০৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সড়কে অদক্ষ ড্রাইভার এবং লাইসেন্সের ভোগান্তি

নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহনের কাগজপত্র সংগ্রহে সাধারণ চালকদের বিপুল ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আজকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো এই অপ্রতিরোধ্য সমস্যাগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি।

সোনাইমুড়ীর বাজারে একটি সিএনজি স্ট্যান্ডে যাত্রী অপেক্ষা করছে চালক সাইফুল ইসলাম। তার বাড়ি কালুয়াই গ্রামে। তখন বেলা ১২টা। সাইফুল ওই সময়ে জানিয়েছেন, তিনি গত আট বছর ধরে সিএনজি চালিয়ে জীবন যাপন করছেন। তবে তার সমস্যা হলো, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট বা অন্যান্য জরুরি কাগজপত্রও তার কাছে নেই। প্রতিদিনই ট্রাফিক পুলিশ তার গাড়ি আটক করে এবং লাইসেন্স ও ফিটনেসের কাগজপত্র না থাকায় হয়রানি করেন। অভিযোগ পাওয়া যায় যে, নোয়াখালী বিআরটিএ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা সরকারি ফি’র চেয়ে অনেক বেশি অর্থের ঘুষ চেয়ে থাকেন, যার কারণে লাইসেন্স ও গাড়ির সব কাগজপত্র পেতে পাচ্ছেন না চালকেরা।

অপর এক চালক লিটনের কথাও জানা যায়, তিনি তাঁর অতি কষ্টের অর্থে একটি সিএনজি কেনা.initial তিনি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু তার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, হালনাগাদ ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ও ট্যাক্স টোকেনের কোন কাগজপত্র নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স তো দুরের কথা, নোয়াখালী বিআরটিএ অফিসে গেলে সরকারি ফির চাওয়া হয়, আর তারপরেই দুই গুণ বেশি টাকা ঘুষ দাবি করে। ফলে, তিনি লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নোয়াখালী সার্কেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে ভোগান্তি চলছে। একজন লাইসেন্সের জন্য চার থেকে পাচবার পরীক্ষা দিতে হয়, যেখানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পাসের পর নির্ধারিত খরচের বাইরে আবারো উৎকোচ হিসেবে টাকা দিতে হয় ছবি তোলার জন্য ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার সিরিয়াল পাওয়ার জন্য।

আরও জানা যায়, নোয়াখালীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ডিলার চক্রের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ চাওয়া হয়। সরকার নির্ধারিত পেশাদার লাইসেন্সের জন্য সাধারণত ১৬৭৯ টাকা ও রেফারেন্স বাবদ ৩৪৫ টাকা (মোট ২০২৪ টাকা), অপেশাদারদের জন্য ২৫৪২ টাকা ও রেফারেন্স বাবদ ৫১৮ টাকা (মোট ৩০৬০ টাকা) ব্যাংকে জমা দেয়ার পরে পরীক্ষার আগে থেকেই ২ হাজার টাকা দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই পরিমাণের চেয়েও বেশি টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া, লাইসেন্সের ফাইল, অফিস সহকর্মীর জন্য ভাতা ও ছবি তোলার জন্য আলাদা আলাদা টাকা নেওয়া হয়।

অপরদিকে, সূত্রে জানা যায় যে, নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ২৫ হাজারের বেশি সিএনজি গাড়ির কাগজপত্র নেই। এছাড়া নসিমন, করিমন, ট্রাক্টর, টেম্পু, পিকআপ ও নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ট্রাকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। আন্তঃজেলা বাস ও ট্রাক চালকদের কাগজপত্র থাকলেও বেশিরভাগ অকার্যকর যানবাহনের কাগজপত্র অনুপস্থিত। প্রতিদিন বিভিন্ন থানায় ১০ থেকে ১২টি সিএনজি গাড়ি ধরা হয়, যেখানে থানা কর্তৃপক্ষ এইসব যানবাহন ব্যবহার করেন। তবে এই সময়ে চালকদের কোনও পারিশ্রমিক দিতে হয় না, ফলে আইনত অনুমোদনহীন এসব গাড়ি চলাচল করলেও পুলিশ তেমন আগ্রহী নয়।

বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার দাবিতে চালকদের অর্থ আদায়ে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দিয়ে লাইসেন্স এবং গাড়ির কাগজপত্র না রেখে অপ্রমাণিত গাড়ি চলাচল চালানো হচ্ছে। এর ফলে বিশাল সংখ্যক যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

নোয়াখালীর বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথোয়াইনু চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার ফোনে বারবার কল করার পরেও পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সড়কে অদক্ষ ড্রাইভার এবং লাইসেন্সের ভোগান্তি

