১১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

ধানি জমিতে শিম চাষে কৃষকের নতুন স্বপ্ন

কুমিল্লা সদর জেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ধান চাষের পরিবর্তে এখন শিমের চাষে কৃষকেরা ঝুঁকছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কম খরচে ও অধিক লাভের আশায় এসব কৃষক এখন শিমের চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। আসলে শিমের চাষে লাভের হার ধানের চেয়ে অনেক বেশি, যার ফলে তারা নতুন একটি সম্ভাবনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

রোববার দিগলগাঁও, হাতিগড়া, রায়চো এবং কালিরবাজার কলেজ রোড এলাকার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন দেখা যায়— ধানি জমিতে কাঠি–কেওড়া পদ্ধতিতে রূপবান জাতের শিমের চাষ অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ফলনও শুরু হয়েছে এবং কৃষকেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে তাদের ক্ষেত থেকে শিম সংগ্রহ করে চলেছেন।

স্থানীয় কৃষক মাসুম বিল্লাহ ও কামাল হোসেন জানান, ধানের চেয়ে শিমে চাষের খরচ কম এবং লাভ বেশি। তারা বলছেন— ৩০ শতকের ধানখেতে খরচ হয় aproximadamente ২৭–২৮ হাজার টাকা, আর ধানের দাম সর্বোচ্চ ৩০–৩৩ হাজার টাকা। তাই এবার তারা ধানের বদলে শিমের চাষে মনোযোগ দিয়েছেন।

তারা আরো বলছেন— পরিবেশ যদি সদয় হয় এবং কিছু কিছু সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারেন, তবে খরচ বাদেও তিনগুণ লাভ সম্ভব। ইতোমধ্যে তাদের শিমের আগাম ফসল তোলা শুরু হয়েছে। জমিতে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, আর শহরে বিক্রি হচ্ছে ১৫০–২০০ টাকা কেজি দরে।

মহানগরীর কোটবাড়ি পাহাড়ি এলাকাতে দেখা গেলো— থোকা থোকা রূপবান শিমের ফুল। কিছু শিম ঝুলছে বেগুনি রঙের, আবার বাজারজাতের প্রস্তুতিও চলছে। পাইকারি বাজারে এক কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, আর খুচরা বাজারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেশি পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে। কেবল একটি সমস্যা হলো— টানা বর্ষণে কিছু ফুল ঝরে গেছে যা কাটিয়ে উঠলে আরও ভালো মুনাফা সম্ভব হতো।

জেলার বিভিন্ন স্থানে শীতকালীন সবজি হিসেবে রূপবান শিমের চাষের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এইচটি ইউনিয়নের কালিরবাজার, বুড়িচংয়ের মোকাম, ময়নামতি, ভারেল্লা দক্ষিণ, বরুড়ার আগানগর, চান্দিনার বরকইট এবং দেবিদ্বার উপজেলার চর ও অনাবাদি জমিতেও ব্যাপকভাবে এই জাতের শিমের চাষ শুরু হয়েছে।

আশপাশের কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, দুই বছর আগে জেলায় মাত্র ৬ হেক্টর জমিতে রূপবান শিমের চাষ হত। ধারাবাহিক সফলতা দেখে গত বছর এ পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ হেক্টরে। এ বছরও একই রকম চাষাবাদ হয়েছে এবং কৃষকেরা লাভে আছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, কোটবাড়ি পাহাড়ি এলাকায় অনেক কৃষকই এই শিমের চাষে সফলতা পেয়েছেন। ভবিষ্যতেও এর চাষ বাড়বে বলে প্রত্যাশা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধান চাষের তুলনায় সবজি উৎপাদনে সরকারের মনোযোগ ও সুবিধা বেশি। রূপবান জাতের শিম শীতকালীন অন্যান্য জাতির مقابلিতত তিনগুণ বেশি লাভজনক। কৃষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ করলে পরিবেশ অনুকূল থাকলে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় সম্ভব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

