২০২৬ বিশ্বকাপে নবাগত কেপ ভার্দে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেননি — তবে মিয়ামির ওই entertaining ম্যাচের ফলাফলই ছিল আলোচনার কেন্দ্র, পাশাপাশি নতুন বিতর্কও উস্কে দিল ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আচরণ।
মিয়ামি স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে কেপ ভার্দের গোলের পর ইনফান্তিনোকে দৃশ্যত হতাশ দেখা যায়। সেই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই এটিকে আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতমূলক মনোভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করতে থাকে।
বিতর্ক আরো ছড়িয়ে পড়ে ইনফান্তিনোর ম্যাচ-পরবর্তী এক সাক্ষাৎকার নিয়েও। আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যম ডি-স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রথমে বলে উঠেছিলেন, “আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন, কারণ আজ রাতে হৃদয়…” — এ কথার মাঝেই হঠাৎ থেমে গিয়ে নিজের বক্তব্য সংশোধন করে যোগ করেন, “নিরপেক্ষ সমর্থকরাও দুই দলের জন্যই রোমাঞ্চ অনুভব করেছেন।” সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশটিই দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেলে নেটিজেনদের অনেকের মনে এটি আর্জেন্টিনার প্রতি ফিফা সভাপতির গোপন সমর্থনের ইঙ্গিত জাগায়।
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু গ্রুপ ফিফার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, কেউ কেউ ইনফান্তিনোর পদত্যাগেরও দাবি তুলেছে। অপরপক্ষে, নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সামাজিক মাধ্যমের তাৎক্ষণিক ও আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া — যা প্রমাণ-সমর্থিত নয়। তারা লজ্জিত বা হতাশের সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তিকে প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও হিসেবে টেনে ধরেছেন।
অনেক বিশ্লেষকই মনে করান যে ইনফান্তিনোর পূর্ণ বক্তব্যের মর্মই ছিল ম্যাচের নাটকীয়তা ও নিরপেক্ষ দর্শকদের উত্তেজনা তুলে ধরা, কোনো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাত প্রদর্শন করা নয়। সম্প্রচার-বিরতির কারণে কাটা অংশটি ভুলবশত অন্য মানে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের ব্যাখ্যা।
অবশেষে মাঠের লড়াইয়ে ৩-২ গোলে জয় পেয়ে আর্জেন্টিনা শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও কেপ ভার্দের সংগ্রামী ফুটবল ও অনড় মনোভাব বিশ্বমঞ্চে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ম্যাচ ও পরবর্তী বিতর্ক—উভয়ই ফুটবল বিশ্বজুড়ে আলোচনা জাগিয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























