০৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ক্ষুদ্র জাতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছালেন অর্থনীতির সংকট গভীর, স্থিতিশীল করতে লাগবে অন্তত দুই বছর: অর্থমন্ত্রী দালিয়ানে WEF প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাড়ে চার মাস পর হরমুজ পার হলো পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ঢাকা ওয়াসার ২০২৪-২৫ বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ আ.লীগকে ঘিরে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার চার মাস পর হরমুজ পেরিয়ে এগোচ্ছে জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এনআইডি সংশোধন সহজ করতে ইসি গঠন করল পাঁচ সদস্যের কমিটি ডেঙ্গুতে চলতি বছরে মৃত ১০, আক্রান্ত ৫ হাজার ৩৯

ক্ষুদ্র জাতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তিনি জানান, ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা সরকারের মূল অঙ্গীকার এবং এটিই বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বুধবার সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, একাংশ রাজনৈতিক শক্তি কিছু পরিবেশ সৃষ্টি করে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে; তবে বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি তুলে ধরেন যে ইতিহাসভিত্তিকভাবে বিএনপিও বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে—তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র হিসেবে সবাইকে সমঅধিকার নিশ্চিত করা হবে বলেও মন্ত্রী জানান।

তিনি বললেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ; এখানে মানুষ যুগ যুগ ধরেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতায় একসঙ্গে বসবাস করে এসেছে। সরকারের কর্তব্য হচ্ছে সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং মন্ত্রী বলেন, সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।

বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থযাত্রা ও পুজোর জন্য আসেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তারা নানা ভোগান্তির শিকার হন।

এ কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দিরের সৌন্দর্যবর্ধন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তাত্ক্ষণিক উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় প্রসঙ্গে নয়; এগুলো পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছালেন

ক্ষুদ্র জাতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, নৃ-গোষ্ঠী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তিনি জানান, ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা সরকারের মূল অঙ্গীকার এবং এটিই বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বুধবার সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, একাংশ রাজনৈতিক শক্তি কিছু পরিবেশ সৃষ্টি করে বিএনপিকে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে; তবে বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি তুলে ধরেন যে ইতিহাসভিত্তিকভাবে বিএনপিও বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে—তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র হিসেবে সবাইকে সমঅধিকার নিশ্চিত করা হবে বলেও মন্ত্রী জানান।

তিনি বললেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ; এখানে মানুষ যুগ যুগ ধরেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতায় একসঙ্গে বসবাস করে এসেছে। সরকারের কর্তব্য হচ্ছে সব ধর্মাবলম্বী নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং মন্ত্রী বলেন, সরকার সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।

বৈঠকে সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুণ্যতীর্থ চন্দ্রনাথ ধামে আগত ভক্তদের নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিদেশ থেকেও হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থযাত্রা ও পুজোর জন্য আসেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও যোগাযোগ সুবিধার অভাবে তারা নানা ভোগান্তির শিকার হন।

এ কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি চন্দ্রনাথ ধামের সিঁড়ি নির্মাণ ও সংস্কার, মন্দিরের সৌন্দর্যবর্ধন ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তাত্ক্ষণিক উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর উন্নয়ন কেবল ধর্মীয় প্রসঙ্গে নয়; এগুলো পর্যটন, স্থানীয় অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই জনগণের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় সরকার এসব স্থানের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাইসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।