টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০৭ রানের বিশাল জয় ভারতের সেমিফাইনাল আশা একেবারে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের সেই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স কেবল এক ম্যাচের ফলই নয় — পুরো গ্রুপের গাণিতিক সমীকরণও উল্টেপেলে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচে হেরে থাকা সূর্যকুমার যাদবের দল আগে থেকেই চাপের মধ্যে ছিল; এখন নিট রানরেটের বড় ব্যবধানও ভারতের জন্য এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে শিমরন হেটমায়ারের ৩৪ বলে ঝলমলে ৮৫ রানের ইনিংস এবং অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে ২৫৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় এবং স্পিনার গুডাকেশ মোটির তোপে তারা সামলাতে না পেরে হারের মুখে পড়ে — অবশেষে ১০৭ রানে পরাজিত হয়। এই জয়ের ফলে কেবল পয়েন্ট তালিকায় নয়, নেট রানরেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুরত্বপূর্ণ শিখরে উঠে গেছে এবং সরাসরি ভারতের ভাগ্যের ওপর প্রভাব পড়েছে।
বর্তমানে ভারতের নেট রানরেট মাইনাস ৩.৮০০, যা টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে উদ্বেগজনক। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে ভারতের হাতে অবশিষ্ট প্রতিটি ম্যাচে কেবল জিতলেই হবে না — বড় ব্যবধানে জিততেই হবে। পরের ম্যাচে কলকাতা নয়, চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে; একই দিন আহমেদাবাদে গ্রুপের আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের ভাগ্য এখন অনেকটাই ওই ম্যাচটির ওপরও নির্ভরশীল।
গাণিতিক দিক থেকে ভারতের সামনে মূলত দুটি পথ খোলা আছে। এক পথে, যদি ভারত জিম্বাবুয়ে এবং পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ—উভয়ের বিরুদ্ধে জয় পায়, তবে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৪। এই অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকা যদি তাদের বাকি সব ম্যাচ জিতে ফেলে, তবে ভারতকে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চারে দেখা যেতে পারে।
আরেকটি জটিলতা ঘটবে যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেয়। তখন ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ—তিন দলেরই পয়েন্ট সমান হবে (৪ করে) এবং নেট রানরেটের দিকে তাকিয়েই শেষ চারে ওঠার দুই দল নির্ধারিত হবে। যেহেতু ভারতের রানরেট এখন অনেক নিচে, তাই জিম্বাবুয়ে ম্যাচে তাদের বড় ব্যবধানে জিততেই হবে — অন্যথায় তিন দলের টালমাটাল সমীকরণে ফায়দা পাওয়া কঠিন।
উল্টো দিকে, বাকি কোনো এক ম্যাচে হেরে গেলে ভারতের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা শক্তভাবে শঙ্কিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিরুদ্ধে পয়েন্ট হারানো হলে তা অপূরণীয় ক্ষতির মতো হবে। জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজিত হলে ভারতের কেবল নিজের কর্মজোরেই জয় পাওয়ার বিকল্প থাকে না; একই সঙ্গে তাদের নির্ভর করতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফলাফলের ওপর।
সব মিলিয়ে ভারতের সামনে এখন প্রতিটি ম্যাচই ঝুঁকিতে ভরা — প্রত্যেকটি যেন একটি করে ফাইনাল। দলকে নেগেটিভ নেট রানরেট কাটিয়ে উঠতে দুশ্চিন্তা নয়, পরিকল্পনা ও বড় ব্যবধানে জয়ের প্রয়োজন। আগামী দুই ম্যাচেই জিতলেই ভারতের আশা বাঁচবে; হারের কোনো খোঁজ রাখলে পথ ভারি কঠিন হয়ে যাবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























