০৩:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ

উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে মোট ১৩৪ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ঋণ-অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা (১ ডলার সমান ৯৬ টাকা হিসেবে)। অর্থ ছাড়ের এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের এই তিন মাসে ছাড় হয়েছিল ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ১৮ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তিন মাসে অর্থছাড় তুলনামূলক কম হলেও ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতি আগের সময়ের চেয়ে বেশি এসেছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই তিন মাসে ৯ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এলেও চলতি অর্থবছরের এ তিন মাসে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৪০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ, নতুন করে এই ঋণের জন্য চুক্তি হয়েছে। করোনা মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর দেশের উন্নয়ন প্রকল্পেও গতি ফিরে আসতে থাকে। এর ফলে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো অর্থের প্রবাহও বাড়িয়েছিল। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে (২০২১-২২) প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো। তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণসহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় গত বছরের চেয়ে ঋণের পরিমাণ কমেছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ১২৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ১৮৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এই তিন মাসে অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছিল ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার সমপরিমাণ। এবার তিন মাসে অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ ডলার।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৫২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৫৯ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ

প্রকাশিতঃ ১২:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০২২

উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে মোট ১৩৪ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ঋণ-অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা (১ ডলার সমান ৯৬ টাকা হিসেবে)। অর্থ ছাড়ের এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের এই তিন মাসে ছাড় হয়েছিল ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ১৮ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তিন মাসে অর্থছাড় তুলনামূলক কম হলেও ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতি আগের সময়ের চেয়ে বেশি এসেছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই তিন মাসে ৯ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এলেও চলতি অর্থবছরের এ তিন মাসে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৪০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ, নতুন করে এই ঋণের জন্য চুক্তি হয়েছে। করোনা মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর দেশের উন্নয়ন প্রকল্পেও গতি ফিরে আসতে থাকে। এর ফলে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো অর্থের প্রবাহও বাড়িয়েছিল। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে (২০২১-২২) প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো। তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণসহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় গত বছরের চেয়ে ঋণের পরিমাণ কমেছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ১২৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ১৮৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এই তিন মাসে অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছিল ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার সমপরিমাণ। এবার তিন মাসে অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ ডলার।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৫২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৫৯ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।