১২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

মেক্সিকো ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পূর্ণ সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করেছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটি বলেছে, বোর্ডে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব যেভাবে রাখা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করেছে মেক্সিকো।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “মেক্সিকো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়—তাই আমরা প্রত্যাশা করি বোর্ড অব পিসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়েরই সমান ও যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কিন্তু এখানে তা হয়নি, তাই আমরা পূর্ণ সদস্যপদ নেয়নি।”

শেইনবাউম আরও জানান, মেক্সিকো সম্পূর্ণ সদস্য না হলেও বোর্ডে পরিদর্শক (অবজারভার) হিসেবে অংশ নেবে। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জাতিসংঘে মেক্সিকোর স্থায়ী প্রতিনিধি এই পরিদর্শক ভূমিকা পালন করবেন।

পটভূমিতে উল্লেখ্য, ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক তদারকির উদ্দেশ্যে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি আন্তঃদেশীয় পরিষদ গঠন করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গাজার জন্য ২০ পয়েন্টের একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন; ইসরায়েল ও হামাস সেই পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার পর গত ১০ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর রয়েছে বলে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরে গাজার প্রশাসন চালানোর জন্য অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক বাহিনী—ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)—গঠন করা হবে। এই সরকার ও আইএসএফ উভয়ই ‘বোর্ড অব পিস’-এর কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।

ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বোর্ড অব পিস গঠনের প্রথম দফায় বিভিন্ন দেশকে সদস্য করা হবে এবং প্রত্যেক সদস্যরাষ্ট্রের জন্য ১০০ কোটি ডলার করে অনুদান দিতে বলা হয়েছে। গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রমে এই তহবিল ব্যবহৃত হবে।

এমন অভิสন্ধিতে বেশ কয়েকটি দেশ—পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব এমিরেটস—ই ইতোমধ্যেই বোর্ডের সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। বোর্ডের প্রথম বৈঠক গত ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়।

মেক্সিকোর এই প্রত্যাখ্যান আন্তর্জাতিক মঞ্চে বোর্ড অব পিসের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিনিধিত্ব বিষয়ক আলোচনাকে তীব্র করবে—বিশেষত যেখানে গাজার ভবিষ্যত ও নিরপেক্ষ প্রশাসন নিগ্রহিত তৃতীয় পক্ষগুলির সমান অংশগ্রহণের উপর নির্ভর করে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

মেক্সিকো ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পূর্ণ সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান করেছে

প্রকাশিতঃ ১১:৪০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ পূর্ণ সদস্যপদ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটি বলেছে, বোর্ডে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব যেভাবে রাখা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করেছে মেক্সিকো।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “মেক্সিকো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়—তাই আমরা প্রত্যাশা করি বোর্ড অব পিসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়েরই সমান ও যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কিন্তু এখানে তা হয়নি, তাই আমরা পূর্ণ সদস্যপদ নেয়নি।”

শেইনবাউম আরও জানান, মেক্সিকো সম্পূর্ণ সদস্য না হলেও বোর্ডে পরিদর্শক (অবজারভার) হিসেবে অংশ নেবে। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জাতিসংঘে মেক্সিকোর স্থায়ী প্রতিনিধি এই পরিদর্শক ভূমিকা পালন করবেন।

পটভূমিতে উল্লেখ্য, ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক তদারকির উদ্দেশ্যে ‘বোর্ড অব পিস’ নামের একটি আন্তঃদেশীয় পরিষদ গঠন করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গাজার জন্য ২০ পয়েন্টের একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন; ইসরায়েল ও হামাস সেই পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার পর গত ১০ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর রয়েছে বলে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরে গাজার প্রশাসন চালানোর জন্য অনির্বাচিত টেকনোক্র্যাট সরকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক বাহিনী—ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)—গঠন করা হবে। এই সরকার ও আইএসএফ উভয়ই ‘বোর্ড অব পিস’-এর কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।

ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বোর্ড অব পিস গঠনের প্রথম দফায় বিভিন্ন দেশকে সদস্য করা হবে এবং প্রত্যেক সদস্যরাষ্ট্রের জন্য ১০০ কোটি ডলার করে অনুদান দিতে বলা হয়েছে। গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রমে এই তহবিল ব্যবহৃত হবে।

এমন অভิสন্ধিতে বেশ কয়েকটি দেশ—পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব এমিরেটস—ই ইতোমধ্যেই বোর্ডের সদস্যপদ গ্রহণ করেছে। বোর্ডের প্রথম বৈঠক গত ১৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হয়।

মেক্সিকোর এই প্রত্যাখ্যান আন্তর্জাতিক মঞ্চে বোর্ড অব পিসের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিনিধিত্ব বিষয়ক আলোচনাকে তীব্র করবে—বিশেষত যেখানে গাজার ভবিষ্যত ও নিরপেক্ষ প্রশাসন নিগ্রহিত তৃতীয় পক্ষগুলির সমান অংশগ্রহণের উপর নির্ভর করে।