১০:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

শান্তি চুক্তি এখন অসাংবিধানিক: পুতিনের নজরদারি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের বর্তমান সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছেন এবং তাদের সাথে কোন ধরনের শান্তি বা চুক্তি করা এখন অর্থহীন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া নয়, বরং ভবিষ্যতের সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে আলোচনা ও নির্ধারিত হওয়ার জন্য কিছু বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে।

পুতিন দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচনের আয়োজন না করায় কিয়েভ সরকারের বৈধতা বিলীন হয়ে গেছে। তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসন ও চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিন দিনের কিরগিজস্তান সফর শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন পুতিন, যেখানে তিনি বললেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বহু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়া দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের উচিত গুরুত্বের সঙ্গে বসে কথা বলা ও প্রতিটি শব্দের গুরুত্ব বোঝা।

তিনি বললেন, ইউক্রেনের সেনারা যদি দখল করা অঞ্চল থেকে সরে যান, তাহলে যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। অন্যথায়, তারা না-sরে, শীঘ্রই আমরা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেব। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ডোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া এলাকার পুরো অংশ থেকে ইউক্রেনের সেনাদের প্রত্যাহার দরকার—এবং এমনকি যেসব এলাকা এখনও রাশিয়ার দখলে নেই। এছাড়াও, তিনি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান ঠেকাতে ও পশ্চিমা সেনা উপস্থিতি নিষিদ্ধ করতে চান, যেন দেশটি ধীরে ধীরে রাশিয়ার প্রভাবের মধ্যে চলে আসে।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মস্কো সফর ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলের কিয়েভে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়ে আসছে। জানা গেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ চালানোর পর বিশ্বব্যাপী ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করে।

শান্তি বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য মার্কিন-সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতের একটি চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে এবং রাশিয়া এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

পুতিন স্বীকার করেন, এ বিষয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান বিবেচনা করছে, তবে কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে আমরা একমত যে, এটি ভবিষ্যত চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।’ এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের শিগগির মস্কো সফর করার কথা রয়েছে। তিনি যোগ করেন, দনবাস ও ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকাগুলোর বিষয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

গত সপ্তাহে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে রাশিয়া ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো হারাতে পারে। এতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে কিছু এলাকা ছেড়ে দিতে ও ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। পরে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইউক্রেনের মুখ্য উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই কিসলিৎস্যা বলেন, সংশোধিত পরিকল্পনায় ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদস্যের সংখ্যা ছয় লাখের বেশি বলা হয়েছে না, আর যুদ্ধাপরাধীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাবও বাতিল হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

শান্তি চুক্তি এখন অসাংবিধানিক: পুতিনের নজরদারি

প্রকাশিতঃ ১১:৫৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের বর্তমান সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছেন এবং তাদের সাথে কোন ধরনের শান্তি বা চুক্তি করা এখন অর্থহীন। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া নয়, বরং ভবিষ্যতের সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে আলোচনা ও নির্ধারিত হওয়ার জন্য কিছু বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে।

পুতিন দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচনের আয়োজন না করায় কিয়েভ সরকারের বৈধতা বিলীন হয়ে গেছে। তবে কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসন ও চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে নির্বাচন সম্ভব নয়।

তিন দিনের কিরগিজস্তান সফর শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন পুতিন, যেখানে তিনি বললেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বহু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়া দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের উচিত গুরুত্বের সঙ্গে বসে কথা বলা ও প্রতিটি শব্দের গুরুত্ব বোঝা।

তিনি বললেন, ইউক্রেনের সেনারা যদি দখল করা অঞ্চল থেকে সরে যান, তাহলে যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে। অন্যথায়, তারা না-sরে, শীঘ্রই আমরা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেব। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ডোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া এলাকার পুরো অংশ থেকে ইউক্রেনের সেনাদের প্রত্যাহার দরকার—এবং এমনকি যেসব এলাকা এখনও রাশিয়ার দখলে নেই। এছাড়াও, তিনি ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান ঠেকাতে ও পশ্চিমা সেনা উপস্থিতি নিষিদ্ধ করতে চান, যেন দেশটি ধীরে ধীরে রাশিয়ার প্রভাবের মধ্যে চলে আসে।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মস্কো সফর ও মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলের কিয়েভে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়ে আসছে। জানা গেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ চালানোর পর বিশ্বব্যাপী ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করে।

শান্তি বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য মার্কিন-সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাটি ভবিষ্যতের একটি চুক্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে এবং রাশিয়া এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

পুতিন স্বীকার করেন, এ বিষয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান বিবেচনা করছে, তবে কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, ‘সাধারণভাবে আমরা একমত যে, এটি ভবিষ্যত চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।’ এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের শিগগির মস্কো সফর করার কথা রয়েছে। তিনি যোগ করেন, দনবাস ও ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকাগুলোর বিষয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

গত সপ্তাহে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া ফাঁস হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে রাশিয়া ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো হারাতে পারে। এতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে কিছু এলাকা ছেড়ে দিতে ও ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। পরে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ইউক্রেনের মুখ্য উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই কিসলিৎস্যা বলেন, সংশোধিত পরিকল্পনায় ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদস্যের সংখ্যা ছয় লাখের বেশি বলা হয়েছে না, আর যুদ্ধাপরাধীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাবও বাতিল হয়েছে।