০২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এটি শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয় — গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা এবং নতুন বাংলাদেশের জন্ম। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি স্মরণ করান, চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের মানুষ এক অনন্য গণঅভ্যুত্থানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাদের মুক্তি, মর্যাদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার জোরালো দাবি জানিয়েছিল। সে সময় দেশটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে ডুবে ছিল; মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রে আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, গণতন্ত্র কুড়ে কুড়ে ভেঙে পড়ছিল এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল। ঠিক সেই সংকটময় পরিস্থিতিতেই জনগণ আমাকে দায়িত্ব দেন—বাংলাদেশকে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর জন্য তিনটি কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল: সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘‘আমি ও আমার সহকর্মীরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। কোথায় আমরা সফল হয়েছি এবং কোথায় ব্যর্থ—এসব বিচার করার ভার এখন আপনাদের ওপর।’’

ইউনূস বলেন, এই পরিবর্তনের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যারা রেখেছেন—জুলাইয়ের পথে নেমে আসা প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীরা, সাহসী সাধারণ মানুষ, শহীদ ও আহতরা—তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ত্যাগ ও সাহস ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানও সহযোগিতা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তর আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছে—তাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করেই এই পথচলা সম্ভব হয়েছে। তিনি সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ‘জুলাই সনদ’, যার ভিত্তিতে গণভোটে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদের পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে এবং এটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ভালোমন্দ ভুল-ভ্রান্তি থাকলেও জাতি কখনোই জুলাই সনদ ভুলবে না। তিনি সেই সনদ রচনা ও গণভোটে পাশ করাতে অক্লান্ত কাজ করা সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠনের সবাইকে অভিনন্দন জানান।

ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে; এর প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সংস্কারগুলো নাগরিক অধিকারকে রক্ষা করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে তা নিশ্চিত করার দিকে কাজ করেছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বৈরাচারের দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ক্রমাগত নিপীড়ন, আটক, মামলা–হামলা, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন—এই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে ভবিষ্যতে যেন আর কখনো কেউ জুলুম করে ওঠে, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা না পায় এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি পুনরায় বিস্তার না পায়।

অবশেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা যে অত্যাচার চালিয়েছে তাদের বিচার করা এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের দুঃশাসন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুদায়িত্ব। বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া; বিভিন্ন ট্রাইবুনাল এখন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে কিছু মামলার রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালগুলোতেও যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচারের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীদিনে এসব বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে যাবে এবং যোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এটি শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয় — গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা

প্রকাশিতঃ ০৮:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা এবং নতুন বাংলাদেশের জন্ম। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি স্মরণ করান, চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের মানুষ এক অনন্য গণঅভ্যুত্থানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাদের মুক্তি, মর্যাদা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার জোরালো দাবি জানিয়েছিল। সে সময় দেশটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে ডুবে ছিল; মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রে আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, গণতন্ত্র কুড়ে কুড়ে ভেঙে পড়ছিল এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল। ঠিক সেই সংকটময় পরিস্থিতিতেই জনগণ আমাকে দায়িত্ব দেন—বাংলাদেশকে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর জন্য তিনটি কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল: সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘‘আমি ও আমার সহকর্মীরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। কোথায় আমরা সফল হয়েছি এবং কোথায় ব্যর্থ—এসব বিচার করার ভার এখন আপনাদের ওপর।’’

ইউনূস বলেন, এই পরিবর্তনের পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যারা রেখেছেন—জুলাইয়ের পথে নেমে আসা প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীরা, সাহসী সাধারণ মানুষ, শহীদ ও আহতরা—তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ত্যাগ ও সাহস ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানও সহযোগিতা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তর আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছে—তাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করেই এই পথচলা সম্ভব হয়েছে। তিনি সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ‘জুলাই সনদ’, যার ভিত্তিতে গণভোটে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদের পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে এবং এটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ভালোমন্দ ভুল-ভ্রান্তি থাকলেও জাতি কখনোই জুলাই সনদ ভুলবে না। তিনি সেই সনদ রচনা ও গণভোটে পাশ করাতে অক্লান্ত কাজ করা সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠনের সবাইকে অভিনন্দন জানান।

ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের লক্ষ্যে প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে; এর প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সংস্কারগুলো নাগরিক অধিকারকে রক্ষা করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে তা নিশ্চিত করার দিকে কাজ করেছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বৈরাচারের দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ক্রমাগত নিপীড়ন, আটক, মামলা–হামলা, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন—এই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে যে ভবিষ্যতে যেন আর কখনো কেউ জুলুম করে ওঠে, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা না পায় এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি পুনরায় বিস্তার না পায়।

অবশেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা যে অত্যাচার চালিয়েছে তাদের বিচার করা এবং ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের দুঃশাসন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা সরকারের গুরুদায়িত্ব। বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া; বিভিন্ন ট্রাইবুনাল এখন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে কিছু মামলার রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালগুলোতেও যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচারের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীদিনে এসব বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে এগিয়ে যাবে এবং যোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।