০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইন আয়কর দাখিল ৪০ লাখ ছাড়াল

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরে বড় সাফল্য ঘোষণা করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল করেছেন—এই তথ্য এনবিআরের বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ই-রিটার্ন দাখিল প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, যা এনবিআর মতে করদাতাদের আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

এনবিআর জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণি বাদে সমস্ত ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি—১০ লাখ ৪০ হাজার—রিটার্ন জমা হয়েছিল, আর ডিসেম্বরেই প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন। চলতি মাসের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তুলনায় গত বছর নির্ধারিত সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্নের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ফাইলকৃত রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ ও ১১ লাখ ৩৬ হাজার নারী করদাতা রয়েছেন। শ্রেণিভিত্তিকভাবে বেতনভোগীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাঁদের বেতনভিত্তিক আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাড়া থেকে আয় ও অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। করযোগ্য সীমার নীচে থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২২ লাখ নাগরিক সচেতনতার পরিচয় দিয়ে রিটার্ন দাখিল করেছেন, এবং প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সম্পদ ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।

অনলাইন দাখিল প্রক্রিয়ার প্রধান সুবিধা হলো সহজলভ্যতা ও দ্রুততা। করদাতারা কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে রিটার্ন পূরণ ও জমা দিতে পারেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া যায় এবং আয়কর সনদ প্রিন্ট করা সম্ভব। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও ই-মেইলের মাধ্যমে ওটিপি নিয়ে সহজে তাদের দায়বদ্ধতা সম্পন্ন করতে পারছেন। যদি দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল থাকে, তবে ১৮০ দিন পর্যন্ত সেটি সংশোধন করার সুবিধাও রয়েছে।

করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করতে এনবিআর প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্পডেস্ক খুলেছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু রেখেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সাহায্য ও সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। জরিমানা ও আইনগত জটিলতা এড়াতে এনবিআর সকল করদাতাকে অনুরোধ করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম সম্পন্ন করুন। প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের ফলে দেশের রাজস্ব আহরণ আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে—এমনটাই আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইন আয়কর দাখিল ৪০ লাখ ছাড়াল

প্রকাশিতঃ ০৩:২৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরে বড় সাফল্য ঘোষণা করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল করেছেন—এই তথ্য এনবিআরের বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ই-রিটার্ন দাখিল প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, যা এনবিআর মতে করদাতাদের আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

এনবিআর জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণি বাদে সমস্ত ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি—১০ লাখ ৪০ হাজার—রিটার্ন জমা হয়েছিল, আর ডিসেম্বরেই প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন। চলতি মাসের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তুলনায় গত বছর নির্ধারিত সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্নের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ফাইলকৃত রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ ও ১১ লাখ ৩৬ হাজার নারী করদাতা রয়েছেন। শ্রেণিভিত্তিকভাবে বেতনভোগীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাঁদের বেতনভিত্তিক আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাড়া থেকে আয় ও অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। করযোগ্য সীমার নীচে থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২২ লাখ নাগরিক সচেতনতার পরিচয় দিয়ে রিটার্ন দাখিল করেছেন, এবং প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সম্পদ ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।

অনলাইন দাখিল প্রক্রিয়ার প্রধান সুবিধা হলো সহজলভ্যতা ও দ্রুততা। করদাতারা কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে রিটার্ন পূরণ ও জমা দিতে পারেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া যায় এবং আয়কর সনদ প্রিন্ট করা সম্ভব। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও ই-মেইলের মাধ্যমে ওটিপি নিয়ে সহজে তাদের দায়বদ্ধতা সম্পন্ন করতে পারছেন। যদি দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল থাকে, তবে ১৮০ দিন পর্যন্ত সেটি সংশোধন করার সুবিধাও রয়েছে।

করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করতে এনবিআর প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্পডেস্ক খুলেছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু রেখেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সাহায্য ও সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। জরিমানা ও আইনগত জটিলতা এড়াতে এনবিআর সকল করদাতাকে অনুরোধ করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম সম্পন্ন করুন। প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের ফলে দেশের রাজস্ব আহরণ আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে—এমনটাই আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।