০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাপেক্সের তিন কূপ খননে সম্ভাব্য ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার গ্যাস টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সরকারি সর্বনিম্ন খরচ ৫,০০৫,৬৪৮ টাকা দুর্ঘটনা কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন আনার অঙ্গীকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন আনার অঙ্গীকার

কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের উত্তাল সমাবেশ, দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দ্রুত কার্যকরির দাবি

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি অবিলম্বে কার্যকর, কুরমা চা-বাগানের চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরিসহ সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপমুক্ত চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ চা-শ্রমিকরা। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগানে ‘সাধারণ চা-শ্রমিক ও ছাত্র-যুবরা’ ব্যানারে একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখা নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সংসদে যখন চা-শ্রমিকদের জন্য দৈনিক ৫০০ টাকার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল, তখন থেকে কাহিনি বদলে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। পরে ওই প্রস্তাব প্রত্যাহার হওয়ায় তারা নিজেকে বঞ্চিত ও অবহেলিত মনে করছেন। সামগ্রিকভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বর্তমান মজুরি দিয়ে পারিবারিক ব্যয় চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বক্তারা আরও জানান, কুরমা চা-বাগানে টানা চার সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ থাকায় শত শত পরিবার এখন চরম অনাহার ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। শিক্ষাদান, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ চালাতে না পেরে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবারের ঋণের জালে আটকে পড়ার মতো সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চা-শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মাঠে কাজ করা শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

সমাবেশে একাধিক বক্তা শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন। তারা বলেন, কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়াই ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, যেন শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে নিতে পারেন।

সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন চা-শ্রমিক নারী নেতা গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক, শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক নেতা লছমি রানী রাজভর, সুজিত পাশা ও স্থানীয় ছাত্র-যুব নেতারা। তারা অবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সমাবেশ শেষে অংশগ্রহনকারীরা শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নেন এবং প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার উন্নতি সম্ভব হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়

কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের উত্তাল সমাবেশ, দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দ্রুত কার্যকরির দাবি

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি অবিলম্বে কার্যকর, কুরমা চা-বাগানের চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরিসহ সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপমুক্ত চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার জোর দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ চা-শ্রমিকরা। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগানে ‘সাধারণ চা-শ্রমিক ও ছাত্র-যুবরা’ ব্যানারে একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখা নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সংসদে যখন চা-শ্রমিকদের জন্য দৈনিক ৫০০ টাকার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল, তখন থেকে কাহিনি বদলে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। পরে ওই প্রস্তাব প্রত্যাহার হওয়ায় তারা নিজেকে বঞ্চিত ও অবহেলিত মনে করছেন। সামগ্রিকভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বর্তমান মজুরি দিয়ে পারিবারিক ব্যয় চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বক্তারা আরও জানান, কুরমা চা-বাগানে টানা চার সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ থাকায় শত শত পরিবার এখন চরম অনাহার ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। শিক্ষাদান, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ চালাতে না পেরে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবারের ঋণের জালে আটকে পড়ার মতো সংকট সৃষ্টি হয়েছে। চা-শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মাঠে কাজ করা শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।

সমাবেশে একাধিক বক্তা শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে অনিয়মের কথাও তুলে ধরেন। তারা বলেন, কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়াই ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, যেন শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে নিতে পারেন।

সমাবেশে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন চা-শ্রমিক নারী নেতা গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক, শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক নেতা লছমি রানী রাজভর, সুজিত পাশা ও স্থানীয় ছাত্র-যুব নেতারা। তারা অবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সমাবেশ শেষে অংশগ্রহনকারীরা শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নেন এবং প্রত্যাশা প্রকাশ করেন যে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার উন্নতি সম্ভব হবে।