০৮:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর বার্তা: অটোপাশ সংস্কৃতি আর ফেরার সুযোগ নেই

নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন আ বিন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অটোপাশের নেতিবাচক সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন। মন্ত্রী মনে করেন, একটি উন্নত ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠন করতে হলে কোনো বিকল্প নেই বিচারের ভিত্তিতে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে। তিনি আরও বলেন, অটোপাশের মতো অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রথা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক চরম হুমকিস্বরূপ।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, অতীতে দেখা গেছে যে, কিছু শিক্ষার্থী রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে পরীক্ষা না দিয়েই পাসের দাবি তুলেছে এবং এই প্রক্রিয়া কিছু সময় সফলও হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার এই ধরনের অযৌক্তিক দাবি সহ্য করবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, দেশের অরাজক সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে আর কোনো সুযোগ নেই; বরং নিয়ম অনুসারে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হবে। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে সরকার একরোখা ভূমিকা নিবে বলে হুঁশিয়ার করেন।

শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে শিক্ষকতা ও আন্দোলনের নামে রাজপথে সক্রিয় থাকা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তিনি শিক্ষকদের ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের সরকারের পূর্ণ সম্মান জানান। তবে পরামর্শ দেন, কোনো দাবি বা অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ে পেশ করতে। সরকার নিজে জানে কি কি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোন বিষয়গুলো করা সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষকদের আন্দোলনের নামে জনজীবন বিপর্যস্ত করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকার একটি সুস্পষ্ট ও আধুনিক ‘ভিশন’ তৈরি করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন থেকে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজ এই কঠোর, তবে গঠনমূলক বার্তাগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। তাঁর মূল লক্ষ্য হল একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সচিবালয়ে এই বক্তব্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং বিশেষজ্ঞরা এটিকে শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর বার্তা: অটোপাশ সংস্কৃতি আর ফেরার সুযোগ নেই

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন আ বিন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে অটোপাশের নেতিবাচক সংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজের প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন। মন্ত্রী মনে করেন, একটি উন্নত ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠন করতে হলে কোনো বিকল্প নেই বিচারের ভিত্তিতে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে। তিনি আরও বলেন, অটোপাশের মতো অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রথা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক চরম হুমকিস্বরূপ।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, অতীতে দেখা গেছে যে, কিছু শিক্ষার্থী রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টি করে পরীক্ষা না দিয়েই পাসের দাবি তুলেছে এবং এই প্রক্রিয়া কিছু সময় সফলও হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার এই ধরনের অযৌক্তিক দাবি সহ্য করবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, দেশের অরাজক সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে আর কোনো সুযোগ নেই; বরং নিয়ম অনুসারে পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হবে। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে সরকার একরোখা ভূমিকা নিবে বলে হুঁশিয়ার করেন।

শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, একই সঙ্গে শিক্ষকতা ও আন্দোলনের নামে রাজপথে সক্রিয় থাকা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। তিনি শিক্ষকদের ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের সরকারের পূর্ণ সম্মান জানান। তবে পরামর্শ দেন, কোনো দাবি বা অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয়ে পেশ করতে। সরকার নিজে জানে কি কি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোন বিষয়গুলো করা সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষকদের আন্দোলনের নামে জনজীবন বিপর্যস্ত করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরকার একটি সুস্পষ্ট ও আধুনিক ‘ভিশন’ তৈরি করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন থেকে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজ এই কঠোর, তবে গঠনমূলক বার্তাগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। তাঁর মূল লক্ষ্য হল একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। সচিবালয়ে এই বক্তব্য শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং বিশেষজ্ঞরা এটিকে শিক্ষাখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।