০৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
তথ্যমন্ত্রী: তারেক রহমান সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নেতা প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি পুনর্গঠন ঈদের আগেই চালু হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একনেকসহ তিনটি মন্ত্রিসভা-সংক্রান্ত কমিটি পুনর্গঠন সরওয়ার আলম আবার রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টায় খিলগাঁও থেকে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার ঈদুল ফিতরের ট্রেনযাত্রা: ৩ মার্চ থেকে শুরু অগ্রিম টিকিট বিক্রি

৬৮ লাখ টাকার সেতু, সংযোগ সড়ক নেই — তিন-চার গ্রামের কৃষকের দুর্ভোগ

নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুরিয়া গ্রামের বিল-সংলগ্ন খালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণ করেছে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু কালভার্ট। প্রায় ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৬ টাকা ব্যয়ে কাজটি মেসার্স আব্দুর রউফ শেখ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করে; বাস্তবায়ন হয়েছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় তিন থেকে চারটি গ্রামের কৃষক এখন প্রায় চার বছর ধরে গভীর ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরাসরি现场ে গেলে দেখা যায়, মুসুরিয়া গ্রামের খালের ওপর দাঁড়ানো সেতুটি প্রায় ১৫ ফুট উঁচু। সেতুর উভয় পাশেই কোনো উঠানপথ বা স্পষ্ট সংযোগ সড়ক নেই। সেতু-সংলগ্ন একজন স্থানীয়, উজ্জল হাজরা, জানান, “সেতুটি তো বানানো আছে, কিন্তু আমাদের কাজে লাগে না—গরুর গাড়ি ওঠে না, মাথায় বোঝা নিয়ে উঠলে গাড়ি কাঁপে বা আটকে যায়। ফলে ধান-অন্যান্য ফসল আনা-নেওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, বিল ঘিরে থাকা গ্রামগুলোর কৃষকদের ভূমিতে যাওয়া, সারবীজ বা ধান বাড়ি আনা-নেওয়ার জন্য খালপেরিয়ে সেতুটিই একমাত্র সোজা পথ হওয়া উচিত ছিল। তবে সেতু মোকাবিলায় কোনো সংযোগরাস্তাই না থাকায় গরুর গাড়ি বা ছোট ট্রাকের জন্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধান তোলা, পরিবহন এবং সময়মতো বাজারজাতকরণে বড় রকমের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বয়স্ক কৃষক নিরঞ্জন গোপাল (৭৫) বলেন, “সেতু বানানোর আগে আমরা গরুর গাড়িতে করে সরাসরি বিলের ভেতর থেকে ধান ও অন্যান্য ফলন নিয়ে যেতাম। এখন সেতু থাকলেও দুই পাশে রাস্তা না থাকায় বহু কষ্ট হয়। বৃষ্টিগত সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এক সময় আমরা জরুরি ব্যবস্থায় সেতুর দুপাশে মাটি কেটে পথ বানিয়ে নিই—কিন্তু বৃষ্টিতে সব ধুয়ে গিয়ে যায়। ”

স্থানীয়দের দাবি, পাউবো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেতুটিকে ব্যবহারযোগ্য করার জন্য দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করবে, নয়তো চলতি ও আগামী ফসল সংগ্রহে তাদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল সেন বলেন, “এই সেতুটিকে আমার কার্যকালে নির্মাণ করা হয়নি।” তিনি বিস্তারিত জানেন না, তবে স্থানীয়ভাবে শুনেছেন ২০২১-২২ অর্থবছরে এ ধরনের কয়েকটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল।

কৃষকদের দুশ্চিন্তা ও জীবনযাত্রায় প্রভাব কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, পাউবো ও সংশ্লিষ্ট দফতর দ্রুত সংযোগ রাস্তা করে দেয়—এটাই তারা চাইছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ভারত সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

৬৮ লাখ টাকার সেতু, সংযোগ সড়ক নেই — তিন-চার গ্রামের কৃষকের দুর্ভোগ

প্রকাশিতঃ ১০:১০:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের মুসুরিয়া গ্রামের বিল-সংলগ্ন খালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২০২১-২২ অর্থবছরে নির্মাণ করেছে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু কালভার্ট। প্রায় ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৬ টাকা ব্যয়ে কাজটি মেসার্স আব্দুর রউফ শেখ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করে; বাস্তবায়ন হয়েছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় তিন থেকে চারটি গ্রামের কৃষক এখন প্রায় চার বছর ধরে গভীর ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরাসরি现场ে গেলে দেখা যায়, মুসুরিয়া গ্রামের খালের ওপর দাঁড়ানো সেতুটি প্রায় ১৫ ফুট উঁচু। সেতুর উভয় পাশেই কোনো উঠানপথ বা স্পষ্ট সংযোগ সড়ক নেই। সেতু-সংলগ্ন একজন স্থানীয়, উজ্জল হাজরা, জানান, “সেতুটি তো বানানো আছে, কিন্তু আমাদের কাজে লাগে না—গরুর গাড়ি ওঠে না, মাথায় বোঝা নিয়ে উঠলে গাড়ি কাঁপে বা আটকে যায়। ফলে ধান-অন্যান্য ফসল আনা-নেওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”

স্থানীয়রা বলছেন, বিল ঘিরে থাকা গ্রামগুলোর কৃষকদের ভূমিতে যাওয়া, সারবীজ বা ধান বাড়ি আনা-নেওয়ার জন্য খালপেরিয়ে সেতুটিই একমাত্র সোজা পথ হওয়া উচিত ছিল। তবে সেতু মোকাবিলায় কোনো সংযোগরাস্তাই না থাকায় গরুর গাড়ি বা ছোট ট্রাকের জন্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ধান তোলা, পরিবহন এবং সময়মতো বাজারজাতকরণে বড় রকমের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বয়স্ক কৃষক নিরঞ্জন গোপাল (৭৫) বলেন, “সেতু বানানোর আগে আমরা গরুর গাড়িতে করে সরাসরি বিলের ভেতর থেকে ধান ও অন্যান্য ফলন নিয়ে যেতাম। এখন সেতু থাকলেও দুই পাশে রাস্তা না থাকায় বহু কষ্ট হয়। বৃষ্টিগত সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এক সময় আমরা জরুরি ব্যবস্থায় সেতুর দুপাশে মাটি কেটে পথ বানিয়ে নিই—কিন্তু বৃষ্টিতে সব ধুয়ে গিয়ে যায়। ”

স্থানীয়দের দাবি, পাউবো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেতুটিকে ব্যবহারযোগ্য করার জন্য দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করবে, নয়তো চলতি ও আগামী ফসল সংগ্রহে তাদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল সেন বলেন, “এই সেতুটিকে আমার কার্যকালে নির্মাণ করা হয়নি।” তিনি বিস্তারিত জানেন না, তবে স্থানীয়ভাবে শুনেছেন ২০২১-২২ অর্থবছরে এ ধরনের কয়েকটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল।

কৃষকদের দুশ্চিন্তা ও জীবনযাত্রায় প্রভাব কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, পাউবো ও সংশ্লিষ্ট দফতর দ্রুত সংযোগ রাস্তা করে দেয়—এটাই তারা চাইছেন।