০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

বরিশালে বিএনপিপন্থি ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে হট্টগোল

বরিশালে আদালত বর্জন, এজলাসে ব্যাপক হট্টগোল এবং বিচারকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ২০ জন বিএনপিপন্থি আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই মামলার আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেন। মামলার প্রধান আসামি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মাদকের মামলা থেকে জামিনের শুনানি ও আদালত বর্জনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার জামিনের শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন আসামিরা। এর কিছুক্ষণ পর তারা অতর্কিতভাবে আদালতের এজলাসে প্রবেশ করে, শুনানিরত আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করতে বলে, এবং আদালতের নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেয়।

আসল ঘটনাটি ঘটে দুপুর আড়াইটার দিকে, যখন আসামিরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর এজলাসে প্রবেশ করে, আইনজীবীদের অবরোধ করতে শুরু করে এবং তাদের লক্ষ্য করে নানা ধরণের হুমকি-ধমকি দেয়। এরপর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন সবাইকে এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি এক পুলিশ সদস্যকে গলাধাক্কা দেন এবং অন্য একজন আইনজীবীকে এজলাস থেকে সরিয়ে দেন।

এ সময় এক আইনজীবী অত্যন্ত অশোভনভাবে বিচারককে নেমে যেতে নির্দেশ দেওয়ার জন্য ধাক্কার শিকার হন। আসামিরা আদালতের নিরাপত্তাকর্মী ও কোর্টের অন্যান্য কর্মচারীদেরও ধাক্কা দিয়ে এজলাস কক্ষ থেকে বের করে দেয়।

আরও উত্তেজনা বাড়তেই আইনজীবীরা আদালতের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তারা ডায়াস, মাইক্রোফোনসহ আদালতের বেঞ্চ, টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙে ফেলেন। এছাড়া গুরুত্বপুর্ণ কাগজপত্র, কজলিস্ট ও মামলা দায়েরের রেজিস্টার খাতাও ছিঁড়ে ফেলা হয়, যা বিচারিক কার্যক্রমে গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এসব ঘটনা ঘটার ফলে আদালত কার্যত অচল হয়ে যায়, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

বরিশালে বিএনপিপন্থি ২০ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা, আদালতে হট্টগোল

প্রকাশিতঃ ০৪:৪৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরিশালে আদালত বর্জন, এজলাসে ব্যাপক হট্টগোল এবং বিচারকদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে ২০ জন বিএনপিপন্থি আইনজীবীর বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই মামলার আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেন। মামলার প্রধান আসামি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মাদকের মামলা থেকে জামিনের শুনানি ও আদালত বর্জনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলার জামিনের শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন বরিশালের মুখ্য ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন আসামিরা। এর কিছুক্ষণ পর তারা অতর্কিতভাবে আদালতের এজলাসে প্রবেশ করে, শুনানিরত আইনজীবীদের কাজ বন্ধ করতে বলে, এবং আদালতের নিরাপত্তাকর্মীদের হুমকি দেয়।

আসল ঘটনাটি ঘটে দুপুর আড়াইটার দিকে, যখন আসামিরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তুল্লাহর এজলাসে প্রবেশ করে, আইনজীবীদের অবরোধ করতে শুরু করে এবং তাদের লক্ষ্য করে নানা ধরণের হুমকি-ধমকি দেয়। এরপর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন সবাইকে এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি এক পুলিশ সদস্যকে গলাধাক্কা দেন এবং অন্য একজন আইনজীবীকে এজলাস থেকে সরিয়ে দেন।

এ সময় এক আইনজীবী অত্যন্ত অশোভনভাবে বিচারককে নেমে যেতে নির্দেশ দেওয়ার জন্য ধাক্কার শিকার হন। আসামিরা আদালতের নিরাপত্তাকর্মী ও কোর্টের অন্যান্য কর্মচারীদেরও ধাক্কা দিয়ে এজলাস কক্ষ থেকে বের করে দেয়।

আরও উত্তেজনা বাড়তেই আইনজীবীরা আদালতের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। তারা ডায়াস, মাইক্রোফোনসহ আদালতের বেঞ্চ, টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙে ফেলেন। এছাড়া গুরুত্বপুর্ণ কাগজপত্র, কজলিস্ট ও মামলা দায়েরের রেজিস্টার খাতাও ছিঁড়ে ফেলা হয়, যা বিচারিক কার্যক্রমে গুরুতর বিঘ্ন সৃষ্টি করে। এসব ঘটনা ঘটার ফলে আদালত কার্যত অচল হয়ে যায়, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।