১১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ আবারও হরমুজ পার হয়নি এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে आज প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ

উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে মোট ১৩৪ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ঋণ-অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা (১ ডলার সমান ৯৬ টাকা হিসেবে)। অর্থ ছাড়ের এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের এই তিন মাসে ছাড় হয়েছিল ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ১৮ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তিন মাসে অর্থছাড় তুলনামূলক কম হলেও ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতি আগের সময়ের চেয়ে বেশি এসেছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই তিন মাসে ৯ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এলেও চলতি অর্থবছরের এ তিন মাসে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৪০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ, নতুন করে এই ঋণের জন্য চুক্তি হয়েছে। করোনা মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর দেশের উন্নয়ন প্রকল্পেও গতি ফিরে আসতে থাকে। এর ফলে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো অর্থের প্রবাহও বাড়িয়েছিল। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে (২০২১-২২) প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো। তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণসহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় গত বছরের চেয়ে ঋণের পরিমাণ কমেছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ১২৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ১৮৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এই তিন মাসে অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছিল ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার সমপরিমাণ। এবার তিন মাসে অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ ডলার।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৫২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৫৯ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ

প্রকাশিতঃ ১২:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০২২

উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে মোট ১৩৪ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ঋণ-অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা (১ ডলার সমান ৯৬ টাকা হিসেবে)। অর্থ ছাড়ের এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের এই তিন মাসে ছাড় হয়েছিল ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ১৮ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তিন মাসে অর্থছাড় তুলনামূলক কম হলেও ঋণের নতুন প্রতিশ্রুতি আগের সময়ের চেয়ে বেশি এসেছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই তিন মাসে ৯ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এলেও চলতি অর্থবছরের এ তিন মাসে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৪০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ, নতুন করে এই ঋণের জন্য চুক্তি হয়েছে। করোনা মহামারি কাটিয়ে ওঠার পর দেশের উন্নয়ন প্রকল্পেও গতি ফিরে আসতে থাকে। এর ফলে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো অর্থের প্রবাহও বাড়িয়েছিল। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে (২০২১-২২) প্রায় ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ ছাড় করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলো। তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। ইআরডি কর্মকর্তারা বলছেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণসহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় গত বছরের চেয়ে ঋণের পরিমাণ কমেছে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ১২৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ১৮৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এই তিন মাসে অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছিল ৭ কোটি ৫১ লাখ ডলার সমপরিমাণ। এবার তিন মাসে অনুদানের অর্থ ছাড় হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ ডলার।

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৫২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৫৯ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঋণ ও অনুদান মিলে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।