১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

ইরান চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে

ইরান চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই খবরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছয়টি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনাগুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঠিক হয়নি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন এক সময়ে যখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে, যা আনেকের মনে করিয়ে দেয় যে, ইরান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রস্তুত।

ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ব্লু-ট্র্যাক টেকনোলজি ব্যবহার করে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরত্বে হামলা করতে সক্ষম। দ্রুত সুপারসনিক গতিতে আকাশে উড়ে খুব নিচু উচ্চতায় চলার সুযোগ রয়েছে, যা জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ত্র বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন হলে, ইরানের আঘাতের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং অঞ্চলজুড়ে সামরিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে। এটি যদি কার্যকরভাবে ইরানের জাহাজ ও সামরিক লক্ষ্যগুলিতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়, তবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হবে।

চুক্তির পেছনের ইতিহাস নিয়ে জানা গেছে, এটি অন্তত দুই বছর আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই চুক্তির অগ্রগতি দ্রুত হয়েছে। গ্রীষ্মের সময়ে, ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা চীন সফর করেন, যেখানে তাদের সঙ্গে আলোচনা আরও এগিয়েছে। ইরানের উপপ্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাসউদ ওরাইওও এই সফরSpe অংশ নিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে মোতায়েন করতে পারে, তবে সেটি পুরো পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হবে, যা ইরানের আক্রমণ ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দেবে।

অধিকারিক সূত্রের দাবি, এই চুক্তিতে কয়টি ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এর আর্থিক মূল্য কত হবে বা চীন শেষ পর্যন্ত তা কার্যকরভাবে সরবরাহ করবে কি না, এই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রয়টার্সের কাছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, “ইরানের মিত্রদের সঙ্গে আমাদের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং বর্তমানে সেই চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময়।”

চীনীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তারা বলেছে, বিষয়টি বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষা করছে। হোয়াইট হাউসও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

একটি মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি, তবে কঠোর পদক্ষেপ অস্বীকার করার উপায় নেই।” এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতির জন্য নতুন করে উত্তেজনার সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইরান চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে

প্রকাশিতঃ ০৬:০৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরান চীনের কাছ থেকে সুপারসনিক জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই খবরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছয়টি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনাগুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঠিক হয়নি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন এক সময়ে যখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে, যা আনেকের মনে করিয়ে দেয় যে, ইরান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রস্তুত।

ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ব্লু-ট্র্যাক টেকনোলজি ব্যবহার করে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরত্বে হামলা করতে সক্ষম। দ্রুত সুপারসনিক গতিতে আকাশে উড়ে খুব নিচু উচ্চতায় চলার সুযোগ রয়েছে, যা জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।

অস্ত্র বিষয়ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন হলে, ইরানের আঘাতের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং অঞ্চলজুড়ে সামরিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হবে। এটি যদি কার্যকরভাবে ইরানের জাহাজ ও সামরিক লক্ষ্যগুলিতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়, তবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হবে।

চুক্তির পেছনের ইতিহাস নিয়ে জানা গেছে, এটি অন্তত দুই বছর আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই চুক্তির অগ্রগতি দ্রুত হয়েছে। গ্রীষ্মের সময়ে, ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা চীন সফর করেন, যেখানে তাদের সঙ্গে আলোচনা আরও এগিয়েছে। ইরানের উপপ্রতিরক্ষা মন্ত্রী মাসউদ ওরাইওও এই সফরSpe অংশ নিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে মোতায়েন করতে পারে, তবে সেটি পুরো পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হবে, যা ইরানের আক্রমণ ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দেবে।

অধিকারিক সূত্রের দাবি, এই চুক্তিতে কয়টি ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে, এর আর্থিক মূল্য কত হবে বা চীন শেষ পর্যন্ত তা কার্যকরভাবে সরবরাহ করবে কি না, এই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রয়টার্সের কাছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, “ইরানের মিত্রদের সঙ্গে আমাদের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং বর্তমানে সেই চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময়।”

চীনীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তারা বলেছে, বিষয়টি বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষা করছে। হোয়াইট হাউসও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

একটি মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারি, তবে কঠোর পদক্ষেপ অস্বীকার করার উপায় নেই।” এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতির জন্য নতুন করে উত্তেজনার সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।