১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

মার্কিন ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক তবে স্বাভাবিক: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অঙ্কের জামানত আরোপের সিদ্ধান্তটি ওয়াশিংটনের একটি কঠোর কিন্তু স্বাভাবিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র অধিদপ্তরের অস্থায়ী উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভিবাসন সংকট বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত এখনো অস্বাভাবিক মনে হয় না। সেটি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই নিয়মটি কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং বিশ্বের আরও ৩৭টি দেশের নাগরিকদের ওপর কার্যকর করেছে। এই সকল দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত সময়ে বা বৈধ সময়ের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের হার খুবই বেশি।

উপদেষ্টা এই বিষয়টি তুলে ধরে জানান, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সোশ্যাল সিস্টেম বা সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তাই এই দেশটির কর্তৃপক্ষ যখন কঠোর নীতি গ্রহণ করছে, সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকাটা প্রত্যাশিত। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা এবং জাতীয় সম্মান ও ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই পরিস্থিতির জন্য তিনি বর্তমান সরকারকে দুষেন না; বরং দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসা সমস্যা ও নীতি বিভ্রাটকেই এর মূল কারণ হিসেবে দেখেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, গত এক বছরে যদি অভিবাসন পরিস্থিতির খারাপ হতে শুরু করতো, তবে বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতা দেখানো যেত। কিন্তু এই সংকটের সূত্রপাত অনেক পুরোনো, যা আগে বিভিন্ন সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নীতির ফসল। এর ফলে আজ বাংলাদেশিরা বিদেশে যেতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন। তাঁর মতে, মানুষকে বিদেশে যেতে বা অবৈধভাবে অবস্থান করতে বাধ্য করে এমন পরিস্থিতি একসঙ্গে সরকারের একার পক্ষে বদলে ফেলা সম্ভব নয়; এটা একটি কাঠামোগত সমস্যা, যা বছর কেটে গেলেও এখনও সমাধান হয়নি।

ভ্রমণ ও অভিবাসনের অপরাধে সতর্ক করে তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই হলো এই ধরণের আন্তর্জাতিক অপমান ও কঠোরতা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। ভ্রমণে গিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর খবর বা সাগর থেকে উদ্ধারকার্য মোকাবেলায় দেখে দুঃখ হলেও, এগুলোর আসল কারণ হলো আইন অমান্য। ভুক্তভোগীদের মানবিক সহানুভূতি থাকলেও দেশের স্বার্থে ও আন্তর্জাতিক সম্মান ফেরানোর জন্য সবার উচিত হবে আইনের দিকনির্দেশনা মান্য করা। তিনি মনে করেন, সঠিক অভিবাসন নীতি কমিশন বাস্তবায়ন এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই নীতির মাধ্যমেই দেশের মান ও স্বার্থ শতভাগ অটুট রাখা সম্ভব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ভালুকায় পরিবেশদূষণে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল’ কারখানার ড্রেন লাইন বন্ধ

মার্কিন ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক তবে স্বাভাবিক: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা মোটা অঙ্কের জামানত আরোপের সিদ্ধান্তটি ওয়াশিংটনের একটি কঠোর কিন্তু স্বাভাবিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র অধিদপ্তরের অস্থায়ী উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভিবাসন সংকট বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত এখনো অস্বাভাবিক মনে হয় না। সেটি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই নিয়মটি কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং বিশ্বের আরও ৩৭টি দেশের নাগরিকদের ওপর কার্যকর করেছে। এই সকল দেশের নাগরিকদের মধ্যে বিশেষ করে যারা অতিরিক্ত সময়ে বা বৈধ সময়ের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের হার খুবই বেশি।

উপদেষ্টা এই বিষয়টি তুলে ধরে জানান, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সোশ্যাল সিস্টেম বা সরকারি সুবিধা গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তাই এই দেশটির কর্তৃপক্ষ যখন কঠোর নীতি গ্রহণ করছে, সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকাটা প্রত্যাশিত। তিনি মনে করেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা এবং জাতীয় সম্মান ও ভাবমূর্তির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই পরিস্থিতির জন্য তিনি বর্তমান সরকারকে দুষেন না; বরং দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসা সমস্যা ও নীতি বিভ্রাটকেই এর মূল কারণ হিসেবে দেখেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, গত এক বছরে যদি অভিবাসন পরিস্থিতির খারাপ হতে শুরু করতো, তবে বর্তমান সরকারের দায়বদ্ধতা দেখানো যেত। কিন্তু এই সংকটের সূত্রপাত অনেক পুরোনো, যা আগে বিভিন্ন সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নীতির ফসল। এর ফলে আজ বাংলাদেশিরা বিদেশে যেতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন। তাঁর মতে, মানুষকে বিদেশে যেতে বা অবৈধভাবে অবস্থান করতে বাধ্য করে এমন পরিস্থিতি একসঙ্গে সরকারের একার পক্ষে বদলে ফেলা সম্ভব নয়; এটা একটি কাঠামোগত সমস্যা, যা বছর কেটে গেলেও এখনও সমাধান হয়নি।

ভ্রমণ ও অভিবাসনের অপরাধে সতর্ক করে তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করাই হলো এই ধরণের আন্তর্জাতিক অপমান ও কঠোরতা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। ভ্রমণে গিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর খবর বা সাগর থেকে উদ্ধারকার্য মোকাবেলায় দেখে দুঃখ হলেও, এগুলোর আসল কারণ হলো আইন অমান্য। ভুক্তভোগীদের মানবিক সহানুভূতি থাকলেও দেশের স্বার্থে ও আন্তর্জাতিক সম্মান ফেরানোর জন্য সবার উচিত হবে আইনের দিকনির্দেশনা মান্য করা। তিনি মনে করেন, সঠিক অভিবাসন নীতি কমিশন বাস্তবায়ন এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই নীতির মাধ্যমেই দেশের মান ও স্বার্থ শতভাগ অটুট রাখা সম্ভব।