১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকার কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অর্ধেক কমালো আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী জলে ভাসছে শহর, ডুবে যাচ্ছে প্রতিশ্রুতি পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা — প্রধানমন্ত্রী বারবারে জলে ভাসে শহর, তলিয়ে যায় প্রতিশ্রুতি বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ ও ইকো পণ্য: ঢাকায় দুই বড় প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী: জলাবদ্ধতায় জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয় চীফ হুইপ নূরুল ইসলামের গভীর শোক প্রকাশ — ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতায় বন্যার্তদের পাশে

প্রকৃতির কাছে মানুষের অসহায়তা: চোখ ভেজানো পাঁচটি সিনেমা

সিনেমার পর্দায় প্রকৃতি কখনো নীরব, কখনো বিধ্বংসী—তবু সবসময়ই মানুষের কাহিনি ধরেই এগোয়। ঝড়-ঝাপটা, বন্যা বা অতিবৃষ্টির কেন্দ্রে পড়ে যখন সাধারণ মানুষের জীবন কাঁপে, তখন সেই টিকে থাকার লড়াই দর্শককে গভীরভাবে স্পর্শ করে। দেশি-বিদেশি পাঁচটি চলচ্চিত্র এমনই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি মানুষদের গল্প বলেছে, তাদের দুঃখ, আত্মত্যাগ আর মানুষের মধ্যে জেগে ওঠা মানবিকতার দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলেছে।

মুহাম্মদ কাইউমের ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ হাওরাঞ্চলের ক্ষুদ্রজীবীদের জীবনকে ক্যামেরায় ধারন করে। প্রান্তিক কৃষক ও তাদের পরিবারের দৈনন্দিন সংগ্রাম, বর্ধিত বৃষ্টি ও অতি উষ্ণায়নের প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে কত দ্রুত প্রকৃতি তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে, সেটাই ছবির মূল থিম। ক্ষেতে ভেঙে যাওয়া ফসল, ভাঙা ঘর, আর তবুও টিকে থাকার অদম্য ইচ্ছে—এই ছবি সেই সব চিত্রকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে।

তালিকার দ্বিতীয় সিনেমা ‘সাঁতাও’ (২০২৩, খন্দকার সুমন পরিচালিত)। গণঅর্থায়নে নির্মিত এই ছবিতে উত্তরাঞ্চলের টানা সাতদিনের বৃষ্টিহীন নয়—বরং ধারাবাহিক সাঁতাওয়ের কারণে গড়ে উঠা এক সংগ্রাম দেখানো হয়েছে। কৃষিনির্ভর সমাজ, বিশেষ করে প্রান্তিক নারীদের সংগ্রাম ও তাদের সম্মিলিত স্বপ্রচেষ্টার কাহিনি এখানে প্রধান। ছবিটি দেখায় কিভাবে সত্যিকারের দুর্যোগ সব সামাজিক দেয়াল ভাঙে এবং মানুষ একে অন্যের পাশে দাঁড়ায়।

বলিউডের ‘কেদারনাথ’ (২০১৩) ২০১৩ সালের উত্তরাখণ্ডের ভয়াবহ বন্যার বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে নেয়া। ছবির কেন্দ্রীয় কাহিনি মনসুর—একজন মুসলিম মালবাহক—আর মুকু—একজন হিন্দু পুরোহিতের কন্যা—তাদের অপ্রত্যাশিত প্রেম ও সেই প্রেমের পেছনে লুকিয়ে থাকা আত্মত্যাগ। হঠাৎ নেমে আসা বানই এখানে প্রকৃতির নির্মমতা ও মানুষের ছোট ছোট সাহসিকতার মিলনস্থল; মনসুরের অন্যদের রক্ষায় করা ত্যাগ দর্শককে স্তব্ধ করে দেয়।

মলয়ালম ভাষার ব্লকবাস্টার ‘২০১৮’ কেরালার ভয়াবহ বন্যার কাহিনী অনুজীবিত করে। আকস্মিক বন্যা কিভাবে মানুষের জীবন উল্টে দেয়—এই ছবিতে সেটাই দেখা যায়। জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ যখন একসাথে আসে, তখন বড় সংকটও জয় করা যায়—এই বার্তাটাই ছবির মর্ম। রেসকু করলে আনুপ-র মতো সেনা কর্মকর্তাদের বীরত্ব এবং স্থানীয় মানুষের সহমর্মিতা কেরালাবাসীর পুনরুজ্জীবনের গল্পকে শক্তিশালী করে তোলে।

এবং তালিকার শেষেই আছে হলিউডের ‘দ্য পারফেক্ট স্টর্ম’—বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত এটি আটলান্টিক মহাসাগরে এক বাণিজ্যিক মাছ ধরার নৌকা ‘আন্দ্রে গেইল’-এর বিনাশদর্শন ঘটায়। সাগরের বিশাল ঢেউ, অবিরাম বৃষ্টি আর বায়ুর তীব্রতায় মানুষ কতটা ক্ষুদ্র এবং দুর্বল হতে পারে—তার নায়কসুলভ, কিন্তু বাস্তবসম্মত চিত্র এই ছবিতে পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত দর্শক পর্যন্ত রোমাঞ্চে যুক্ত রাখে সে লড়াইয়ের কাহিনি।

এই পাঁচটি ছবি একের পর এক মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির বিন্দুমাত্র অপরিবর্তনীয় শক্তি আমাদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে। তবু সেই ভয়ে নয়, বরং মানুষের অধ্যবসায়, একতা ও আত্মত্যাগের কারণে তারা বদলে যায়, দাঁড়ায়—এটিই তাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় অংশ। অবশেষে এই সব সিনেমা শুধু ভয়ের গল্প নয়; এগুলো মানবিকতা, সহমর্মিতা ও টিকে থাকার অসম্ভব আবেদনও বয়ে আনে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সরকার কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অর্ধেক কমালো

