০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রোজায় এবারও ভোগাবে আমদানিনির্ভর পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য

শবে বরাত ও রমজানের জন্য দেশের বাজারে আবারও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত ও ১৭ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসেব অনুযায়ী, শবে বরাতের আসতে আর মাত্র ১৭ দিন বাকি, আর রোজার জন্য অপেক্ষা করতে হবে এক মাসের কিছু বেশি সময়। প্রতি বছর এই সময়গুলোতে সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি ও মজুতের কাজ চলে আসে ভিন্ন মাত্রায়, এবং এবারের প্রস্তুতিও ব্যতিক্রম নয়। বেশ কিছু পণ্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে গেছে, আবার কিছু এখনও পথে রয়েছে। তবে এবারের রোজার আগে ভোক্তাদের ভোগবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পণ্য বিশেষ করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তদ্ব্যতীত, যদিও আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো থাকলেও, শবে বরাত ও রোজার সময় ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক সিন্ডিকেটের কারণে দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এই পাঁচটি পণ্য হলো ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, খেজুর এবং সবজি। এর মধ্যে সবজি বাদে বাকি চারটি পণ্যই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার থেকে পাঁচ মাসে পেঁয়াজের আমদানি কমলেও অন্য তিন পণ্য — ভোজ্য তেল, চিনি ও খেজুর — এর আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে এর দাম আরও বাড়বে রোজার আগে, এই বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাজারের বিশ্লেষকরা আরও বলেন, বড় উৎসব বা বড় ঈদ বা রোজার সময় ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের জন্য সিন্ডিকেট করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করেন। এসএম নাজের হোসেন, ক্যাবের সহ-সভাপতি বলেছেন, দেশের ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা সারা বছরই বাড়তি মুনাফার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এ কারণে আমার মনে হয়, এ বছরও পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাচ্ছে না, বরং বাজার আরও অস্থির হতে পারে। যেমনটি সাধারণত হয়, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বাজারের অস্থিরতা বাড়ে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে ততক্ষণে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাজারের অন্যান্য পণ্য যেমন গরুর মাংস, মাছ, ছোলা ও মুরগির দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে গরুর মাংসের দাম বিভিন্ন সময়ে খুবই স্থিতিশীল থাকলেও রমজান ও শবে বরাতের সময় দ্রুত বাড়ে। বর্তমানে গরুর মাংসের কেজি দাম ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় চললেও, রোজার আগে এটি ৮৫০ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কেনাকাটার প্রস্তুতি বেশ ভালো। গত বছরের চেয়ে আমদানির পরিমাণ আশানুরূপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর দাল, ছোলা, খেজুর ও মটর ডাল এসব পণ্য যথেষ্ট পরিমাণে আমদানি হয়েছে। এই সংস্কার ও পরিকল্পনা সফল হলে বাজারে স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাজারে ঋণপত্র বা এলসির জটিলতা এখনও বিদ্যমান, এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানির খরচ বাড়ছে। বিশেষ করে এক্ষেত্রে, ইতোমধ্যে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারের দুর্বল দিকগুলো সমাধানের জন্য ডিজিটাল সাপ্লাই চেইনের ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে, বাজারের স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রোজায় এবারও ভোগাবে আমদানিনির্ভর পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

শবে বরাত ও রমজানের জন্য দেশের বাজারে আবারও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত ও ১৭ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসেব অনুযায়ী, শবে বরাতের আসতে আর মাত্র ১৭ দিন বাকি, আর রোজার জন্য অপেক্ষা করতে হবে এক মাসের কিছু বেশি সময়। প্রতি বছর এই সময়গুলোতে সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি ও মজুতের কাজ চলে আসে ভিন্ন মাত্রায়, এবং এবারের প্রস্তুতিও ব্যতিক্রম নয়। বেশ কিছু পণ্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে গেছে, আবার কিছু এখনও পথে রয়েছে। তবে এবারের রোজার আগে ভোক্তাদের ভোগবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পণ্য বিশেষ করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তদ্ব্যতীত, যদিও আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো থাকলেও, শবে বরাত ও রোজার সময় ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক সিন্ডিকেটের কারণে দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এই পাঁচটি পণ্য হলো ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, খেজুর এবং সবজি। এর মধ্যে সবজি বাদে বাকি চারটি পণ্যই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার থেকে পাঁচ মাসে পেঁয়াজের আমদানি কমলেও অন্য তিন পণ্য — ভোজ্য তেল, চিনি ও খেজুর — এর আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে এর দাম আরও বাড়বে রোজার আগে, এই বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাজারের বিশ্লেষকরা আরও বলেন, বড় উৎসব বা বড় ঈদ বা রোজার সময় ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের জন্য সিন্ডিকেট করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করেন। এসএম নাজের হোসেন, ক্যাবের সহ-সভাপতি বলেছেন, দেশের ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা সারা বছরই বাড়তি মুনাফার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এ কারণে আমার মনে হয়, এ বছরও পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাচ্ছে না, বরং বাজার আরও অস্থির হতে পারে। যেমনটি সাধারণত হয়, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বাজারের অস্থিরতা বাড়ে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে ততক্ষণে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাজারের অন্যান্য পণ্য যেমন গরুর মাংস, মাছ, ছোলা ও মুরগির দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে গরুর মাংসের দাম বিভিন্ন সময়ে খুবই স্থিতিশীল থাকলেও রমজান ও শবে বরাতের সময় দ্রুত বাড়ে। বর্তমানে গরুর মাংসের কেজি দাম ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় চললেও, রোজার আগে এটি ৮৫০ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কেনাকাটার প্রস্তুতি বেশ ভালো। গত বছরের চেয়ে আমদানির পরিমাণ আশানুরূপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর দাল, ছোলা, খেজুর ও মটর ডাল এসব পণ্য যথেষ্ট পরিমাণে আমদানি হয়েছে। এই সংস্কার ও পরিকল্পনা সফল হলে বাজারে স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাজারে ঋণপত্র বা এলসির জটিলতা এখনও বিদ্যমান, এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানির খরচ বাড়ছে। বিশেষ করে এক্ষেত্রে, ইতোমধ্যে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারের দুর্বল দিকগুলো সমাধানের জন্য ডিজিটাল সাপ্লাই চেইনের ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে, বাজারের স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।