০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭) পুনরায় দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেছে যে তারা বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে টেকসই, স্থিতিশীল ও মসৃণ উত্তরণের পাশে থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সমর্থনের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের পৃথক বৈঠকে এই বিষয়গুলো আলোচনা হয়। আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে নির্ধারিত প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার পক্ষে ব্যাপক যুক্তি উপস্থাপন করেন। মন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানান, “চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।”

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে তৎপর থাকায় অতিরিক্ত সময় পেলে এলডিসি পরবর্তী সময়ে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং উত্তরণ প্রক্রিয়াকে স্থায়ী করতে সুবিধা হবে। তিনি যুক্ত করেন যে প্রস্তুতিকাল বাড়ালে দেশের রূপান্তর কার্যক্রমকে আরও নিবিড়ভাবে বাস্তবায়ন করার সুযোগ মিলবে।

রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশের সুশাসন ও উন্নয়নের অগ্রগতিকে প্রশংসা করে বলেন, ইইউ এই ক্রান্তিকালে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে চলমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বিষয়ক আলোচনাকে স্বাগত জানান এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করার গুরুত্বে জোর দেন। জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। তিনি জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন জানান এবং সদস্য রাষ্ট্রদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন—প্রস্তাবটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল গ্রহণ করেছে।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বিজিএমইএ ও লেদারগুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এই সংলাপকে ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে অভিহিত করেন।

আন্তর্জাতিক এই সমর্থন এবং উচ্চপর্যায়ের সংলাপগুলো বাংলাদেশের এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তুতিকাল বাড়ালে নীতি ও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত হবে, যা দেশের অর্থনীতির প্রতিযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭) পুনরায় দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেছে যে তারা বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে টেকসই, স্থিতিশীল ও মসৃণ উত্তরণের পাশে থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সমর্থনের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের পৃথক বৈঠকে এই বিষয়গুলো আলোচনা হয়। আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে নির্ধারিত প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার পক্ষে ব্যাপক যুক্তি উপস্থাপন করেন। মন্ত্রী পরিষ্কারভাবে জানান, “চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের স্বার্থে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।”

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে তৎপর থাকায় অতিরিক্ত সময় পেলে এলডিসি পরবর্তী সময়ে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং উত্তরণ প্রক্রিয়াকে স্থায়ী করতে সুবিধা হবে। তিনি যুক্ত করেন যে প্রস্তুতিকাল বাড়ালে দেশের রূপান্তর কার্যক্রমকে আরও নিবিড়ভাবে বাস্তবায়ন করার সুযোগ মিলবে।

রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশের সুশাসন ও উন্নয়নের অগ্রগতিকে প্রশংসা করে বলেন, ইইউ এই ক্রান্তিকালে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে চলমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বিষয়ক আলোচনাকে স্বাগত জানান এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করার গুরুত্বে জোর দেন। জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্তকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন। তিনি জোটের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন জানান এবং সদস্য রাষ্ট্রদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন—প্রস্তাবটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল গ্রহণ করেছে।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বিজিএমইএ ও লেদারগুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব এই সংলাপকে ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে অভিহিত করেন।

আন্তর্জাতিক এই সমর্থন এবং উচ্চপর্যায়ের সংলাপগুলো বাংলাদেশের এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তুতিকাল বাড়ালে নীতি ও কাঠামোগত সংস্কারের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত হবে, যা দেশের অর্থনীতির প্রতিযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।