০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রোজায় এবারও ভোগাবে আমদানিনির্ভর পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য

শবে বরাত ও রমজানের জন্য দেশের বাজারে আবারও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত ও ১৭ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসেব অনুযায়ী, শবে বরাতের আসতে আর মাত্র ১৭ দিন বাকি, আর রোজার জন্য অপেক্ষা করতে হবে এক মাসের কিছু বেশি সময়। প্রতি বছর এই সময়গুলোতে সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি ও মজুতের কাজ চলে আসে ভিন্ন মাত্রায়, এবং এবারের প্রস্তুতিও ব্যতিক্রম নয়। বেশ কিছু পণ্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে গেছে, আবার কিছু এখনও পথে রয়েছে। তবে এবারের রোজার আগে ভোক্তাদের ভোগবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পণ্য বিশেষ করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তদ্ব্যতীত, যদিও আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো থাকলেও, শবে বরাত ও রোজার সময় ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক সিন্ডিকেটের কারণে দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এই পাঁচটি পণ্য হলো ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, খেজুর এবং সবজি। এর মধ্যে সবজি বাদে বাকি চারটি পণ্যই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার থেকে পাঁচ মাসে পেঁয়াজের আমদানি কমলেও অন্য তিন পণ্য — ভোজ্য তেল, চিনি ও খেজুর — এর আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে এর দাম আরও বাড়বে রোজার আগে, এই বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাজারের বিশ্লেষকরা আরও বলেন, বড় উৎসব বা বড় ঈদ বা রোজার সময় ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের জন্য সিন্ডিকেট করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করেন। এসএম নাজের হোসেন, ক্যাবের সহ-সভাপতি বলেছেন, দেশের ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা সারা বছরই বাড়তি মুনাফার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এ কারণে আমার মনে হয়, এ বছরও পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাচ্ছে না, বরং বাজার আরও অস্থির হতে পারে। যেমনটি সাধারণত হয়, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বাজারের অস্থিরতা বাড়ে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে ততক্ষণে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাজারের অন্যান্য পণ্য যেমন গরুর মাংস, মাছ, ছোলা ও মুরগির দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে গরুর মাংসের দাম বিভিন্ন সময়ে খুবই স্থিতিশীল থাকলেও রমজান ও শবে বরাতের সময় দ্রুত বাড়ে। বর্তমানে গরুর মাংসের কেজি দাম ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় চললেও, রোজার আগে এটি ৮৫০ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কেনাকাটার প্রস্তুতি বেশ ভালো। গত বছরের চেয়ে আমদানির পরিমাণ আশানুরূপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর দাল, ছোলা, খেজুর ও মটর ডাল এসব পণ্য যথেষ্ট পরিমাণে আমদানি হয়েছে। এই সংস্কার ও পরিকল্পনা সফল হলে বাজারে স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাজারে ঋণপত্র বা এলসির জটিলতা এখনও বিদ্যমান, এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানির খরচ বাড়ছে। বিশেষ করে এক্ষেত্রে, ইতোমধ্যে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারের দুর্বল দিকগুলো সমাধানের জন্য ডিজিটাল সাপ্লাই চেইনের ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে, বাজারের স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত

রোজায় এবারও ভোগাবে আমদানিনির্ভর পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

শবে বরাত ও রমজানের জন্য দেশের বাজারে আবারও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পবিত্র শবে বরাত ও ১৭ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হিসেব অনুযায়ী, শবে বরাতের আসতে আর মাত্র ১৭ দিন বাকি, আর রোজার জন্য অপেক্ষা করতে হবে এক মাসের কিছু বেশি সময়। প্রতি বছর এই সময়গুলোতে সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানি ও মজুতের কাজ চলে আসে ভিন্ন মাত্রায়, এবং এবারের প্রস্তুতিও ব্যতিক্রম নয়। বেশ কিছু পণ্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে গেছে, আবার কিছু এখনও পথে রয়েছে। তবে এবারের রোজার আগে ভোক্তাদের ভোগবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পণ্য বিশেষ করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তদ্ব্যতীত, যদিও আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো থাকলেও, শবে বরাত ও রোজার সময় ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক সিন্ডিকেটের কারণে দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এই পাঁচটি পণ্য হলো ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ, খেজুর এবং সবজি। এর মধ্যে সবজি বাদে বাকি চারটি পণ্যই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার থেকে পাঁচ মাসে পেঁয়াজের আমদানি কমলেও অন্য তিন পণ্য — ভোজ্য তেল, চিনি ও খেজুর — এর আমদানি ও মজুদ পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে এর দাম আরও বাড়বে রোজার আগে, এই বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বাজারের বিশ্লেষকরা আরও বলেন, বড় উৎসব বা বড় ঈদ বা রোজার সময় ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের জন্য সিন্ডিকেট করে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করেন। এসএম নাজের হোসেন, ক্যাবের সহ-সভাপতি বলেছেন, দেশের ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা সারা বছরই বাড়তি মুনাফার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এ কারণে আমার মনে হয়, এ বছরও পরিস্থিতির উন্নতি আশা করা যাচ্ছে না, বরং বাজার আরও অস্থির হতে পারে। যেমনটি সাধারণত হয়, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বাজারের অস্থিরতা বাড়ে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন হলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে ততক্ষণে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়তে পারে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাজারের অন্যান্য পণ্য যেমন গরুর মাংস, মাছ, ছোলা ও মুরগির দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে গরুর মাংসের দাম বিভিন্ন সময়ে খুবই স্থিতিশীল থাকলেও রমজান ও শবে বরাতের সময় দ্রুত বাড়ে। বর্তমানে গরুর মাংসের কেজি দাম ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় চললেও, রোজার আগে এটি ৮৫০ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কেনাকাটার প্রস্তুতি বেশ ভালো। গত বছরের চেয়ে আমদানির পরিমাণ আশানুরূপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, চিনি, মসুর দাল, ছোলা, খেজুর ও মটর ডাল এসব পণ্য যথেষ্ট পরিমাণে আমদানি হয়েছে। এই সংস্কার ও পরিকল্পনা সফল হলে বাজারে স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বাজারে ঋণপত্র বা এলসির জটিলতা এখনও বিদ্যমান, এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানির খরচ বাড়ছে। বিশেষ করে এক্ষেত্রে, ইতোমধ্যে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারের দুর্বল দিকগুলো সমাধানের জন্য ডিজিটাল সাপ্লাই চেইনের ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। এই অবস্থা চলতে থাকলে, বাজারের স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।