ধানি জমিতে শিম চাষে কৃষকের নতুন স্বপ্ন

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

কুমিল্লা সদর জেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ধান চাষের পরিবর্তে এখন শিমের চাষে কৃষকেরা ঝুঁকছেন। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কম খরচে ও অধিক লাভের আশায় এসব কৃষক এখন শিমের চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন। আসলে শিমের চাষে লাভের হার ধানের চেয়ে অনেক বেশি, যার ফলে তারা নতুন একটি সম্ভাবনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

রোববার দিগলগাঁও, হাতিগড়া, রায়চো এবং কালিরবাজার কলেজ রোড এলাকার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন দেখা যায়— ধানি জমিতে কাঠি–কেওড়া পদ্ধতিতে রূপবান জাতের শিমের চাষ অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ফলনও শুরু হয়েছে এবং কৃষকেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে তাদের ক্ষেত থেকে শিম সংগ্রহ করে চলেছেন।

স্থানীয় কৃষক মাসুম বিল্লাহ ও কামাল হোসেন জানান, ধানের চেয়ে শিমে চাষের খরচ কম এবং লাভ বেশি। তারা বলছেন— ৩০ শতকের ধানখেতে খরচ হয় aproximadamente ২৭–২৮ হাজার টাকা, আর ধানের দাম সর্বোচ্চ ৩০–৩৩ হাজার টাকা। তাই এবার তারা ধানের বদলে শিমের চাষে মনোযোগ দিয়েছেন।

তারা আরো বলছেন— পরিবেশ যদি সদয় হয় এবং কিছু কিছু সমস্যা এড়িয়ে যেতে পারেন, তবে খরচ বাদেও তিনগুণ লাভ সম্ভব। ইতোমধ্যে তাদের শিমের আগাম ফসল তোলা শুরু হয়েছে। জমিতে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, আর শহরে বিক্রি হচ্ছে ১৫০–২০০ টাকা কেজি দরে।

মহানগরীর কোটবাড়ি পাহাড়ি এলাকাতে দেখা গেলো— থোকা থোকা রূপবান শিমের ফুল। কিছু শিম ঝুলছে বেগুনি রঙের, আবার বাজারজাতের প্রস্তুতিও চলছে। পাইকারি বাজারে এক কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, আর খুচরা বাজারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেশি পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে। কেবল একটি সমস্যা হলো— টানা বর্ষণে কিছু ফুল ঝরে গেছে যা কাটিয়ে উঠলে আরও ভালো মুনাফা সম্ভব হতো।

জেলার বিভিন্ন স্থানে শীতকালীন সবজি হিসেবে রূপবান শিমের চাষের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এইচটি ইউনিয়নের কালিরবাজার, বুড়িচংয়ের মোকাম, ময়নামতি, ভারেল্লা দক্ষিণ, বরুড়ার আগানগর, চান্দিনার বরকইট এবং দেবিদ্বার উপজেলার চর ও অনাবাদি জমিতেও ব্যাপকভাবে এই জাতের শিমের চাষ শুরু হয়েছে।

আশপাশের কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, দুই বছর আগে জেলায় মাত্র ৬ হেক্টর জমিতে রূপবান শিমের চাষ হত। ধারাবাহিক সফলতা দেখে গত বছর এ পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ হেক্টরে। এ বছরও একই রকম চাষাবাদ হয়েছে এবং কৃষকেরা লাভে আছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, কোটবাড়ি পাহাড়ি এলাকায় অনেক কৃষকই এই শিমের চাষে সফলতা পেয়েছেন। ভবিষ্যতেও এর চাষ বাড়বে বলে প্রত্যাশা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধান চাষের তুলনায় সবজি উৎপাদনে সরকারের মনোযোগ ও সুবিধা বেশি। রূপবান জাতের শিম শীতকালীন অন্যান্য জাতির مقابلিতত তিনগুণ বেশি লাভজনক। কৃষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ করলে পরিবেশ অনুকূল থাকলে প্রায় ২ লাখ টাকা আয় সম্ভব।