১১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
১০ জনকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযুক্ত তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা আনসার-ভিডিপি ও SREDA’র সমঝোতা: টেকসই জ্বালানি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ববণ্টন: কে কোথায় পেলেন দায়িত্ব? ২৪ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন — নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের যাত্রা শুরু ত্রয়োদশ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীতে ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত এটি শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয় — গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ স্বাক্ষর করল সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে

হলিউড স্তব্ধ: চিরবিদায় নিলেন ‘দ্য গডফাদার’ কিংবদন্তি রবার্ট ডুভল

বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক শূন্যতার শুরুর সংকেত হিসেবে চলে গেলেন হলিউডের অমর অভিনেতা রবার্ট ডুভল। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯৫ বছর। সোমবার রাতের সংবাদ সম্মুখে তাঁর স্ত্রী লুসিয়ানা পেদ্রাজা সিএনএন-কে এই খবর নিশ্চিত করেন। খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও বিনোদন জগত শোকাহত।

১৯৩১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া ডুভল ছিলেন আত্মপ্রতিভায় ভরপুর এক শিল্পী। অভিনয়ে আসার আগে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং পরে নিউইয়র্কে অভিনয়ের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি ডাস্টিন হফম্যান ও জিন হ্যাকম্যানের মতো সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে এক নতুন অভিনেতা প্রজন্মের মুখ উন্মোচন করেন। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা তাঁর ক্যারিয়ারে তিনি অনবদ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের হৃদয় জয় করেছেন।

রবার্ট ডুভল সর্বাধিক খ্যাতি পেয়েছিলেন ‘দ্য গডফাদার’-এ কর্লিওন পরিবারের নির্ভরযোগ্য উপদেষ্টা টম হ্যাগেনের চরিত্রে। নির্বিকার, সংখ্যাগতভাবে কম কথা হলেও গভীরতার সঙ্গে করা তাঁর অভিনয় এখনও দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান। ১৯৮৩ সালে ‘টেন্ডার মার্সিস’ ছবিতে অভূতপূর্ব অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার অ্যাকাডেমি অস্কার জেতেন। এছাড়া ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ ও টেলিভিশন মিনি-সিরিজ ‘লোনসাম ডাভ’-এও তাঁর কাজ অসামান্যভাবে স্মরণীয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি ডুভল পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, পরিচালনা করেছেন ও অভিনয় করেছেন ‘দ্য অ্যাপোস্টল’—এমন এক ছবিতে যেখানে তার বহু পারফরম্যান্সিক দিকই ফুটে ওঠে। পরবর্তীতে ‘অ্যাসাসিনেশন ট্যাঙ্গো’তেও তিনি পরিচালনায় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ব্যক্তিগতভাবে ডুভল ছিলেন নীতিনিষ্ঠ ও স্পষ্টভাষী। কাজের মান নিয়ে তিনি কখনো আপস করতেন না। ১৯৯০ সালে ‘দ্য গডফাদার পার্ট থ্রি’-তে অংশগ্রহণ না করার পেছনে পারিশ্রমিক বৈষম্য ও পেশাদারিক বিবেচনা উল্লেখ করা হয়েছিল—এই সিদ্ধান্ত তখনও হলিউডে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাঁর চলচ্চিত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল মেডেল অব আর্টস’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

পরিবার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবার্ট ডুভলের কোনো আনুষ্ঠানিক শেষকৃত্য অনুষ্ঠান থাকবে না। পরিবার ভক্তদের প্রতি অনুরোধ করেছেন—রবার্ট ডুভলের স্মরণে তাঁর প্রিয় কোনো ছবি দেখুন বা বন্ধু-পরিজনদের সঙ্গে তাঁর কাজ ও স্মৃতি শেয়ার করুন। তাঁরা বিশ্বাস করেন এভাবেই অভিনেতার কাজ ও স্মৃতি জীবন্ত থাকবে।

