০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

আজ, ৭ নভেম্বর, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই দিনটি দেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে, কারণ এদিনটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল মুহূর্ত যেখানে সেনা সদস্যরা সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক ন্যায়জীবনীমূলক আন্দোলন গড়ে তোলে। এর ফলশ্রুতিতে শহীদ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্তি পান বন্দিদশা থেকে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিশা পাল্টে যায় নতুন এক ধারায়। এটি কেবল একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাত্রা ছাড়াই, বরং এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় আত্মজাগরণের সূচনা। এই দিনে সেনা ও সাধারণ জনগণ একসঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার চেতনা এবং জাতীয় সংহতির জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এরপর দেশের সামনে ছিল পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্নির্মাণের সময় নানা অন্তঃকলহ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও প্রশাসনিক অক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, একদলীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা এবং সীমিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা—এসব সমস্যার কারণে দেশের মধ্যে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছিল। অবশেষে, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা। এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। এটি কেবল ইতিহাসের পাতােই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আজও এই দিনটি দেশের একতার মূর্ত প্রতীক। এই বিশেষ দিন উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ১০ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ৭ নভেম্বর সকালে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ১০টায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দসহ সমগ্র কর্মীসула শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। দুপুর ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও এই দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে। দলের কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের সদস্য মুজিবুল আলম জানান, সংগঠনটি এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য প্রকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এই দিনটি যেন দেশের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ও গৌরবময় দিন হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতারা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

আজ, ৭ নভেম্বর, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই দিনটি দেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে, কারণ এদিনটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল মুহূর্ত যেখানে সেনা সদস্যরা সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক ন্যায়জীবনীমূলক আন্দোলন গড়ে তোলে। এর ফলশ্রুতিতে শহীদ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্তি পান বন্দিদশা থেকে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিশা পাল্টে যায় নতুন এক ধারায়। এটি কেবল একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাত্রা ছাড়াই, বরং এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় আত্মজাগরণের সূচনা। এই দিনে সেনা ও সাধারণ জনগণ একসঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার চেতনা এবং জাতীয় সংহতির জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এরপর দেশের সামনে ছিল পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্নির্মাণের সময় নানা অন্তঃকলহ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও প্রশাসনিক অক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, একদলীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা এবং সীমিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা—এসব সমস্যার কারণে দেশের মধ্যে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছিল। অবশেষে, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা। এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। এটি কেবল ইতিহাসের পাতােই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আজও এই দিনটি দেশের একতার মূর্ত প্রতীক। এই বিশেষ দিন উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ১০ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ৭ নভেম্বর সকালে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ১০টায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দসহ সমগ্র কর্মীসула শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। দুপুর ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও এই দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে। দলের কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের সদস্য মুজিবুল আলম জানান, সংগঠনটি এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য প্রকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এই দিনটি যেন দেশের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ও গৌরবময় দিন হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতারা।