০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

এনবিআর চালু করল অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের ভোগান্তি কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন সুবিধা চালু করেছে, যা তাদের জন্য অনেকটাই মুখে তাৎক্ষণিক সুবিধাজনক হয়ে উঠবে। এই নতুন প্রক্রিয়ায় করদাতারা এখন দ্বারস্থ না হয়েই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভ্যাটের ফেরত পাবেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এনবিআর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

নবীন এই পদ্ধতিতে ভ্যাট রিফান্ড প্রাপ্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জটিলতা ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর জন্য এনবিআর অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদন প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমান (e-VAT) পদ্ধতিতে একটি নতুন ‘রিফান্ড মডিউল’ যুক্ত করা হয়েছে। এই সিস্টেমটি অর্থ বিভাগের iBAS++ সফটওয়্যার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের BEFTN (Bangladesh Electronic Fund Transfer Network) নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে করদাতাদের পাওনা টাকাগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরবরাহ হতে থাকবে।

নতুন এই ব্যবস্থায় করদাতারা তাদের মাসিক ভ্যাট রিটার্নের মাধ্যমেই অনলাইনে রিফান্ডের আবেদন করতে পারবে। ভ্যাট কমিশনারেটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই আবেদনটির যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে, অর্থটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-এ এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই নতুন অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এখন যেহেতু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিফান্ড দেওয়া হয়, তাদের স্থানীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বৈদ্যুতিন পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়েছে। আগে যেভাবে রিফান্ড দেওয়া হতো, এখন সেই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করে তোলা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রয়োজন হলে আইন সংশোধন করে এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করা হবে।

অর্থবছরে এনবিআর প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা আয় করে, যেখানে অপ্রাপ্য বা রিফান্ডের জন্য রাখা টাকা প্রায় চার হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে ভ্যাটের রিফান্ড প্রায় এক হাজার ষাট শতকোটি টাকা। তিনি বলেন, কোনও করদাতা যেন কোনও ভোগান্তিতে না পড়ে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, ট্যাক্সপেয়ারের ন্যায্য পাওনা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হোক, যাতে কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মের আশ্রয় নিতে না পারে। ট্যাক্সপেয়াররা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকারের কাছে এই টাকা দীর্ঘদিন রেখে থাকেন, অথচ তাদের এই পাওনা দ্রুত না দেওয়ায় অন্যায় হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের এ রিফান্ড ব্যবস্থা এই সব অসুবিধা কমাতে সাহায্য করবে।

চেয়ারম্যান জানান, অর্থবছরের বাজেটে এনবিআর সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি আয় করে, তাই ৪ হাজার কোটি টাকার রিফান্ডও সম্ভবপর হবে বলে মনে করেন।

তিনি অনুষ্ঠানে ঢাকার তিনটি ভ্যাট কমিশনারেটের তিনজন করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা রিফান্ড করেন। অ্যাকাউন্টে এই টাকা পৌঁছানোর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটির সফলতা দেখা গেছে। এই দিন উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধিরা এবং সাংবাদিকগণ।

এনবিআর জানিয়েছে, এই নতুন মডিউল চালুর ফলে রিফান্ডের প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে। আবেদন থেকে টাকা পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এখন ঘরে বসেই করা সম্ভব। যেকোনো তথ্য বা সহায়তার জন্য করদাতাদের সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অতঃপর, এনবিআর বিশ্বাস করে, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা চালু থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরো বৃদ্ধি পাবে, এবং করদাতারা এই উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

এনবিআর চালু করল অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থা

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের ভোগান্তি কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন সুবিধা চালু করেছে, যা তাদের জন্য অনেকটাই মুখে তাৎক্ষণিক সুবিধাজনক হয়ে উঠবে। এই নতুন প্রক্রিয়ায় করদাতারা এখন দ্বারস্থ না হয়েই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভ্যাটের ফেরত পাবেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) এনবিআর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

নবীন এই পদ্ধতিতে ভ্যাট রিফান্ড প্রাপ্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জটিলতা ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর জন্য এনবিআর অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদন প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমান (e-VAT) পদ্ধতিতে একটি নতুন ‘রিফান্ড মডিউল’ যুক্ত করা হয়েছে। এই সিস্টেমটি অর্থ বিভাগের iBAS++ সফটওয়্যার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের BEFTN (Bangladesh Electronic Fund Transfer Network) নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে করদাতাদের পাওনা টাকাগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরবরাহ হতে থাকবে।

নতুন এই ব্যবস্থায় করদাতারা তাদের মাসিক ভ্যাট রিটার্নের মাধ্যমেই অনলাইনে রিফান্ডের আবেদন করতে পারবে। ভ্যাট কমিশনারেটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই আবেদনটির যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলে, অর্থটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-এ এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এই নতুন অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড পদ্ধতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এখন যেহেতু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিফান্ড দেওয়া হয়, তাদের স্থানীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বৈদ্যুতিন পদ্ধতিতে রূপান্তর করা হয়েছে। আগে যেভাবে রিফান্ড দেওয়া হতো, এখন সেই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করে তোলা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রয়োজন হলে আইন সংশোধন করে এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করা হবে।

অর্থবছরে এনবিআর প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা আয় করে, যেখানে অপ্রাপ্য বা রিফান্ডের জন্য রাখা টাকা প্রায় চার হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে ভ্যাটের রিফান্ড প্রায় এক হাজার ষাট শতকোটি টাকা। তিনি বলেন, কোনও করদাতা যেন কোনও ভোগান্তিতে না পড়ে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই, ট্যাক্সপেয়ারের ন্যায্য পাওনা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হোক, যাতে কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মের আশ্রয় নিতে না পারে। ট্যাক্সপেয়াররা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকারের কাছে এই টাকা দীর্ঘদিন রেখে থাকেন, অথচ তাদের এই পাওনা দ্রুত না দেওয়ায় অন্যায় হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের এ রিফান্ড ব্যবস্থা এই সব অসুবিধা কমাতে সাহায্য করবে।

চেয়ারম্যান জানান, অর্থবছরের বাজেটে এনবিআর সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি আয় করে, তাই ৪ হাজার কোটি টাকার রিফান্ডও সম্ভবপর হবে বলে মনে করেন।

তিনি অনুষ্ঠানে ঢাকার তিনটি ভ্যাট কমিশনারেটের তিনজন করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা রিফান্ড করেন। অ্যাকাউন্টে এই টাকা পৌঁছানোর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটির সফলতা দেখা গেছে। এই দিন উপস্থিত ছিলেন প্রতিনিধিরা এবং সাংবাদিকগণ।

এনবিআর জানিয়েছে, এই নতুন মডিউল চালুর ফলে রিফান্ডের প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল হবে। আবেদন থেকে টাকা পাওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এখন ঘরে বসেই করা সম্ভব। যেকোনো তথ্য বা সহায়তার জন্য করদাতাদের সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অতঃপর, এনবিআর বিশ্বাস করে, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা চালু থাকলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরো বৃদ্ধি পাবে, এবং করদাতারা এই উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতা করতে আগ্রহী।