১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ৪০ শতাংশ কমে গেছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে ২০ শতাংশ কমে যায়। গত চার মাসে এই পতনের হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট থেকে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর এই প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠে, যার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে ভারতের অস্বীকৃতি এবং এর উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দিল্লিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) সহ-প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের বিক্রয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর খাত যেমন বস্ত্র, রত্ন ও গয়না, প্রকৌশলজাত পণ্য এবং রাসায়নিক শিল্প এই শুল্কের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে, এবং এই খাতে রফতানি খুবই কমে গিয়েছে।

মে মাসে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ছিল ৮.৮ বিলিয়ন ডলার, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে নেমে এসেছে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে। এর ফলে রপ্তানি সংক্রান্ত হ্রাস হয়েছে ৩৭.৫ শতাংশ। চার মাসের ধারাবাহিক কমতির কারণে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে, যা সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দাঁড়িয়েছে ৩২.১৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে কিছুটা হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধি এই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত মাসে ভারতের ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার পুনরায় শুরু হয় এবং আগামী মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এখন ভারতীয় একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।

বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।

অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহকারিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এই সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য আগ্রহী।

যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতের বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। বহু বছর ধরে মার্কিন সরকার ভারতের কৃষি খাতকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখছে, কিন্তু নয়াদিল্লি খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের জীবিকা ও অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষা করার কারণ দেখিয়ে এই খাতের ওপর অটুট থাকছে।

প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ছিল, তবে ২০২৪ সালে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ছিল ১৯০ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প ও মোদি দুজনই এই অঙ্ককে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উন্নীত করার লক্ষ্য রেখেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক শুল্কযুদ্ধ সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় রকমের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ৪০ শতাংশ কমে গেছে

প্রকাশিতঃ ১০:৪৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে ২০ শতাংশ কমে যায়। গত চার মাসে এই পতনের হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট থেকে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর এই প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠে, যার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে ভারতের অস্বীকৃতি এবং এর উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দিল্লিভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) সহ-প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের বিক্রয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর খাত যেমন বস্ত্র, রত্ন ও গয়না, প্রকৌশলজাত পণ্য এবং রাসায়নিক শিল্প এই শুল্কের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে, এবং এই খাতে রফতানি খুবই কমে গিয়েছে।

মে মাসে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ছিল ৮.৮ বিলিয়ন ডলার, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে নেমে এসেছে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে। এর ফলে রপ্তানি সংক্রান্ত হ্রাস হয়েছে ৩৭.৫ শতাংশ। চার মাসের ধারাবাহিক কমতির কারণে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে, যা সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দাঁড়িয়েছে ৩২.১৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে কিছুটা হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধি এই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গত মাসে ভারতের ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার পুনরায় শুরু হয় এবং আগামী মাসের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এখন ভারতীয় একটি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।

বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে।

অপরদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহকারিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এই সহযোগিতা আরও গভীর করার জন্য আগ্রহী।

যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতের বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। বহু বছর ধরে মার্কিন সরকার ভারতের কৃষি খাতকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে দেখছে, কিন্তু নয়াদিল্লি খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের জীবিকা ও অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষা করার কারণ দেখিয়ে এই খাতের ওপর অটুট থাকছে।

প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ছিল, তবে ২০২৪ সালে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ছিল ১৯০ বিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প ও মোদি দুজনই এই অঙ্ককে ৫০০ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উন্নীত করার লক্ষ্য রেখেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক শুল্কযুদ্ধ সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় রকমের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।