০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

ছাত্রনেতা থেকে জননেতা—মন্ত্রিসভায় জহির উদ্দিন স্বপন

ছাত্রনেতা হিসেবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকেই রাজনীতির মূলধারায় আসেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিন বছর পর তিনি যোগ দেন বিএনপিতে এবং ধাপে ধাপে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবেও তাঁর পরিচয় আছে। সফলতার ধারাবাহিকতায় পরে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। নির্বাচনে স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। প্রায় ৫৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয় উদযাপন করেন স্বপন, এবং এই জয় দিয়ে দেড় যুগ পর আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি। স্থানীয়ভাবে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমই এ ফল এনে দিয়েছে বলে দলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় মন্ত্রীত্বের খবরে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হন। সন্ধ্যায় মিষ্টি বিতরণ হয়, বের হয় আনন্দ মিছিল। নেতা-কর্মীদের ‘স্বপন ভাই’ স্লোগানে পুরো এলাকায় উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করে।

জহির উদ্দিন স্বপন প্রথমবার সংসদে আসেন ১৯৯৬ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচিতেও তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারের জয় নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো সংসদে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে স্বপন জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন; বিশেষ করে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ও মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অবদান প্রশংসনীয় বলে বিবেচিত হয়েছে। সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এসব কমিটিতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বপনের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। তিনি দু’বার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কাজ করা নির্দলীয় আইনপ্রণেতাদের নেটওয়ার্ক ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)’-র এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।

শিক্ষাগতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করা স্বপনের প্রধান দক্ষতার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা।

মন্ত্রী হিসেবে যোগ নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। তাদের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মূল্য দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করব। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

ছাত্রনেতা থেকে জননেতা—মন্ত্রিসভায় জহির উদ্দিন স্বপন

প্রকাশিতঃ ০৩:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ছাত্রনেতা হিসেবে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকেই রাজনীতির মূলধারায় আসেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিন বছর পর তিনি যোগ দেন বিএনপিতে এবং ধাপে ধাপে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। দলের মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবেও তাঁর পরিচয় আছে। সফলতার ধারাবাহিকতায় পরে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। নির্বাচনে স্বপন পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫২ ভোট; তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট। প্রায় ৫৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয় উদযাপন করেন স্বপন, এবং এই জয় দিয়ে দেড় যুগ পর আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি। স্থানীয়ভাবে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমই এ ফল এনে দিয়েছে বলে দলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় মন্ত্রীত্বের খবরে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক উচ্ছ্বসিত হন। সন্ধ্যায় মিষ্টি বিতরণ হয়, বের হয় আনন্দ মিছিল। নেতা-কর্মীদের ‘স্বপন ভাই’ স্লোগানে পুরো এলাকায় উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করে।

জহির উদ্দিন স্বপন প্রথমবার সংসদে আসেন ১৯৯৬ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে। পরবর্তীতে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে আবারও সংসদ সদস্য হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচিতেও তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারের জয় নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো সংসদে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে স্বপন জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন; বিশেষ করে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ও মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অবদান প্রশংসনীয় বলে বিবেচিত হয়েছে। সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এসব কমিটিতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বপনের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। তিনি দু’বার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কাজ করা নির্দলীয় আইনপ্রণেতাদের নেটওয়ার্ক ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)’-র এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি।

শিক্ষাগতভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করা স্বপনের প্রধান দক্ষতার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা।

মন্ত্রী হিসেবে যোগ নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। তাদের বিশ্বাস ও ভালোবাসার মূল্য দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করব। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’