০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন

দেশের জনগণের সাশ্রয়ী ও গুণগত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের মানবিক ও পেশাদার দক্ষতা জোরদার করুন—এই বার্তাই দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ ১ মার্চ অনুষ্ঠিত শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠানে ১৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক নিজেকে এমন একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নেন। অনুষ্ঠানটি বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় এবং মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফেজ-এ বিভিন্ন অনুষদের নবীনরা এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসাবিদ্যায় আবদ্ধতা শেষ নেই; দক্ষতা ও মানবিকতার সংমিশ্রণে প্রতিবেশী রোগীর প্রতি মমত্ববোধ দেখিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীদের দেশের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা দিতে পারা, যাতে তাদের বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন না পড়ে। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের আবাসনের জন্য হোস্টেল নির্মাণে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বারোপ করেন এবং নবীন চিকিৎসকদের পরামর্শ দেন যে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মোহঃ জহিরুল ইসলাম শাকিলও নবীন চিকিৎসকদের আগামী দিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম, যিনি নবাগতদের শপথ বাক্য পাঠ করান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-লগবুক ও ই-আইআরবির মতো উদ্যোগ আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে। গবেষণার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে বিএমইউ থেকে ১১শ’টিরও বেশি গবেষণার ফলাফল ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য তিনি চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশবরেণ্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে তাদের উৎসাহিত করেন।

সব মিলিয়ে উৎসবমুখর এ আয়োজনে আগামী দিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো—অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন

প্রকাশিতঃ ০৮:২৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

দেশের জনগণের সাশ্রয়ী ও গুণগত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের মানবিক ও পেশাদার দক্ষতা জোরদার করুন—এই বার্তাই দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ ১ মার্চ অনুষ্ঠিত শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠানে ১৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক নিজেকে এমন একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নেন। অনুষ্ঠানটি বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় এবং মার্চ ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ফেজ-এ বিভিন্ন অনুষদের নবীনরা এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসাবিদ্যায় আবদ্ধতা শেষ নেই; দক্ষতা ও মানবিকতার সংমিশ্রণে প্রতিবেশী রোগীর প্রতি মমত্ববোধ দেখিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীদের দেশের মধ্যে উন্নত চিকিৎসা দিতে পারা, যাতে তাদের বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন না পড়ে। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের আবাসনের জন্য হোস্টেল নির্মাণে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বারোপ করেন এবং নবীন চিকিৎসকদের পরামর্শ দেন যে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মোহঃ জহিরুল ইসলাম শাকিলও নবীন চিকিৎসকদের আগামী দিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম, যিনি নবাগতদের শপথ বাক্য পাঠ করান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-লগবুক ও ই-আইআরবির মতো উদ্যোগ আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে। গবেষণার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে বিএমইউ থেকে ১১শ’টিরও বেশি গবেষণার ফলাফল ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য তিনি চিকিৎসকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশবরেণ্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে তাদের উৎসাহিত করেন।

সব মিলিয়ে উৎসবমুখর এ আয়োজনে আগামী দিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো—অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে।