১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২ ডিআইজি ও ১ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তার বদলি যুক্তরাজ্য নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী: ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক প্রধানমন্ত্রী সরানোর নির্দেশ দিলেন অভিনন্দনবাণী সহ বিলবোর্ড ও ব্যানার দ্রুত অপসারণের দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও দুই কমিশনার পদত্যাগ অভিনন্দনবাহী বিলবোর্ড দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যে — ইরানে নিহত বেড়ে ৭৮৭

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার খবরের পর শুরু হওয়া উত্তেজনা চার দিনেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে এবং তেহরান, তেল আবিব ও উপসাগরীয় বিভিন্ন রাজধানীতে বিস্ফোরণের ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার জবাবে ইরানও প্রতিষ্ঠান ও সামরিক ক্ষেত্র লক্ষ্য করে পাল্টা প্রতিহিংসা চালাচ্ছে, ফলে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। (খবর: দ্য গার্ডিয়ান)

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, শনিবার থেকে দেশটিতে ব্যাপক আকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে এবং বোমায় ধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার ও তল্লাশির কাজ চালানো হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা রিপোর্ট অনুযায়ী এখন ৭৮৭।

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননের শীর্ষ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা চালায়; এর জবাবে ইসরায়েল বৈরুতে একাধিক স্থানে বিমান ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘ তৎক্ষণাৎ যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসার লক্ষণ মেলেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যকে নয়, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তৎপর কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান অংশবিশেষে মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকান স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুইটি ড্রোন হামলার ফলে সেখানে ‘সীমিত মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বাহরাইনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ওমানে দুকম (Duqm) বাণিজ্যিক বন্দরের পাশে একটি তেলের জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে। এসব হামলার ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর আঞ্চলিক চাপ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাতটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং প্রয়োজনে ইরানে স্থল অভিযান চালানোর হুমকিও দিয়েছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়। অন্যদিকে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা ‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত’ প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে—এমন প্রতিশ্রুতি সংঘাতকে আরও তীব্র করার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

এই উন্নত সংকটের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছে। ১৪টি দেশের তালিকায় রয়েছে: বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন (পশ্চিমতীর ও গাজা), জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং জর্দান, বাহরাইন, কাতার, ইরাক ও আমিরাতে জরুরি নয় এমন কর্মীদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিশোধমুখী কার্যক্রমের মধ্যে সাইবার যুদ্ধও উঠে এসেছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের প্রতিনিধি সংগঠন আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের প্রায় ১৬০টি তথ্যকেন্দ্রে সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর পেতাহ তিকভায় আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।

সংকটজনিত পরিস্থিতির আরেকটি দৃশ্য হলো দুবাই থেকে বিক্ষিপ্ত ও তাত্ক্ষণিক প্রস্থানে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি। বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ বা সীমিত হওয়ায় অনেক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রাইভেট জেটে পালাচ্ছেন, যার ফলে চার্টার্ড জেটের ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ব্রোকারদের তথ্যে, মাসকাট থেকে ইস্তানবুলগামী ছোট জেটের ভাড়া এখন প্রায় ৮৫ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা) এবং রিয়াদ থেকে ইউরোপগামী ফ্লাইটের ভাড়া কয়েক ঘটনা অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যায়ে উঠেছে। বিমা জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণেও অনেক অপারেটর ফ্লাইট চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিপদ এড়াতে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন বিলাসবহুল যানবাহন ব্যবহার করে গ্রাহকদের রিয়াদ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা পথ দিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে, কারণ রিয়াদ বিমানবন্দর এখনও কার্যক্রম চালু আছে।

আঞ্চলিক দিক থেকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো গৃহীত না হলে ঘটনাগুলো আরও বিস্তৃত ও জটিল রূপ নিতে পারে—এই শঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে ছড়িয়ে আছে। পরিস্থিতি খুবই প্রাযুক্তিক ও পরিবর্তনশীল; তাই প্রত্যেক কবোদর ও পর্যবেক্ষক এই সংকট সম্পর্কে সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২ ডিআইজি ও ১ অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তার বদলি