রবার্ট ডুভলের প্রয়াণ হলিউডের এক সোনালি অধ্যায়ের অন্ত, তবে তার সৃষ্টি করা শিল্প এখনও পর্দা আর হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা

হলিউড স্তব্ধ: চিরবিদায় নিলেন ‘দ্য গডফাদার’ কিংবদন্তি রবার্ট ডুভল

প্রকাশিতঃ ০৮:২০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব চলচ্চিত্রে এক শূন্যতার শুরুর সংকেত হিসেবে চলে গেলেন হলিউডের অমর অভিনেতা রবার্ট ডুভল। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯৫ বছর। সোমবার রাতের সংবাদ সম্মুখে তাঁর স্ত্রী লুসিয়ানা পেদ্রাজা সিএনএন-কে এই খবর নিশ্চিত করেন। খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও বিনোদন জগত শোকাহত।

১৯৩১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া ডুভল ছিলেন আত্মপ্রতিভায় ভরপুর এক শিল্পী। অভিনয়ে আসার আগে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং পরে নিউইয়র্কে অভিনয়ের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি ডাস্টিন হফম্যান ও জিন হ্যাকম্যানের মতো সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে এক নতুন অভিনেতা প্রজন্মের মুখ উন্মোচন করেন। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা তাঁর ক্যারিয়ারে তিনি অনবদ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের হৃদয় জয় করেছেন।

রবার্ট ডুভল সর্বাধিক খ্যাতি পেয়েছিলেন ‘দ্য গডফাদার’-এ কর্লিওন পরিবারের নির্ভরযোগ্য উপদেষ্টা টম হ্যাগেনের চরিত্রে। নির্বিকার, সংখ্যাগতভাবে কম কথা হলেও গভীরতার সঙ্গে করা তাঁর অভিনয় এখনও দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান। ১৯৮৩ সালে ‘টেন্ডার মার্সিস’ ছবিতে অভূতপূর্ব অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতার অ্যাকাডেমি অস্কার জেতেন। এছাড়া ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ ও টেলিভিশন মিনি-সিরিজ ‘লোনসাম ডাভ’-এও তাঁর কাজ অসামান্যভাবে স্মরণীয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি ডুভল পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, পরিচালনা করেছেন ও অভিনয় করেছেন ‘দ্য অ্যাপোস্টল’—এমন এক ছবিতে যেখানে তার বহু পারফরম্যান্সিক দিকই ফুটে ওঠে। পরবর্তীতে ‘অ্যাসাসিনেশন ট্যাঙ্গো’তেও তিনি পরিচালনায় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

ব্যক্তিগতভাবে ডুভল ছিলেন নীতিনিষ্ঠ ও স্পষ্টভাষী। কাজের মান নিয়ে তিনি কখনো আপস করতেন না। ১৯৯০ সালে ‘দ্য গডফাদার পার্ট থ্রি’-তে অংশগ্রহণ না করার পেছনে পারিশ্রমিক বৈষম্য ও পেশাদারিক বিবেচনা উল্লেখ করা হয়েছিল—এই সিদ্ধান্ত তখনও হলিউডে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাঁর চলচ্চিত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল মেডেল অব আর্টস’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

পরিবার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবার্ট ডুভলের কোনো আনুষ্ঠানিক শেষকৃত্য অনুষ্ঠান থাকবে না। পরিবার ভক্তদের প্রতি অনুরোধ করেছেন—রবার্ট ডুভলের স্মরণে তাঁর প্রিয় কোনো ছবি দেখুন বা বন্ধু-পরিজনদের সঙ্গে তাঁর কাজ ও স্মৃতি শেয়ার করুন। তাঁরা বিশ্বাস করেন এভাবেই অভিনেতার কাজ ও স্মৃতি জীবন্ত থাকবে।

রবার্ট ডুভলের প্রয়াণ হলিউডের এক সোনালি অধ্যায়ের অন্ত, তবে তার সৃষ্টি করা শিল্প এখনও পর্দা আর হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।