০৯:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে: প্রধানমন্ত্রী ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপন্ন ঢাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ স্মারক ডাকটিকিট সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জুলাইয়ের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের স্মারক ডাকটিকিট অর্থমন্ত্রী: বাংলাদেশ এগোচ্ছে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে গণতন্ত্র মজবুত করতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা বাড়বে: চিফ হুইপ জুলাই স্মৃতির অবমাননার অভিযোগ: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

ফেলে দেওয়া পলিথিন থেকে আসবাব্য: নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

কক্সবাজারে স্থাপিত একটি আধুনিক প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা বন্দোবস্ত করছে পরিত্যক্ত পলিথিনকে নতুন কাজে লাগিয়ে — পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি তৈরি করছে বাজারযোগ্য টেকসই আসবাব্য ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্য। এই মডেলটি কক্সবাজারে এই সেক্টরের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে সাড়া ফেলেছে এবং দ্রুত জনগণের নজর কাড়ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটন চাপ ও বিশাল রোহিঙ্গা জনসংখ্যালঘু এলাকার কারণে কক্সবাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এক সমীক্ষা অনুযায়ী শহরে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩৪ টন প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হয়। বিশেষভাবে একবার ব্যবহার করা পলিথিন, পণ্য মোড়ক, পলিপ্রোপিলিন ও পাতলা প্লাস্টিক উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে; এগুলো পুনর্ব্যবহার করা কঠিন ও সাধারণত বাজারমূল্যও থাকে না।

কক্সবাজারের নতুন রিসাইক্লিং কারখানায় এসব বর্জ্যকে উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাত করে পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন সোফা, বেঞ্চ এবং মজবুত খুঁটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এতে শুধু বর্জ্য কমবে না, নতুন বাজারও গড়ে উঠছে এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

ইউএনওপিএসের (ইউনাইটেড নেশনস অফিস অফ প্রজেক্ট সার্ভিসেস) বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর মেইসন সালাম বলেন, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করার এই উদ্যোগ একটি ভালো দৃষ্টান্ত। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ও ইউএনওপিএস মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্লাস্টিকবিহীন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে এবং স্থানীয় নারী ও জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী জানান, ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’ (প্লিজ) প্রকল্পের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যাক কক্সবাজারে প্লাস্টিক দূষণ কমানোর কাজ করছে। কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই কারখানা গড়ে তোলার ফলে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে কারখানার কর্মী ও পণ্যের বিক্রেতা পর্যন্ত ব্যাপক সংখ্যক মানুষের জন্য আয় এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক জানান, রিসাইক্লিং কারখানার পাশাপাশি এখানে কঠিন বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নিকাশী ও পরিকাঠামো নির্মাণের কাজও চলছে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা স্থানীয় দরকার মিটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই প্রকল্পটি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায় প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ হিসেবে গৃহীত ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’। বিশ্বের ব্যাংক ও ইউএনওপিএসের সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করছে সাউথ এশিয়া কোঅপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম; স্থানীয় পর্যায়ে কক্সবাজার পৌরসভা ও ব্র্যাক মিলিতভাবে কাজ করছে।

কারখানাটির আয়তন ৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট এবং এটি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা রাখে। পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কারখানায় রয়েছে দৈনিক ২ হাজার লিটার ধার্যতাসম্পন্ন তরল বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ইটিপি), সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থাপনা, একটি ইলেকট্রিক সাবস্টেশন ও ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি নজরদারি।

উদ্যোগটির মাধ্যমে বিশেষত নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের ক্ষমতায়নের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি খাল–বিল ও উপকূলীয় অঞ্চলে পলিথিন দূষণ কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি সহায়তা করবে। বর্তমানে কক্সবাজারে তৈরি এই মডেলটি সফল হলে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে — পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার একটি বাস্তবধর্মী পথ হিসেবে।

ট্যাগ :

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপন্ন ঢাকা

ফেলে দেওয়া পলিথিন থেকে আসবাব্য: নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারে স্থাপিত একটি আধুনিক প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা বন্দোবস্ত করছে পরিত্যক্ত পলিথিনকে নতুন কাজে লাগিয়ে — পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি তৈরি করছে বাজারযোগ্য টেকসই আসবাব্য ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্য। এই মডেলটি কক্সবাজারে এই সেক্টরের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে সাড়া ফেলেছে এবং দ্রুত জনগণের নজর কাড়ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটন চাপ ও বিশাল রোহিঙ্গা জনসংখ্যালঘু এলাকার কারণে কক্সবাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। এক সমীক্ষা অনুযায়ী শহরে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩৪ টন প্লাস্টিক বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা হয়। বিশেষভাবে একবার ব্যবহার করা পলিথিন, পণ্য মোড়ক, পলিপ্রোপিলিন ও পাতলা প্লাস্টিক উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করে; এগুলো পুনর্ব্যবহার করা কঠিন ও সাধারণত বাজারমূল্যও থাকে না।

কক্সবাজারের নতুন রিসাইক্লিং কারখানায় এসব বর্জ্যকে উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাত করে পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন সোফা, বেঞ্চ এবং মজবুত খুঁটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এতে শুধু বর্জ্য কমবে না, নতুন বাজারও গড়ে উঠছে এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

ইউএনওপিএসের (ইউনাইটেড নেশনস অফিস অফ প্রজেক্ট সার্ভিসেস) বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর মেইসন সালাম বলেন, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করার এই উদ্যোগ একটি ভালো দৃষ্টান্ত। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক ও ইউএনওপিএস মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্লাস্টিকবিহীন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে এবং স্থানীয় নারী ও জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী জানান, ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’ (প্লিজ) প্রকল্পের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যাক কক্সবাজারে প্লাস্টিক দূষণ কমানোর কাজ করছে। কক্সবাজার পৌরসভার সহযোগিতায় এই কারখানা গড়ে তোলার ফলে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে কারখানার কর্মী ও পণ্যের বিক্রেতা পর্যন্ত ব্যাপক সংখ্যক মানুষের জন্য আয় এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইবনে মায়াজ প্রামাণিক জানান, রিসাইক্লিং কারখানার পাশাপাশি এখানে কঠিন বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নিকাশী ও পরিকাঠামো নির্মাণের কাজও চলছে। ভবিষ্যতে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা স্থানীয় দরকার মিটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই প্রকল্পটি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায় প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা মোকাবিলায় আঞ্চলিক উদ্যোগ হিসেবে গৃহীত ‘প্লাস্টিক ফ্রি রিভারস অ্যান্ড সিজ ফর সাউথ এশিয়া’। বিশ্বের ব্যাংক ও ইউএনওপিএসের সহায়তায় এটি বাস্তবায়ন করছে সাউথ এশিয়া কোঅপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম; স্থানীয় পর্যায়ে কক্সবাজার পৌরসভা ও ব্র্যাক মিলিতভাবে কাজ করছে।

কারখানাটির আয়তন ৫ হাজার ২৮০ বর্গফুট এবং এটি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা রাখে। পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কারখানায় রয়েছে দৈনিক ২ হাজার লিটার ধার্যতাসম্পন্ন তরল বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (ইটিপি), সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থাপনা, একটি ইলেকট্রিক সাবস্টেশন ও ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি নজরদারি।

উদ্যোগটির মাধ্যমে বিশেষত নারী বর্জ্য সংগ্রাহকদের ক্ষমতায়নের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি খাল–বিল ও উপকূলীয় অঞ্চলে পলিথিন দূষণ কমিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি সহায়তা করবে। বর্তমানে কক্সবাজারে তৈরি এই মডেলটি সফল হলে তা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে — পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার একটি বাস্তবধর্মী পথ হিসেবে।