রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের অপকর্ম দ্রুত বন্ধ না হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে মাটি ও বালিকাটা বন্ধ করতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, তার নিজের দল, পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যেও মাদকের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তির নাম তিনি জানেন এবং এমন সব ব্যক্তিদেরও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যারা তাকে ফুল দিতে এসে থাকা রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাদক ব্যবসী যে হোক—কোনো ছাড় আমি দেবো না। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের অপকর্মের ন্যূনতম ফল আমি কাঁধে নিয়ে ভবিষ্যতে বহন করতে রাজি নই।”
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস সভাপতিত্ব করেন। সভায় জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাহিদুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্টের রাজবাড়ী জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম দুলাল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নিজাম শেখ, সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা সহ সরকারি দপ্তরের প্রধান, দলের ও বিভিন্ন সামাজিক‑সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকা রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও জনসাধারণকে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও সংস্কৃতি—সব ক্ষেত্রেই কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে চান এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘুষ ও দুর্নীতির বাইরে থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দৌলতদিয়া–পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ, পদ্মা ব্যারেজ, রাজবাড়ী জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে ওয়ার্কশপ, দৌলতদিয়ায় আধুনিক নৌবন্দরসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন বলে জানান।
পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু সেমিনার করা হয়েছে এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চারটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পরিকল্পনা তৈরি হয়ে প্রি-একনেক হিসেবে পাশ হয়েছে। আগামী ৮ তারিখ একনেকের সভা রয়েছে, যেখানে আশা রাখছেন দ্রুত এর অনুমোদন হবে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে এই অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হবে এবং গ্রামীণ এলাকার জীবনযাত্রার মান বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী গোয়ালন্দে পৌঁছলে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক‑সাংস্কৃতিক সংগঠন তার কুশলাদি নিবেদন করেন। সভায় শিক্ষকমণ্ডলী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নিয়ে এলাকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























