০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর ব্রিজ নির্মাণের দাবি জোরদার

ঢাকার কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া থেকে কামরাঙ্গীরচর ঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লাখো মানুষ এখানে নদী পার করতে ভিড় জমান। বুড়িগঙ্গার মতো বিশাল এই নদীতে আশপাশের ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় কোনও স্থায়ী ব্রিজ নেই, ফলে ভরসা শুধু নৌকা। এই কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হন। মাঝেমধ্যে বালুবাহী বালহেটের সঙ্গে নৌকার সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটে, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘ ৫৪ বছর পার হলেও এই রুটে এখনো কোনও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ অঞ্চলের কিছু মানুষ কম বেতন বা অর্ধেক টাকায় নৌকা চালান। স্কুল-কলেজে পড়তে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নদী পার হওয়া এক বিশাল বিপদ। নদী পারাপারের জন্য পরিবার-পরিজনের খরচ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ইজারাদারদের অত্যাচার, যেখানে তারা ভাড়া নিয়ে টানাহেঁচড়া করে, বাজে ব্যবহার করে এবং কখনো কখনো হয়রানির শিকার হয় যাত্রীরা। অপ্রতুল মূল্যে ঘাটের ইজারা নিয়ে তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

একজন তরুণ আরিফ বলেন, আমি বড় হয়ে শুনেছি, এই নদীর ওপর ব্রিজ হবে, কিন্তু এখনো হয়নি। প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হচ্ছি, এর জন্য বেশ কষ্ট হচ্ছে। ইজারাদারদের ব্যবহারও খুব খারাপ। ছোট ছেলেমেয়েররাও ইজারার টাকা দিতে না চাইলে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি দ্রুত দেখানোর প্রয়োজন।

অন্যদিকে গৃহবধূ সাদিয়া অফরিন বলেন, এক পাশে বাবার বাড়ি, অন্য পাশে শাশুড়ির বাড়ি; যখন যাতায়াত করি, তখন তিন সন্তানকে নিয়ে নৌকায় উঠতে ভয় হয়। কখন দুর্ঘটনা ঘটে জানি না। ইজারাদারদের খামখেয়ালি আচরণ স্বাভাবিক ভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নৌকায় মালামাল আনার-নেয়ার সময় কত ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মালামাল নষ্ট হয়েছে। যদি এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ তৈরি হয়, তবে যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও অনেক উন্নত হবে। কিন্তু এত বছরেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কেরানীগঞ্জের সাবেক এমপি আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাবুবাজার ব্রিজ, বসিলা ব্রিজ আমরা তৈরি করেছি, কখনোই থামিনি। যদি সন্ধান পান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবসময় প্রথমে খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর ব্রিজ হবে।

স্থানীয়দের মতে, পোস্তগোলা, বাবুবাজার ও বসিলা ব্রিজ কেরানীগঞ্জের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এবং ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের দোহার, নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ আরও কয়েকটি জেলা থেকে রাজধানীতে আসার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং আধুনিক ব্রিজের নির্মাণ এখন সময়ের প্রকাশ্য দাবি।

খোলামোড়া ও কামরাঙ্গীরচর দুই পাড়ের লাখো মানুষের মুখে শুধু একটাই প্রশ্ন—বিশ্বাস কবে বাস্তবায়িত হবে এই ব্রিজ? আর না হলে পরিস্থিতির বাধা কোথায়? তারা এখন আর কোন আশ্বাস যত্নে না নিয়ে, বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর ব্রিজ নির্মাণের দাবি জোরদার

প্রকাশিতঃ ০১:০৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকার কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া থেকে কামরাঙ্গীরচর ঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লাখো মানুষ এখানে নদী পার করতে ভিড় জমান। বুড়িগঙ্গার মতো বিশাল এই নদীতে আশপাশের ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকায় কোনও স্থায়ী ব্রিজ নেই, ফলে ভরসা শুধু নৌকা। এই কারণে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হন। মাঝেমধ্যে বালুবাহী বালহেটের সঙ্গে নৌকার সংঘর্ষে দুর্ঘটনা ঘটে, প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘ ৫৪ বছর পার হলেও এই রুটে এখনো কোনও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এ অঞ্চলের কিছু মানুষ কম বেতন বা অর্ধেক টাকায় নৌকা চালান। স্কুল-কলেজে পড়তে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নদী পার হওয়া এক বিশাল বিপদ। নদী পারাপারের জন্য পরিবার-পরিজনের খরচ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ইজারাদারদের অত্যাচার, যেখানে তারা ভাড়া নিয়ে টানাহেঁচড়া করে, বাজে ব্যবহার করে এবং কখনো কখনো হয়রানির শিকার হয় যাত্রীরা। অপ্রতুল মূল্যে ঘাটের ইজারা নিয়ে তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

একজন তরুণ আরিফ বলেন, আমি বড় হয়ে শুনেছি, এই নদীর ওপর ব্রিজ হবে, কিন্তু এখনো হয়নি। প্রতিদিন নৌকায় নদী পার হচ্ছি, এর জন্য বেশ কষ্ট হচ্ছে। ইজারাদারদের ব্যবহারও খুব খারাপ। ছোট ছেলেমেয়েররাও ইজারার টাকা দিতে না চাইলে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি দ্রুত দেখানোর প্রয়োজন।

অন্যদিকে গৃহবধূ সাদিয়া অফরিন বলেন, এক পাশে বাবার বাড়ি, অন্য পাশে শাশুড়ির বাড়ি; যখন যাতায়াত করি, তখন তিন সন্তানকে নিয়ে নৌকায় উঠতে ভয় হয়। কখন দুর্ঘটনা ঘটে জানি না। ইজারাদারদের খামখেয়ালি আচরণ স্বাভাবিক ভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নৌকায় মালামাল আনার-নেয়ার সময় কত ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মালামাল নষ্ট হয়েছে। যদি এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ তৈরি হয়, তবে যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও অনেক উন্নত হবে। কিন্তু এত বছরেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কেরানীগঞ্জের সাবেক এমপি আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাবুবাজার ব্রিজ, বসিলা ব্রিজ আমরা তৈরি করেছি, কখনোই থামিনি। যদি সন্ধান পান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবসময় প্রথমে খোলামোড়া-কামরাঙ্গীরচর ব্রিজ হবে।

স্থানীয়দের মতে, পোস্তগোলা, বাবুবাজার ও বসিলা ব্রিজ কেরানীগঞ্জের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এবং ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের দোহার, নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ আরও কয়েকটি জেলা থেকে রাজধানীতে আসার জন্য যথেষ্ট নয়। তাই একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং আধুনিক ব্রিজের নির্মাণ এখন সময়ের প্রকাশ্য দাবি।

খোলামোড়া ও কামরাঙ্গীরচর দুই পাড়ের লাখো মানুষের মুখে শুধু একটাই প্রশ্ন—বিশ্বাস কবে বাস্তবায়িত হবে এই ব্রিজ? আর না হলে পরিস্থিতির বাধা কোথায়? তারা এখন আর কোন আশ্বাস যত্নে না নিয়ে, বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।