনেট ও আরমান্ডো ওবিস্পোরা দক্ষতা দেখাবেন। সামগ্রিকভাবে এই ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে তরুণ শক্তি ও অভিজ্ঞতার সুন্দর সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়।

প্রতিপক্ষদের কড়া চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় কুরাসাওর লক্ষ্য রেফারেন্স বা বড় কী ফল পাওয়া নয়—বরং নিজেদের সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রমাণ করে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে স্থায়ী ছাপ রাখা। এখন বাকিটা মাঠেই দেখতে হবে: এই ছোট রাষ্ট্রের বড় স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে।