০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঢামেকের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ঢামেকের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আগৈলঝাড়া থানায় হামলা: পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ ও নিন্দা মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত: মাহদী আমিন আসুন সবুজ ও নিরাপদ বসতি গড়ে তুলি: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধিতে এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান নিযুক্ত এডিবি: চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫% আসুন সবাই মিলে গড়ি সবুজ বসতি: প্রধানমন্ত্রী

আগৈলঝাড়া থানায় হামলা: পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ ও নিন্দা

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় সংগঠিত হামলা, ভাঙচুর ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ন্যক্কারজনক আক্রমণের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনার শুরু হয় ৮ জুলাই সন্ধ্যায়—বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকির (২৬) নামের এক চোরের সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকের একটি মামলা রয়েছে এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। থানা হাজতে থাকা অবস্থায় মাদকগ্রস্ত রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে রক্তপাত করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত প্রায় ১১টায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ রাতের চিকিৎসার পর পরের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে কিছু লোক সেটিকে بنیاد করে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এই ধরনের গুজবভিত্তিক হামলাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়, বরং দেশের গড়ে ওঠা এক দুশ্চিন্তাজনক ‘মব সংস্কৃতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে—যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচারপ্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তকে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে—যা আইনগত দায়িত্ব হওয়ার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বেরও বাস্তব উদাহরণ। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে গুজব ছড়ানো ও সংঘবদ্ধ হামলার মাধ্যমে পুলিশের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর ফলে দেশের উন্নয়নপ্রবাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। সংগঠনের মতে, এমন কুশিল্পে লিপ্ত পক্ষরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করে দেশের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় রয়েছে।

সংস্থাটি দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে অনুরোধ করেছে যে, মিথ্যা তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে আইনকে উপেক্ষা করবেন না; সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন; এবং কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলে তা আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রকাশ করবেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ অতীতের ন্যায় আগামী দিনগুলোতেও পেশাদারিত্ব, সংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আগৈলঝাড়া থানায় হামলা: পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ ও নিন্দা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় সংগঠিত হামলা, ভাঙচুর ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ন্যক্কারজনক আক্রমণের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।

সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘটনার শুরু হয় ৮ জুলাই সন্ধ্যায়—বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকির (২৬) নামের এক চোরের সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকের একটি মামলা রয়েছে এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। থানা হাজতে থাকা অবস্থায় মাদকগ্রস্ত রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে রক্তপাত করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত প্রায় ১১টায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ রাতের চিকিৎসার পর পরের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে কিছু লোক সেটিকে بنیاد করে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এই ধরনের গুজবভিত্তিক হামলাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়, বরং দেশের গড়ে ওঠা এক দুশ্চিন্তাজনক ‘মব সংস্কৃতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে—যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচারপ্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তকে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে—যা আইনগত দায়িত্ব হওয়ার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বেরও বাস্তব উদাহরণ। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে গুজব ছড়ানো ও সংঘবদ্ধ হামলার মাধ্যমে পুলিশের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর ফলে দেশের উন্নয়নপ্রবাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। সংগঠনের মতে, এমন কুশিল্পে লিপ্ত পক্ষরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করে দেশের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় রয়েছে।

সংস্থাটি দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে অনুরোধ করেছে যে, মিথ্যা তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে আইনকে উপেক্ষা করবেন না; সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন; এবং কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলে তা আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রকাশ করবেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ অতীতের ন্যায় আগামী দিনগুলোতেও পেশাদারিত্ব, সংযম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।