পটুয়াখালীর নদীবেষ্টিত দুর্গম চরবিশ্বাস ইউনিয়নের সাধারণ পরিবারের সন্তান নুরুল হক নুর এবার জাতীয় পর্যায়ে নতুন দায়িত্বে শপথ গ্রহণ করে এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে জয়ী হয়ে তিনি সংসদ সদস্যও হয়েছেন। তার এই সাফল্য চরাঞ্চলের মানুষে গর্ব এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নুরুল হক নুর ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র আড়াই বছর বয়সে মাকে হারানোর পর বাবার মমতা ও পরিবারের সমর্থনে বড় হওয়া তার জীবন সহজ ছিল না — শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। শিক্ষা জীবন শুরু করেন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং পরে জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ায় জড়িত ছিলেন। এরপর মোটিভেশনের সহায়তায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে চলে গিয়ে ২০১০ সালে এসএসসি পাশ করেন এবং ২০১২ সালে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন নুর; সেখানে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়তার মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে পরিচিতি বাড়ে এবং ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হওয়ার পর ‘ভিপি নুর’ নামে তিনি দেশের আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে গণ অধিকার পরিষদে যুক্ত থেকে সংগঠনটির নেতৃত্বে কার্যত সক্রিয় রাজনীতিতে অভিমুখ পাল্টান এবং ২০২৩ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি নানান সময় হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও রাজনৈতিক পথে অনড় থাকেন।
ব্যক্তিগত জীবনে নুরুল হক নুর বিবাহিত; তাঁর স্ত্রী মারিয়া আক্তার একজন শিক্ষিকা। তাদের দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবার ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা সামলে তিনি জনকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
চরাঞ্চলের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় নেতৃত্বে পৌঁছানোর এই গল্পটি স্থানীয় মানুষ ও সমর্থকদের কাছে সততা, অধ্যবসায় ও সংগ্রামের ফল হিসেবে গণ্য হচ্ছে। দুর্গম চর থেকে উঠে আসা নুরের পথপ্রদর্শক জীবন তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























