০৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
তিন বাহিনীর বঞ্চিত ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না: চিফ হুইপ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়: চিফ হুইপ প্রবাসী আয়ে রিজার্ভে সুর ফেরেছে: রিজার্ভ পুনরায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে প্রবাসী আয়ের জোয়ারে রিজার্ভে ফের প্রাণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের নাক গলানো গ্রহণযোগ্য নয়: চিফ হুইপ আগামী ১০ জুলাই ঢামেক পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুদকের মহাপরিচালক পদে রদবদল: মো. মনিরুল ইসলাম নিয়োগ দুদকের শীর্ষপদে রদবদল: মনিরুল ইসলাম নতুন মহাপরিচালক আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ঢামেক পরিদর্শনে যাচ্ছেন

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে টেকনাফে বিজিবির সতর্কতা জোরদার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা বাহনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করতে স্থল-ও নৌটহল বাড়ানো হয়েছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল চালানো হয়। একই সময়ে নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার করা হয়। টেকনাফ সদর থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে অননুমোদিত অনুপ্রবেশ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড না ঘটতে পারে।

এর আগে গত বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার শব্দ টেকনাফ পর্যন্ত শোনা যায়। বৃহস্পতিবার সকালেও প্রায় ৮টার দিকে আরও একটি বিস্ফোরণের শব্দ響ে সীমান্তবিগত এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়ায়; অনেকেই প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে ভেবেই বাড়ি থেকে বের হন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘‘সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আছে; তবু বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’’

শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকালে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং সীমান্তপারের দিক থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নাফ নদীতে অনেক জেলে এখন মাছ ধরতে যাচ্ছেন না।

অপরদিকে, একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডং এলাকার ‘চারলাইন’ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে; এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর নিহত হওয়ার খবর পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, হামলার ভয়ে সীমান্তসংলগ্ন এলাকার অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ এখানে ও শোনা গেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি সীমান্তবাসীদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং বলে দিয়েছেন যে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সংঘাতের এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইনের মংডু, বুথিডং ও রাথেডং টাউনশিপসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে ঝাড়া দিয়ে বেরিয়ে আসে আরাকান আর্মি। বাংলাদেশের দিকে এই অঞ্চলের বিপরীতে অবস্থান করছে টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে এবং রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মি ও কিছু রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও চলমান থাকে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না: চিফ হুইপ

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে টেকনাফে বিজিবির সতর্কতা জোরদার

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক জান্তা বাহনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে সম্ভাব্য রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করতে স্থল-ও নৌটহল বাড়ানো হয়েছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট ফুয়াদ রহমানের নেতৃত্বে নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল চালানো হয়। একই সময়ে নাফ নদীতে নৌ টহল জোরদার করা হয়। টেকনাফ সদর থেকে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা পর্যন্ত সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে নতুন করে অননুমোদিত অনুপ্রবেশ বা অবৈধ কর্মকাণ্ড না ঘটতে পারে।

এর আগে গত বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর মিয়ানমারের মংডু ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলার শব্দ টেকনাফ পর্যন্ত শোনা যায়। বৃহস্পতিবার সকালেও প্রায় ৮টার দিকে আরও একটি বিস্ফোরণের শব্দ響ে সীমান্তবিগত এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়ায়; অনেকেই প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে ভেবেই বাড়ি থেকে বের হন।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘‘সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আছে; তবু বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’’

শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম জানান, বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকালে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং সীমান্তপারের দিক থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং নাফ নদীতে অনেক জেলে এখন মাছ ধরতে যাচ্ছেন না।

অপরদিকে, একটি রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজম উল্লাহ দাবি করেন, বুথিডং এলাকার ‘চারলাইন’ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে; এতে কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর নিহত হওয়ার খবর পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, হামলার ভয়ে সীমান্তসংলগ্ন এলাকার অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ এখানে ও শোনা গেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি সীমান্তবাসীদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং বলে দিয়েছেন যে বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ সংঘাতের এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর রাখাইনের মংডু, বুথিডং ও রাথেডং টাউনশিপসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীকে ঝাড়া দিয়ে বেরিয়ে আসে আরাকান আর্মি। বাংলাদেশের দিকে এই অঞ্চলের বিপরীতে অবস্থান করছে টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান ও স্থল হামলা শুরু করে এবং রাখাইনের বিভিন্ন এলাকায় আরাকান আর্মি ও কিছু রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও চলমান থাকে। ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।