০৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

পিআর মানে ‘পারমানেন্ট রেস্টলেসনেস’: সালাহউদ্দিন আহমদ

বাংলাদেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করে বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ ও অসাংবিধানিক দাবিকে মেনে নিয়ে জাতিকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলতে হলে সেটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবে। তিনি এ কথা বলেন গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে, যেখানে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্রিটিশ ল স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্সের ১৫ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তৃতায় আশা প্রকাশ করেন, পিআর পদ্ধতি কার্যকর হলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি ব্যাখ্যামূলকভাবে বলেন, পিআর মানে হলো ‘পারমানেন্ট রেস্টলেসনেস’ বা স্থায়ী অস্থিরতা। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, বিশ্বে বিভিন্ন দেশে যখন পিআর চালু করা হচ্ছে, তখন দেখা গেছে সরকারের গঠন অনেক দীর্ঘ সময় লেগেছে; কোথাও এক বছর বা দেড় বছর পর নতুন সরকার এসেছে। আবার অনেক সময় সরকার গঠনের পর খুব দ্রুতই তা ভেঙে গেছে, কয়েক মাস বা এক বছরের মধ্যেই অচল হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য পিআর পদ্ধতি চালু করা মূল উদ্দেশ্য যেন একটাই—সংসদীয় আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা। এটি একটি চক্রান্ত, যা দেশের স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অস্থিরতা তৈরি করবে এবং এতেই সুবিধা পাবে শক্তি যারা চান, দেশ সবসময় অস্থিতিশীল থাকুক। তিনি বলেন, এখনো বিভিন্ন জরিপ প্রকাশ পেয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ মানুষ পিআর বিষয়টি বোঝে না, আর অন্য এক জরিপে দাবি করা হয়েছে, ৭০ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতি চান। এইসব বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জাতিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্তকেই তিনি আখ্যা দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জনগণ যদি সঠিকভাবে জানে না যে, তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থী কারা, তাহলে সরাসরি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সুযোগ কোথায় রইল? এতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি মনে করেন, সংবিধান ও আইনের শাসনের বাইরে গিয়ে কোনো সংস্কার দেশের জন্য সুখকর হবে না। তিনি বলেন, আমরা সংবিধানিক ধারায় থাকতে চাই, কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক দাবি মেনে নেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে উন্নত দেশের মতো স্বনির্বাচিত কমিশন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এই নেতা।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও রাগিব রউফ চৌধুরী। সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ওয়াসি পারভেজ তাহসিন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

পিআর মানে ‘পারমানেন্ট রেস্টলেসনেস’: সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করে বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ ও অসাংবিধানিক দাবিকে মেনে নিয়ে জাতিকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলতে হলে সেটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনবে। তিনি এ কথা বলেন গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে, যেখানে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্রিটিশ ল স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্সের ১৫ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তৃতায় আশা প্রকাশ করেন, পিআর পদ্ধতি কার্যকর হলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকিতে পড়বে। তিনি ব্যাখ্যামূলকভাবে বলেন, পিআর মানে হলো ‘পারমানেন্ট রেস্টলেসনেস’ বা স্থায়ী অস্থিরতা। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, বিশ্বে বিভিন্ন দেশে যখন পিআর চালু করা হচ্ছে, তখন দেখা গেছে সরকারের গঠন অনেক দীর্ঘ সময় লেগেছে; কোথাও এক বছর বা দেড় বছর পর নতুন সরকার এসেছে। আবার অনেক সময় সরকার গঠনের পর খুব দ্রুতই তা ভেঙে গেছে, কয়েক মাস বা এক বছরের মধ্যেই অচল হয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য পিআর পদ্ধতি চালু করা মূল উদ্দেশ্য যেন একটাই—সংসদীয় আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা। এটি একটি চক্রান্ত, যা দেশের স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অস্থিরতা তৈরি করবে এবং এতেই সুবিধা পাবে শক্তি যারা চান, দেশ সবসময় অস্থিতিশীল থাকুক। তিনি বলেন, এখনো বিভিন্ন জরিপ প্রকাশ পেয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশ মানুষ পিআর বিষয়টি বোঝে না, আর অন্য এক জরিপে দাবি করা হয়েছে, ৭০ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতি চান। এইসব বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জাতিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্তকেই তিনি আখ্যা দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জনগণ যদি সঠিকভাবে জানে না যে, তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থী কারা, তাহলে সরাসরি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সুযোগ কোথায় রইল? এতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ দুর্বল হয়ে পড়ে। তিনি মনে করেন, সংবিধান ও আইনের শাসনের বাইরে গিয়ে কোনো সংস্কার দেশের জন্য সুখকর হবে না। তিনি বলেন, আমরা সংবিধানিক ধারায় থাকতে চাই, কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক দাবি মেনে নেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে উন্নত দেশের মতো স্বনির্বাচিত কমিশন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এই নেতা।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল ও রাগিব রউফ চৌধুরী। সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ওয়াসি পারভেজ তাহসিন।