০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতিসংঘে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ড. খলিলুর রহমান জাপানের মিতসুই প্রতিনিধিদলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৩৪ প্রবাসী কার্ড চালু: বিএমইটি কার্ডের বিকল্পে একক ডিজিটাল সেবা মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল চীন সফরে আইএলও’র ১১৪তম সম্মেলনে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

ভোলায় শেষবেলায় ফিরলেন তোফায়েল আহমেদ, জানাজায় মানুষের ঢল

বাংলার রাজনীতির বিবর্ণ এক অধ্যায়ের প্রধান সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের পুরোধা তথা বরেণ্য নেতা তোফায়েল আহমেদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগমন করে; অনেকেই অশ্রু ঝরিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে দেশীয় মর্যাদায় তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়। দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে আনা তার মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে অবতরণ করলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করে। নিজ জেলার মাটি ও মানুষের অগাধ ভালোবাসায় অভিভূত হয়ে নেতাকে গণপরিবারের সিদ্ধান্তে তার পৈতৃক গ্রাম দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে, বাবা-মায়ের কোরের পাশে দাফন করা হবে।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ শিক্ষাজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনে খুব দ্রুত মাথা উঁচু করে দাঁড়ান। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি তুখড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন; সেই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।

মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়ে তিনি নতুন সময়কার রাজনীতিতে সক্রিয় অবদান রাখেন। পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোট ৯ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং দেশের উচ্চ রাজনীতিতে দৃঢ়ভাবে উপস্থিত থাকেন।

তার রাজনৈতিক কর্মজীবন সোনালী ছন্দে ভরা; ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে তিনি বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে সামলেছেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর পর তিনি দীর্ঘ ৩৩ মাস কারান্তরালে থেকেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষ পর্যায়েও শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি জনসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য থেকে ৯টিতে জয়ী হয়ে তিনি শুধু ভোলার মানুষের প্রিয় নেতাই ছিলেন না — দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন।

তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। শোকাহত মানুষ ও সহকর্মীরা তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামকে স্মরণ রেখে দেশের গণতান্ত্রিক পথে তাঁর অনুপ্রেরণা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল — ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়তি

ভোলায় শেষবেলায় ফিরলেন তোফায়েল আহমেদ, জানাজায় মানুষের ঢল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বাংলার রাজনীতির বিবর্ণ এক অধ্যায়ের প্রধান সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের পুরোধা তথা বরেণ্য নেতা তোফায়েল আহমেদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগমন করে; অনেকেই অশ্রু ঝরিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে দেশীয় মর্যাদায় তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয়া হয়। দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে আনা তার মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে অবতরণ করলে সেখানে আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করে। নিজ জেলার মাটি ও মানুষের অগাধ ভালোবাসায় অভিভূত হয়ে নেতাকে গণপরিবারের সিদ্ধান্তে তার পৈতৃক গ্রাম দক্ষিণ দীঘলদি ইউনিয়নের কোড়ালিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে, বাবা-মায়ের কোরের পাশে দাফন করা হবে।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্ম নেওয়া তোফায়েল আহমেদ শিক্ষাজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনে খুব দ্রুত মাথা উঁচু করে দাঁড়ান। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি তুখড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন; সেই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করায় তার ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।

মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়ে তিনি নতুন সময়কার রাজনীতিতে সক্রিয় অবদান রাখেন। পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোট ৯ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং দেশের উচ্চ রাজনীতিতে দৃঢ়ভাবে উপস্থিত থাকেন।

তার রাজনৈতিক কর্মজীবন সোনালী ছন্দে ভরা; ১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে তিনি বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে সামলেছেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর পর তিনি দীর্ঘ ৩৩ মাস কারান্তরালে থেকেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষ পর্যায়েও শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি জনসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্য থেকে ৯টিতে জয়ী হয়ে তিনি শুধু ভোলার মানুষের প্রিয় নেতাই ছিলেন না — দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন।

তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। শোকাহত মানুষ ও সহকর্মীরা তাঁর আদর্শ ও সংগ্রামকে স্মরণ রেখে দেশের গণতান্ত্রিক পথে তাঁর অনুপ্রেরণা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।