১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

নবীনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা-গুলিবর্ষণে নিহত ১, আহত ৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণিশাহ মাজার বাজার ও তার আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত অনুমানিক ৯টার দিকে বড়িকান্দি গণিশাহ মাজার বাজারের একটি হোটেলে বসে ছিলেন স্থানীয় কুখ্যাত ডাকাত মোন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০)। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হোটেলে ঢুকে গুলি ছোড়ে। এতে শিপন মিয়া, হোটেলের দুই কর্মচারী ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হন। গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কित হয়ে পড়ে। হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, পরে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিপন মিয়া মারা যান।

খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিপনের পরিবারের লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় প্রতিপক্ষের এলাকায় হামলা চালায়। তারা গণিশাহ মাজারের পাশের তালতলায় গিয়ে স্থানীয় একজন শিক্ষক, এমরান হোসেন মাস্টার, এর অফিসে গুলি চালায়। এমরান মাস্টার (৩৮) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঢাকায় কর্মরত পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই এবং শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এরপর বিক্ষুব্ধরা থোল্লাকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

খবর পেয়ে রাতেই নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক ও থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এনিয়ে নবীনগর থানার ওসি মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, “গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা শান্তিপূর্ণ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতার জের।”

এ ঘটনায় এখনো এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

নবীনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা-গুলিবর্ষণে নিহত ১, আহত ৩

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণিশাহ মাজার বাজার ও তার আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত অনুমানিক ৯টার দিকে বড়িকান্দি গণিশাহ মাজার বাজারের একটি হোটেলে বসে ছিলেন স্থানীয় কুখ্যাত ডাকাত মোন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাতের ছেলে শিপন মিয়া (৩০)। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হোটেলে ঢুকে গুলি ছোড়ে। এতে শিপন মিয়া, হোটেলের দুই কর্মচারী ইয়াছিন (২০) ও নূর আলম (১৮) গুলিবিদ্ধ হন। গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কित হয়ে পড়ে। হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহতদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, পরে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিপন মিয়া মারা যান।

খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিপনের পরিবারের লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে সশস্ত্র অবস্থায় প্রতিপক্ষের এলাকায় হামলা চালায়। তারা গণিশাহ মাজারের পাশের তালতলায় গিয়ে স্থানীয় একজন শিক্ষক, এমরান হোসেন মাস্টার, এর অফিসে গুলি চালায়। এমরান মাস্টার (৩৮) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ঢাকায় কর্মরত পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই এবং শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

এরপর বিক্ষুব্ধরা থোল্লাকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

খবর পেয়ে রাতেই নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাক ও থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এনিয়ে নবীনগর থানার ওসি মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, “গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা শান্তিপূর্ণ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতার জের।”

এ ঘটনায় এখনো এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুত।