০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন

দেশের মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ১৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক। রোববার (১ মার্চ) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। মার্চ ২০২৬ শিক্ষা বর্ষের ফেজ-এ বিভিন্ন অনুষদে ভর্তিকৃত নতুন এই চিকিৎসকদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার কোনো শেষ নেই; পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিকতাও অপরিহার্য। প্রতিটি চিকিৎসককে রোগীর প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য যাতে রোগীরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে না যেতে হয়— সেই মানের চিকিৎসা দেশে তৈরি করাই প্রত্যেকের দায়িত্ব। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে সরকারের plena সহায়তার আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি বক্তব্যে মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং রেসিডেন্টদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্তের পরামর্শ দেন, যাতে তারা আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন। অনুষ্ঠানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল নবীন চিকিৎসকদের আগামী দিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতির আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও শপথ বাক্য পাঠ করান বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। তিনি বলেন, বিএমইউতে ই-লগবুক ও ই-আইআরবির চালু হওয়ায় চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ বেড়েছে। গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার একশ গবেষণার ফল ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য তিনি বিশেষভাবে চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ করেন।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে নবীনদের উৎসাহিত করেন।

সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী দিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো—প্রতিজ্ঞা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মিশ্রণে তারা দেশি-বিদেশি রোগীদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন

প্রকাশিতঃ ১১:৪১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

দেশের মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ১৩০৬ জন নবাগত রেসিডেন্ট চিকিৎসক। রোববার (১ মার্চ) বিএমইউর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘রেসিডেন্সি ইনডাকশন প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। মার্চ ২০২৬ শিক্ষা বর্ষের ফেজ-এ বিভিন্ন অনুষদে ভর্তিকৃত নতুন এই চিকিৎসকদের বরণ করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার কোনো শেষ নেই; পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে মানবিকতাও অপরিহার্য। প্রতিটি চিকিৎসককে রোগীর প্রতি মমত্ববোধ নিয়ে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য যাতে রোগীরা চিকিৎসার জন্য বিদেশে না যেতে হয়— সেই মানের চিকিৎসা দেশে তৈরি করাই প্রত্যেকের দায়িত্ব। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিএমইউতে মলিকুলার ল্যাবরেটরি, আধুনিক লাইব্রেরি এবং রেসিডেন্টদের জন্য আবাসিক হোস্টেল নির্মাণে সরকারের plena সহায়তার আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশেষ অতিথি বক্তব্যে মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং রেসিডেন্টদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকসের মতো আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্তের পরামর্শ দেন, যাতে তারা আন্তর্জাতিকমানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন। অনুষ্ঠানে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল নবীন চিকিৎসকদের আগামী দিনের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতির আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও শপথ বাক্য পাঠ করান বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম। তিনি বলেন, বিএমইউতে ই-লগবুক ও ই-আইআরবির চালু হওয়ায় চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ বেড়েছে। গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার একশ গবেষণার ফল ইনডেক্সড জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসার মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য তিনি বিশেষভাবে চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ করেন।

বিএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। অনুষ্ঠানে সার্জারি অনুষদের ৫৪৩ জন, মেডিসিন অনুষদের ৪০০ জন, শিশু অনুষদের ১২৪ জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ১৫৬ জন এবং ডেন্টাল অনুষদের ৮৩ জন রেসিডেন্ট অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে নবীনদের উৎসাহিত করেন।

সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী দিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের যাত্রা শুরু হলো—প্রতিজ্ঞা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার মিশ্রণে তারা দেশি-বিদেশি রোগীদের মানসম্মত সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোবেন।