১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

আজ, ৭ নভেম্বর, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই দিনটি দেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে, কারণ এদিনটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল মুহূর্ত যেখানে সেনা সদস্যরা সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক ন্যায়জীবনীমূলক আন্দোলন গড়ে তোলে। এর ফলশ্রুতিতে শহীদ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্তি পান বন্দিদশা থেকে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিশা পাল্টে যায় নতুন এক ধারায়। এটি কেবল একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাত্রা ছাড়াই, বরং এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় আত্মজাগরণের সূচনা। এই দিনে সেনা ও সাধারণ জনগণ একসঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার চেতনা এবং জাতীয় সংহতির জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এরপর দেশের সামনে ছিল পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্নির্মাণের সময় নানা অন্তঃকলহ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও প্রশাসনিক অক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, একদলীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা এবং সীমিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা—এসব সমস্যার কারণে দেশের মধ্যে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছিল। অবশেষে, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা। এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। এটি কেবল ইতিহাসের পাতােই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আজও এই দিনটি দেশের একতার মূর্ত প্রতীক। এই বিশেষ দিন উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ১০ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ৭ নভেম্বর সকালে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ১০টায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দসহ সমগ্র কর্মীসула শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। দুপুর ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও এই দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে। দলের কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের সদস্য মুজিবুল আলম জানান, সংগঠনটি এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য প্রকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এই দিনটি যেন দেশের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ও গৌরবময় দিন হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতারা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

আজ, ৭ নভেম্বর, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। এই দিনটি দেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে, কারণ এদিনটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল মুহূর্ত যেখানে সেনা সদস্যরা সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক ন্যায়জীবনীমূলক আন্দোলন গড়ে তোলে। এর ফলশ্রুতিতে শহীদ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্তি পান বন্দিদশা থেকে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিশা পাল্টে যায় নতুন এক ধারায়। এটি কেবল একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাত্রা ছাড়াই, বরং এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে নতুন জাতীয় আত্মজাগরণের সূচনা। এই দিনে সেনা ও সাধারণ জনগণ একসঙ্গে মিলিত হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার চেতনা এবং জাতীয় সংহতির জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এরপর দেশের সামনে ছিল পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্নির্মাণের সময় নানা অন্তঃকলহ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও প্রশাসনিক অক্ষমতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, একদলীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা এবং সীমিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা—এসব সমস্যার কারণে দেশের মধ্যে গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছিল। অবশেষে, এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা। এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’ বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। এটি কেবল ইতিহাসের পাতােই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আজও এই দিনটি দেশের একতার মূর্ত প্রতীক। এই বিশেষ দিন উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি ১০ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ৭ নভেম্বর সকালে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ১০টায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দসহ সমগ্র কর্মীসула শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। দুপুর ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীও এই দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে। দলের কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের সদস্য মুজিবুল আলম জানান, সংগঠনটি এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য প্রকার অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এই দিনটি যেন দেশের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ও গৌরবময় দিন হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতারা।