০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রমজানেই শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে নবগঠিত নির্বাচিত সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি এই রমজান মাসে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা দিয়েছিল, সেটিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আজকের সভায় এই কার্ডের কার্যকারিতা ও বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সরকার চায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে এই প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনায় এই কার্যক্রমটি একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দ্রুত শুরু করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই ফ্যামিলি কার্ড হবে একটি ‘সার্বজনীন’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ, এর আওতায় সকলের জন্য মানা কিছু বাধ্যবাধকতা থাকছে না। তবে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল বিতরণের জন্য সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কমিটি একটি পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে প্রথমে দেশের দরিদ্র বা ‘হতদরিদ্র’ জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, পরে ক্রমশঃ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেনির মানুষদের জন্য এই সুবিধা বাড়ানো হবে। মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সহায়তা প্রদান।

অধিক লাভজনক এ জন্য মুখ্য অভিনেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি এই প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করছেন। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ এই প্রকল্পকে একটি বড় রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে বিবেচনা করছেন। মূল চ্যালেঞ্জ হলো, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং দুর্নীতি ছাড়া মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রম কীভাবে দ্রুত ও সফলভাবে চালানো যায়। নির্বাচন সময়ের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নকে সাধারণ মানুষের জন্য এক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সরকার।

প্রাথমিক পর্যায়ের এই পাইলট প্রজেক্টের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে এটি সারাদেশে ব্যাপকভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সচিবালয়ে আজ এই বিষয়টি কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো ছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সরকারের জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনার একটি শক্তিশালী দিক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রমজানেই শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে নবগঠিত নির্বাচিত সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি এই রমজান মাসে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা দিয়েছিল, সেটিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আজকের সভায় এই কার্ডের কার্যকারিতা ও বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। সরকার চায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে এই প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনায় এই কার্যক্রমটি একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে দ্রুত শুরু করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই ফ্যামিলি কার্ড হবে একটি ‘সার্বজনীন’ ব্যবস্থা। অর্থাৎ, এর আওতায় সকলের জন্য মানা কিছু বাধ্যবাধকতা থাকছে না। তবে সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল বিতরণের জন্য সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই কমিটি একটি পর্যায়ক্রমিক রূপরেখা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে প্রথমে দেশের দরিদ্র বা ‘হতদরিদ্র’ জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, পরে ক্রমশঃ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেনির মানুষদের জন্য এই সুবিধা বাড়ানো হবে। মূল লক্ষ্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সহায়তা প্রদান।

অধিক লাভজনক এ জন্য মুখ্য অভিনেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি এই প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করছেন। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ এই প্রকল্পকে একটি বড় রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে বিবেচনা করছেন। মূল চ্যালেঞ্জ হলো, স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং দুর্নীতি ছাড়া মাঠ পর্যায়ে এই কার্যক্রম কীভাবে দ্রুত ও সফলভাবে চালানো যায়। নির্বাচন সময়ের সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নকে সাধারণ মানুষের জন্য এক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সরকার।

প্রাথমিক পর্যায়ের এই পাইলট প্রজেক্টের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে এটি সারাদেশে ব্যাপকভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সচিবালয়ে আজ এই বিষয়টি কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো ছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সরকারের জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনার একটি শক্তিশালী দিক।