০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

খালেদা জিয়ার মাগফিরাতের জন্য পরিবারের দোয়া ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যতে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা রাজধানীর জিয়া উদ্যানে যান। এ সময় খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ তার স্ত্রী শামিলা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, জাহিয়া রহমানসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারতের সময় তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে তার জন্য শুভকামনা জানান। প্রায় ২০ মিনিট তারা সেখানেই অবস্থান করে ফিরে যান।

ফজরের নামাজের পর থেকে সাধারণ মানুষও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও দোয়া করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে জাইমা রহমান ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

এরপর সকাল থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দলীয় নেতা ও সাধারণ মানুষের সমাগমে সেখানে জড়ো হতে থাকেন। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পড়েন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় এবং মোনাজাত করেন। দুর্বার জনপ্রিয়তা ও শ্রদ্ধার মাঝে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার প্রতি একসাথে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বেলা সাড়ে ১১টার পর বিএনপির উচ্চ পদস্থ নেতারা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আখ্যাপ্রাপ্ত নেতারা—আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন, নাজমুল হক প্রধানসহ প্রায় ৯০ জন—খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতা, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মা। আজ তার স্বপ্নের বাস্তবায়নে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ আমরা শেষ করব।’

বিকেল থেকে বিএনপির আরও নেতাকর্মী দলে দলে এসে খালেদা জিয়ার এবাদত ও শ্রদ্ধা জানান। সকাল থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত নানা পর্যায়ের নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে দোয়া করেন।

এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি, যিনি প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নয়, তিনি বাংলাদেশের সকল মানুষের নেত্রী। তার জানাজায় যে জনস্রোত ও অশ্রু দেখেছি, তা বুঝিয়ে দেয় তিনি আমাদের সবচেয়ে প্রিয় নেত্রী। আমরা এই রকম একজন নেত্রী আর পাব না।’

বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে থাকেন, দোয়া পড়েন ও মোনাজাত করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মারা যান। তার পরদিনই তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়، যেখানে দল-মত নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। জানাজার পরে জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকেই দাফন করা হয়।

বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও নেতা–কর্মীরা তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করে যাচ্ছেন। এই শোকঘন নগরীতে যেন এক গভীর শূন্যতা বিরাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

খালেদা জিয়ার মাগফিরাতের জন্য পরিবারের দোয়া ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যতে তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা রাজধানীর জিয়া উদ্যানে যান। এ সময় খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ তার স্ত্রী শামিলা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, জাহিয়া রহমানসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারতের সময় তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে তার জন্য শুভকামনা জানান। প্রায় ২০ মিনিট তারা সেখানেই অবস্থান করে ফিরে যান।

ফজরের নামাজের পর থেকে সাধারণ মানুষও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও দোয়া করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে জাইমা রহমান ও অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক ঘণ্টার জন্য সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

এরপর সকাল থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দলীয় নেতা ও সাধারণ মানুষের সমাগমে সেখানে জড়ো হতে থাকেন। তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া পড়েন, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় এবং মোনাজাত করেন। দুর্বার জনপ্রিয়তা ও শ্রদ্ধার মাঝে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার প্রতি একসাথে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বেলা সাড়ে ১১টার পর বিএনপির উচ্চ পদস্থ নেতারা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আখ্যাপ্রাপ্ত নেতারা—আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন, নাজমুল হক প্রধানসহ প্রায় ৯০ জন—খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতা, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মা। আজ তার স্বপ্নের বাস্তবায়নে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ আমরা শেষ করব।’

বিকেল থেকে বিএনপির আরও নেতাকর্মী দলে দলে এসে খালেদা জিয়ার এবাদত ও শ্রদ্ধা জানান। সকাল থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত নানা পর্যায়ের নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে দোয়া করেন।

এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি, যিনি প্রথমে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে পরে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নয়, তিনি বাংলাদেশের সকল মানুষের নেত্রী। তার জানাজায় যে জনস্রোত ও অশ্রু দেখেছি, তা বুঝিয়ে দেয় তিনি আমাদের সবচেয়ে প্রিয় নেত্রী। আমরা এই রকম একজন নেত্রী আর পাব না।’

বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে থাকেন, দোয়া পড়েন ও মোনাজাত করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মারা যান। তার পরদিনই তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়، যেখানে দল-মত নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। জানাজার পরে জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকেই দাফন করা হয়।

বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও নেতা–কর্মীরা তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করে যাচ্ছেন। এই শোকঘন নগরীতে যেন এক গভীর শূন্যতা বিরাজ করছে।