কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়ার ইউটিউব ভিলেজ পার্কের ভেতর থেকে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একাধিক বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। অভিযানে পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ছিল মহাবিপন্ন ঘড়িয়ালটি—দৈর্ঘ্য প্রায় দুই ফুট ছয় ইঞ্চি।
স্থানীয় সময় বিপুল ভিড়বলার মধ্যেই বিকেল তিনটায় এই মুহূর্তের তথ্য অনুযায়ী বনবিভাগের কর্মকর্তারা পার্কের একটি জরাজীর্ণ চৌবাচ্চা থেকে ঘড়িয়ালটিকে সরিয়ে নেন। একই সঙ্গে পার্কের আরেক স্থানে রাখা তিনটি কাছিমও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জগতি বনবিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু বকর সিদ্দিক, খোকসা উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা গোলাম কাজী, স্থানীয় সাংবাদিক ও পার্কের কর্মী–কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে শিমুলিয়ার একটি বিল থেকে এক জেলের জালে ঘড়িয়ালটি আটকা পড়ে। পরে ওই জেলেরা এটিকে নামমাত্র টাকায় পার্কের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে বিক্রি করেন। পার্ক মালিক ঘটনাটি জানান দিয়ে বলেন, তিনি তখন সামান্য টাকায় ঘড়িয়ালটি কিনে পার্কের ভেতরের চৌবাচ্চায় রেখেছিলেন, কিন্তু প্রাণিটিকে এভাবে রাখা আইনি নয়—এই বিষয়টির জ্ঞান না থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি এক দর্শনার্থী পার্কের চৌবাচ্চায় ঘড়িয়ালটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী এম আর নয়নকে জানালে তিনি দ্রুত খোকসা ও কুষ্টিয়া বনবিভাগের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। নির্বাচনকালীন কিছু বিলম্বের পর মঙ্গলবার বিকেলে বনবিভাগের কর্মকর্তা-দল পার্কে অভিযান চালিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করেন। সাংবাদিক নয়ন জানান, নিরাপত্তা ও প্রাণীর কল্যাণের কথা বিবেচনায় সংবাদ প্রকাশের আগেই বিষয়টি বনবিভাগকে জানানো হয়েছিল।
কুষ্টিয়া বনবিভাগ জানায়, মিঠে পানির ঘড়িয়ালটি ১৯৭০ সালের দিকে থেকেই সীমাহীন হুমকির মুখে। বর্তমানে দেশে বড় আকারের মাত্র কয়েকটি ঘড়িয়াল নদীতে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে—প্রকৃতির সংরক্ষণ জরুরি বলে বিভাগটি মনে করছে।
ডেপুটি রেঞ্জার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু বকর সিদ্দিক অভিযান সম্পর্কে জানান, ‘‘সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ইউটিউব ভিলেজ পার্ক থেকে মহাবিপন্ন একটি ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোকে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।’’ তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুসারে ঘড়িয়াল ও কাছিম ধরে রাখা, হত্যা করা বা অননুমোদিত রেখে রাখা বেআইনি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো আগামীতে পুনর্বাসন ও অবমুক্তি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে বনবিভাগ জানিয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























