০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া ফরিদা খানম ঢাকার নতুন ডিসি মালয়েশিয়ার গভীর জঙ্গল থেকে ২৭ বছর পর দেশে ফিরলেন শরীয়তপুরের আমির হোসেন ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

অগ্নি সিস্টেমস শেয়ারে কারসাজি: সিটি ব্যাংকসহ সাতজনকে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অগ্নি সিস্টেমস পিএলসির শেয়ারদরে কৃত্রিম বৃদ্ধির কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ছয়জন ব্যক্তিকে ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ গত বছরের ২৫ জুন থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তদন্তে দেখানো হয়েছে, ওই সময়কালে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩২ টাকায় ওঠে — যা প্রায় ৩০.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি, এবং বিএসইসি বলেছে এটি বড় অংশেই কৃত্রিম চাহিদার ফলাফল ছিল। নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে কয়েকজন ব্যক্তির নিজেদের বিও (Beneficiary Owner) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ধারাবাহিক লেনদেন করে বাজারে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

তদন্তে নামগুলো হলেন: মো. সানোয়ার খান, তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা, ভাই মো. আনোয়ার পারভেজ খান, ও সহযোগী হিসেবে মো. আবু তাহের শিকদার, উম্মে সালমা নিপা ও মো. বিপ্লব শেখ। তদন্তে দেখা গেছে তারা নিয়মিতভাবে শেয়ারের লেনদেন করে কৃত্রিম চাহিদি তৈরি করেছিলেন।

বৈশেষিকভাবে বলা হয়েছে, মো. সানোয়ার খান ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে সিটি ব্যাংক-এর পোর্টফোলিও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ব্যাংকের বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। বিএসইসির শুনানিতে সিটি ব্যাংক স্বীকার করেছে যে ওই লেনদেনগুলো সানোয়ার খানের একক সিদ্ধান্তে এবং তার আর্পিত ক্ষমতার কাজে সম্পন্ন হয়েছিল। ব্যাংক তাকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান আছে।

বিএসইসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ধারা ১৭ লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডাদেশ জারি করেছে। নির্দিষ্ট জরিমানা হিসেবে সানোয়ার খানের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, মো. বিপ্লব শেখকে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, মো. আবু তাহের শিকদারকে ৬২ লাখ টাকা এবং আসমাউল হুসনাকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই ঘটনায় মো. আনোয়ার পারভেজ খান ও উম্মে সালমা নিপাকে প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তদারকিতে শিথিলতার কারণে সিটি ব্যাংককে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও কঠোর সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএসইসির এই পদক্ষেপ বাজারে স্বচ্ছতা রক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শক্ত করার লক্ষ্যে নেওয়া হলো।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিএনপি চায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়া

অগ্নি সিস্টেমস শেয়ারে কারসাজি: সিটি ব্যাংকসহ সাতজনকে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশিতঃ ০৮:২৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অগ্নি সিস্টেমস পিএলসির শেয়ারদরে কৃত্রিম বৃদ্ধির কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ছয়জন ব্যক্তিকে ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ গত বছরের ২৫ জুন থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তদন্তে দেখানো হয়েছে, ওই সময়কালে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩২ টাকায় ওঠে — যা প্রায় ৩০.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি, এবং বিএসইসি বলেছে এটি বড় অংশেই কৃত্রিম চাহিদার ফলাফল ছিল। নথিপত্র পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়েছে যে কয়েকজন ব্যক্তির নিজেদের বিও (Beneficiary Owner) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ধারাবাহিক লেনদেন করে বাজারে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

তদন্তে নামগুলো হলেন: মো. সানোয়ার খান, তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা, ভাই মো. আনোয়ার পারভেজ খান, ও সহযোগী হিসেবে মো. আবু তাহের শিকদার, উম্মে সালমা নিপা ও মো. বিপ্লব শেখ। তদন্তে দেখা গেছে তারা নিয়মিতভাবে শেয়ারের লেনদেন করে কৃত্রিম চাহিদি তৈরি করেছিলেন।

বৈশেষিকভাবে বলা হয়েছে, মো. সানোয়ার খান ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে সিটি ব্যাংক-এর পোর্টফোলিও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ব্যাংকের বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। বিএসইসির শুনানিতে সিটি ব্যাংক স্বীকার করেছে যে ওই লেনদেনগুলো সানোয়ার খানের একক সিদ্ধান্তে এবং তার আর্পিত ক্ষমতার কাজে সম্পন্ন হয়েছিল। ব্যাংক তাকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান আছে।

বিএসইসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ধারা ১৭ লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ডাদেশ জারি করেছে। নির্দিষ্ট জরিমানা হিসেবে সানোয়ার খানের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা, মো. বিপ্লব শেখকে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, মো. আবু তাহের শিকদারকে ৬২ লাখ টাকা এবং আসমাউল হুসনাকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই ঘটনায় মো. আনোয়ার পারভেজ খান ও উম্মে সালমা নিপাকে প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তদারকিতে শিথিলতার কারণে সিটি ব্যাংককে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও কঠোর সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএসইসির এই পদক্ষেপ বাজারে স্বচ্ছতা রক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শক্ত করার লক্ষ্যে নেওয়া হলো।