প্রকৃতির কাছে মানুষের অসহায়তা: চোখ ভেজানো পাঁচটি সিনেমা

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সিনেমার পর্দায় প্রকৃতি কখনো নীরব, কখনো বিধ্বংসী—তবু সবসময়ই মানুষের কাহিনি ধরেই এগোয়। ঝড়-ঝাপটা, বন্যা বা অতিবৃষ্টির কেন্দ্রে পড়ে যখন সাধারণ মানুষের জীবন কাঁপে, তখন সেই টিকে থাকার লড়াই দর্শককে গভীরভাবে স্পর্শ করে। দেশি-বিদেশি পাঁচটি চলচ্চিত্র এমনই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি মানুষদের গল্প বলেছে, তাদের দুঃখ, আত্মত্যাগ আর মানুষের মধ্যে জেগে ওঠা মানবিকতার দৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলেছে।

মুহাম্মদ কাইউমের ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ হাওরাঞ্চলের ক্ষুদ্রজীবীদের জীবনকে ক্যামেরায় ধারন করে। প্রান্তিক কৃষক ও তাদের পরিবারের দৈনন্দিন সংগ্রাম, বর্ধিত বৃষ্টি ও অতি উষ্ণায়নের প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে কত দ্রুত প্রকৃতি তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে, সেটাই ছবির মূল থিম। ক্ষেতে ভেঙে যাওয়া ফসল, ভাঙা ঘর, আর তবুও টিকে থাকার অদম্য ইচ্ছে—এই ছবি সেই সব চিত্রকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে।

তালিকার দ্বিতীয় সিনেমা ‘সাঁতাও’ (২০২৩, খন্দকার সুমন পরিচালিত)। গণঅর্থায়নে নির্মিত এই ছবিতে উত্তরাঞ্চলের টানা সাতদিনের বৃষ্টিহীন নয়—বরং ধারাবাহিক সাঁতাওয়ের কারণে গড়ে উঠা এক সংগ্রাম দেখানো হয়েছে। কৃষিনির্ভর সমাজ, বিশেষ করে প্রান্তিক নারীদের সংগ্রাম ও তাদের সম্মিলিত স্বপ্রচেষ্টার কাহিনি এখানে প্রধান। ছবিটি দেখায় কিভাবে সত্যিকারের দুর্যোগ সব সামাজিক দেয়াল ভাঙে এবং মানুষ একে অন্যের পাশে দাঁড়ায়।

বলিউডের ‘কেদারনাথ’ (২০১৩) ২০১৩ সালের উত্তরাখণ্ডের ভয়াবহ বন্যার বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে নেয়া। ছবির কেন্দ্রীয় কাহিনি মনসুর—একজন মুসলিম মালবাহক—আর মুকু—একজন হিন্দু পুরোহিতের কন্যা—তাদের অপ্রত্যাশিত প্রেম ও সেই প্রেমের পেছনে লুকিয়ে থাকা আত্মত্যাগ। হঠাৎ নেমে আসা বানই এখানে প্রকৃতির নির্মমতা ও মানুষের ছোট ছোট সাহসিকতার মিলনস্থল; মনসুরের অন্যদের রক্ষায় করা ত্যাগ দর্শককে স্তব্ধ করে দেয়।

মলয়ালম ভাষার ব্লকবাস্টার ‘২০১৮’ কেরালার ভয়াবহ বন্যার কাহিনী অনুজীবিত করে। আকস্মিক বন্যা কিভাবে মানুষের জীবন উল্টে দেয়—এই ছবিতে সেটাই দেখা যায়। জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ যখন একসাথে আসে, তখন বড় সংকটও জয় করা যায়—এই বার্তাটাই ছবির মর্ম। রেসকু করলে আনুপ-র মতো সেনা কর্মকর্তাদের বীরত্ব এবং স্থানীয় মানুষের সহমর্মিতা কেরালাবাসীর পুনরুজ্জীবনের গল্পকে শক্তিশালী করে তোলে।

এবং তালিকার শেষেই আছে হলিউডের ‘দ্য পারফেক্ট স্টর্ম’—বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত এটি আটলান্টিক মহাসাগরে এক বাণিজ্যিক মাছ ধরার নৌকা ‘আন্দ্রে গেইল’-এর বিনাশদর্শন ঘটায়। সাগরের বিশাল ঢেউ, অবিরাম বৃষ্টি আর বায়ুর তীব্রতায় মানুষ কতটা ক্ষুদ্র এবং দুর্বল হতে পারে—তার নায়কসুলভ, কিন্তু বাস্তবসম্মত চিত্র এই ছবিতে পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত দর্শক পর্যন্ত রোমাঞ্চে যুক্ত রাখে সে লড়াইয়ের কাহিনি।

এই পাঁচটি ছবি একের পর এক মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির বিন্দুমাত্র অপরিবর্তনীয় শক্তি আমাদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে। তবু সেই ভয়ে নয়, বরং মানুষের অধ্যবসায়, একতা ও আত্মত্যাগের কারণে তারা বদলে যায়, দাঁড়ায়—এটিই তাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় অংশ। অবশেষে এই সব সিনেমা শুধু ভয়ের গল্প নয়; এগুলো মানবিকতা, সহমর্মিতা ও টিকে থাকার অসম্ভব আবেদনও বয়ে আনে।