০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন জনতুষ্টি নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী হামের তাণ্ডবের মাঝে ডেঙ্গু নিয়েও সতর্কতা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ আর নেই বৈশ্বিক চাপের কারণে বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী শারীরিক অসুস্থতা জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ

এনসিপির দুই নেতার নামে ২৫ কোটি বরাদ্দ, অন্য উপজেলায় মাত্র ১০–২৬ লাখ: জেলা প্রশাসকের অভিযোগ

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর জন্য জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রকল্প দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনাকে তিনি চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং দুই নেতাকে যদি তারা সত্যিই এসব টাকা না নিয়ে থাকেন তবে তা প্রকাশ্যে অস্বীকার করার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

রোববার (৩১ মে) একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে মো. মোস্তাক মিয়া তার দাবির পক্ষে বরাদ্দের খতিয়ানের সুস্পষ্ট তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলায় ১৫ কোটি এবং দেবীদ্বার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সময়ে জেলার অন্যান্য বেশ কিছু উপজেলায় বরাদ্দ পড়েছে মাত্র ১০ থেকে ২৬ লাখ টাকার ঝাঁজে।

প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এই অনানুভুতি ও অসম সমবণ্টনকে এনসিপির ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে এমন নতুন ধরনের অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মহলে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে বিবেচিত।

তবে সাক্ষাৎকারের শেষভাগে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে টাকা আত্মসাৎ করার সরাসরি অভিযোগ করছেন না। বরং তাঁর দাবি, প্রকল্পের আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট দুই এলাকায় মেগা বরাদ্দ দেয়ার ফলে তিতাস, মনোহরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি এটাকেই মূলত পদ্ধতিগত বৈষম্য হিসেবে জনগণের সামনে উত্থাপন করেছেন।

প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনানুষ্ঠানিক বরাদ্দ প্রক্রিয়া ও তার পরিণতি নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। মো. মোস্তাক মিয়া আরও বলেছেন, যদি ওই দুই নেতা বরাদ্দ নেওয়ার ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলতেই চান, তাহলে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ্যে জানাতে হবে—নইলে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠবে।

এখনো পর্যন্ত আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ বা এনসিপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জেলা পরিষদ প্রশাসকের অভিযোগ জনস্বার্থে সাধারণ মানুষের কাছে এক জোরালো প্রশ্ন তুলে দেয়—স্থানীয় তহবিলের বরাদ্দ কি সত্যিই ন্যায়সঙ্গতভাবে হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয়ে নির্দিষ্ট এলাকার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা হচ্ছে?

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে

এনসিপির দুই নেতার নামে ২৫ কোটি বরাদ্দ, অন্য উপজেলায় মাত্র ১০–২৬ লাখ: জেলা প্রশাসকের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই তরুণ নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর জন্য জেলা পরিষদের তহবিল থেকে প্রকল্প দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলায় মোট ২৫ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনাকে তিনি চরম বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং দুই নেতাকে যদি তারা সত্যিই এসব টাকা না নিয়ে থাকেন তবে তা প্রকাশ্যে অস্বীকার করার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

রোববার (৩১ মে) একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে মো. মোস্তাক মিয়া তার দাবির পক্ষে বরাদ্দের খতিয়ানের সুস্পষ্ট তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলায় ১৫ কোটি এবং দেবীদ্বার উপজেলায় ১০ কোটি টাকা প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে। একই সময়ে জেলার অন্যান্য বেশ কিছু উপজেলায় বরাদ্দ পড়েছে মাত্র ১০ থেকে ২৬ লাখ টাকার ঝাঁজে।

প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এই অনানুভুতি ও অসম সমবণ্টনকে এনসিপির ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে এমন নতুন ধরনের অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক মহলে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে বিবেচিত।

তবে সাক্ষাৎকারের শেষভাগে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি নেতাদের ব্যক্তিগতভাবে টাকা আত্মসাৎ করার সরাসরি অভিযোগ করছেন না। বরং তাঁর দাবি, প্রকল্পের আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট দুই এলাকায় মেগা বরাদ্দ দেয়ার ফলে তিতাস, মনোহরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাগুলো চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। তিনি এটাকেই মূলত পদ্ধতিগত বৈষম্য হিসেবে জনগণের সামনে উত্থাপন করেছেন।

প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অনানুষ্ঠানিক বরাদ্দ প্রক্রিয়া ও তার পরিণতি নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। মো. মোস্তাক মিয়া আরও বলেছেন, যদি ওই দুই নেতা বরাদ্দ নেওয়ার ঘটনাকে ভিত্তিহীন বলতেই চান, তাহলে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ্যে জানাতে হবে—নইলে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠবে।

এখনো পর্যন্ত আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহ বা এনসিপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জেলা পরিষদ প্রশাসকের অভিযোগ জনস্বার্থে সাধারণ মানুষের কাছে এক জোরালো প্রশ্ন তুলে দেয়—স্থানীয় তহবিলের বরাদ্দ কি সত্যিই ন্যায়সঙ্গতভাবে হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয়ে নির্দিষ্ট এলাকার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা হচ্ছে?