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ল মধ্যপ্রাচ্যে — ইরানে নিহত বেড়ে ৭৮৭

প্রকাশিতঃ ০৮:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার খবরের পর শুরু হওয়া উত্তেজনা চার দিনেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে এবং তেহরান, তেল আবিব ও উপসাগরীয় বিভিন্ন রাজধানীতে বিস্ফোরণের ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলার জবাবে ইরানও প্রতিষ্ঠান ও সামরিক ক্ষেত্র লক্ষ্য করে পাল্টা প্রতিহিংসা চালাচ্ছে, ফলে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। (খবর: দ্য গার্ডিয়ান)

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, শনিবার থেকে দেশটিতে ব্যাপক আকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চলছে এবং বোমায় ধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার ও তল্লাশির কাজ চালানো হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা রিপোর্ট অনুযায়ী এখন ৭৮৭।

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননের শীর্ষ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা চালায়; এর জবাবে ইসরায়েল বৈরুতে একাধিক স্থানে বিমান ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘ তৎক্ষণাৎ যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসার লক্ষণ মেলেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যকে নয়, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তৎপর কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে ইরান অংশবিশেষে মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকান স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুইটি ড্রোন হামলার ফলে সেখানে ‘সীমিত মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বাহরাইনের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ওমানে দুকম (Duqm) বাণিজ্যিক বন্দরের পাশে একটি তেলের জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে। এসব হামলার ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর আঞ্চলিক চাপ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাতটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং প্রয়োজনে ইরানে স্থল অভিযান চালানোর হুমকিও দিয়েছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়। অন্যদিকে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা ‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত’ প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে—এমন প্রতিশ্রুতি সংঘাতকে আরও তীব্র করার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

এই উন্নত সংকটের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছে। ১৪টি দেশের তালিকায় রয়েছে: বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন (পশ্চিমতীর ও গাজা), জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং জর্দান, বাহরাইন, কাতার, ইরাক ও আমিরাতে জরুরি নয় এমন কর্মীদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিশোধমুখী কার্যক্রমের মধ্যে সাইবার যুদ্ধও উঠে এসেছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের প্রতিনিধি সংগঠন আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের প্রায় ১৬০টি তথ্যকেন্দ্রে সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর পেতাহ তিকভায় আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।

সংকটজনিত পরিস্থিতির আরেকটি দৃশ্য হলো দুবাই থেকে বিক্ষিপ্ত ও তাত্ক্ষণিক প্রস্থানে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি। বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ বা সীমিত হওয়ায় অনেক ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রাইভেট জেটে পালাচ্ছেন, যার ফলে চার্টার্ড জেটের ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ব্রোকারদের তথ্যে, মাসকাট থেকে ইস্তানবুলগামী ছোট জেটের ভাড়া এখন প্রায় ৮৫ হাজার ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা) এবং রিয়াদ থেকে ইউরোপগামী ফ্লাইটের ভাড়া কয়েক ঘটনা অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যায়ে উঠেছে। বিমা জটিলতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণেও অনেক অপারেটর ফ্লাইট চালাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিপদ এড়াতে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন বিলাসবহুল যানবাহন ব্যবহার করে গ্রাহকদের রিয়াদ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা পথ দিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে, কারণ রিয়াদ বিমানবন্দর এখনও কার্যক্রম চালু আছে।

আঞ্চলিক দিক থেকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো গৃহীত না হলে ঘটনাগুলো আরও বিস্তৃত ও জটিল রূপ নিতে পারে—এই শঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে ছড়িয়ে আছে। পরিস্থিতি খুবই প্রাযুক্তিক ও পরিবর্তনশীল; তাই প্রত্যেক কবোদর ও পর্যবেক্ষক এই সংকট সম্পর্কে সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে।