১১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন? আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগ নিয়ে প্রশাসনে তীব্র গুঞ্জন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথে ১৩ দেশের প্রধানকে আমন্ত্রণ গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী সফলতার জন্য তিন শীর্ষ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, নতুন সরকারের শপথ আজ মঙ্গলবার আসিফ নজরুলের স্পষ্টবার্তা: বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকাটা সম্ভব নয় সেনাবাহিনী ফিরে যাবে ব্যারাকে: সেনাপ্রধান নবনির্বাচিত সরকার শপথ নিলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত

সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগের ঘোষণা দিয়েছে। পূর্বে এই চালের রপ্তানির শেষ সময় ছিল ৩১ডিসেম্বর, যা নির্ধারিত সময়ে শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করায় সরকার এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে গত বছরের এপ্রিল মাসে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতার ভিত্তিতে ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত চাল রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছিল, এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে আংশিক বা পুরো রপ্তানি সম্পন্ন করেছে।

রপ্তানি প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য হবে কমপক্ষে ১.৬০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলারে বাংলাদেশি টাকা পড়বে প্রায় ১২২ টাকা, ফলে প্রতি কেজি চালের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১৯৫ টাকা। এছাড়া, নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত কোটির বাইরে অতিরিক্ত চাল রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজে ওঠার পর রপ্তানি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণ অস্থায়ান্তরযোগ্য, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলি নিজে রপ্তানি না করে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে এই কাজ করবে না।

বাংলাদেশের বিদ্যমান রপ্তানি নীতির মধ্যে, সাধারণ চালের রপ্তানি বিদেশে নিষিদ্ধ থাকলেও সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। দেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হলেও এর মাত্র কিছু অংশ—প্রায় ১০ হাজার টন—বিদেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাত থেকে বাংলাদেশ ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করেছিল, কিন্তু এরপরের বছরগুলোতে এর পরিমাণ কমতে থাকে এবং ২০২২-২৩ সালে রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও আরও ১৩০টির বেশি দেশকে চিনিগুঁড়া, কালিজিরা ও কাটারিভোগের মতো বিভিন্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা হচ্ছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানির এই পুরো প্রক্রিয়া প্রধানত বাণিজ্য, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তদারকিতে পরিচালিত হয়। রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি আবশ্যক। রপ্তানিকারকদের মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না পাওয়া পর্যন্ত রপ্তানি সম্ভব নয়। গত মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬১টি প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমোদিত কোটা অনুযায়ী আবারও সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন?

সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগের ঘোষণা দিয়েছে। পূর্বে এই চালের রপ্তানির শেষ সময় ছিল ৩১ডিসেম্বর, যা নির্ধারিত সময়ে শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করায় সরকার এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে গত বছরের এপ্রিল মাসে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সক্ষমতার ভিত্তিতে ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত চাল রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছিল, এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে আংশিক বা পুরো রপ্তানি সম্পন্ন করেছে।

রপ্তানি প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য হবে কমপক্ষে ১.৬০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলারে বাংলাদেশি টাকা পড়বে প্রায় ১২২ টাকা, ফলে প্রতি কেজি চালের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১৯৫ টাকা। এছাড়া, নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত কোটির বাইরে অতিরিক্ত চাল রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজে ওঠার পর রপ্তানি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণ অস্থায়ান্তরযোগ্য, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলি নিজে রপ্তানি না করে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্য কাউকে দিয়ে এই কাজ করবে না।

বাংলাদেশের বিদ্যমান রপ্তানি নীতির মধ্যে, সাধারণ চালের রপ্তানি বিদেশে নিষিদ্ধ থাকলেও সুগন্ধি চাল রপ্তানির জন্য বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়। দেশে বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হলেও এর মাত্র কিছু অংশ—প্রায় ১০ হাজার টন—বিদেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাত থেকে বাংলাদেশ ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করেছিল, কিন্তু এরপরের বছরগুলোতে এর পরিমাণ কমতে থাকে এবং ২০২২-২৩ সালে রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও আরও ১৩০টির বেশি দেশকে চিনিগুঁড়া, কালিজিরা ও কাটারিভোগের মতো বিভিন্ন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা হচ্ছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানির এই পুরো প্রক্রিয়া প্রধানত বাণিজ্য, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তদারকিতে পরিচালিত হয়। রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি আবশ্যক। রপ্তানিকারকদের মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না পাওয়া পর্যন্ত রপ্তানি সম্ভব নয়। গত মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬১টি প্রতিষ্ঠান তাদের অনুমোদিত কোটা অনুযায়ী আবারও সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।