প্রকাশিতঃ ১১:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহনের কাগজপত্র সংগ্রহে সাধারণ চালকদের বিপুল ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আজকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো এই অপ্রতিরোধ্য সমস্যাগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি।

সোনাইমুড়ীর বাজারে একটি সিএনজি স্ট্যান্ডে যাত্রী অপেক্ষা করছে চালক সাইফুল ইসলাম। তার বাড়ি কালুয়াই গ্রামে। তখন বেলা ১২টা। সাইফুল ওই সময়ে জানিয়েছেন, তিনি গত আট বছর ধরে সিএনজি চালিয়ে জীবন যাপন করছেন। তবে তার সমস্যা হলো, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট বা অন্যান্য জরুরি কাগজপত্রও তার কাছে নেই। প্রতিদিনই ট্রাফিক পুলিশ তার গাড়ি আটক করে এবং লাইসেন্স ও ফিটনেসের কাগজপত্র না থাকায় হয়রানি করেন। অভিযোগ পাওয়া যায় যে, নোয়াখালী বিআরটিএ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা সরকারি ফি’র চেয়ে অনেক বেশি অর্থের ঘুষ চেয়ে থাকেন, যার কারণে লাইসেন্স ও গাড়ির সব কাগজপত্র পেতে পাচ্ছেন না চালকেরা।

অপর এক চালক লিটনের কথাও জানা যায়, তিনি তাঁর অতি কষ্টের অর্থে একটি সিএনজি কেনা.initial তিনি দীর্ঘ ৬ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু তার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, হালনাগাদ ফিটনেস সার্টিফিকেট, রুট পারমিট ও ট্যাক্স টোকেনের কোন কাগজপত্র নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স তো দুরের কথা, নোয়াখালী বিআরটিএ অফিসে গেলে সরকারি ফির চাওয়া হয়, আর তারপরেই দুই গুণ বেশি টাকা ঘুষ দাবি করে। ফলে, তিনি লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নোয়াখালী সার্কেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে ভোগান্তি চলছে। একজন লাইসেন্সের জন্য চার থেকে পাচবার পরীক্ষা দিতে হয়, যেখানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা পাসের পর নির্ধারিত খরচের বাইরে আবারো উৎকোচ হিসেবে টাকা দিতে হয় ছবি তোলার জন্য ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার সিরিয়াল পাওয়ার জন্য।

আরও জানা যায়, নোয়াখালীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ডিলার চক্রের মাধ্যমে মোটা অংকের অর্থ চাওয়া হয়। সরকার নির্ধারিত পেশাদার লাইসেন্সের জন্য সাধারণত ১৬৭৯ টাকা ও রেফারেন্স বাবদ ৩৪৫ টাকা (মোট ২০২৪ টাকা), অপেশাদারদের জন্য ২৫৪২ টাকা ও রেফারেন্স বাবদ ৫১৮ টাকা (মোট ৩০৬০ টাকা) ব্যাংকে জমা দেয়ার পরে পরীক্ষার আগে থেকেই ২ হাজার টাকা দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই পরিমাণের চেয়েও বেশি টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া, লাইসেন্সের ফাইল, অফিস সহকর্মীর জন্য ভাতা ও ছবি তোলার জন্য আলাদা আলাদা টাকা নেওয়া হয়।

অপরদিকে, সূত্রে জানা যায় যে, নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ২৫ হাজারের বেশি সিএনজি গাড়ির কাগজপত্র নেই। এছাড়া নসিমন, করিমন, ট্রাক্টর, টেম্পু, পিকআপ ও নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ট্রাকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। আন্তঃজেলা বাস ও ট্রাক চালকদের কাগজপত্র থাকলেও বেশিরভাগ অকার্যকর যানবাহনের কাগজপত্র অনুপস্থিত। প্রতিদিন বিভিন্ন থানায় ১০ থেকে ১২টি সিএনজি গাড়ি ধরা হয়, যেখানে থানা কর্তৃপক্ষ এইসব যানবাহন ব্যবহার করেন। তবে এই সময়ে চালকদের কোনও পারিশ্রমিক দিতে হয় না, ফলে আইনত অনুমোদনহীন এসব গাড়ি চলাচল করলেও পুলিশ তেমন আগ্রহী নয়।

বিআরটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি বিভিন্ন আর্থিক সুবিধার দাবিতে চালকদের অর্থ আদায়ে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দিয়ে লাইসেন্স এবং গাড়ির কাগজপত্র না রেখে অপ্রমাণিত গাড়ি চলাচল চালানো হচ্ছে। এর ফলে বিশাল সংখ্যক যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

নোয়াখালীর বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথোয়াইনু চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তার ফোনে বারবার কল করার পরেও পাওয়া যায়নি।